আবু মুস্তাফিজ আকা শাপলুর কথাবার্তার স্টাইল এমনই। আমার ইন্টারেস্ট অবশ্যই শাপলু না, হুমায়ুন ভাই। ভদ্রলোক অতি সহজ-সরল এক জীবনদর্শন নিয়া চলেন। নট নেসেসারিলি সেইটা সবাই অ্যাপ্রিসিয়েট করে। বরং অতি সরল বইলাই তাতে অস্বাভাবিকত্ব খুইজা পায়। ওনার খুব স্বাভাবিক কথাবার্তাও তাই জটিল বিনোদন জাগানিয়া। আমোদ দেয়। গতকাল উনি ব্লাডসুগার টেস্ট রিপোর্ট হাতে পাইছেন। ওইটাও স্বাভাবিক মাত্রায়। তাই ফুর্তিতে বাঁচেন না অবস্থা। ক্যানো ওজন হারাইতাছিলেন তা নিয়া দুশ্চিন্তায় ছিলেন বড়।
অনেক গল্প আছে হুমায়ুন ভাইয়ের। ভোরের কাগজ সংশ্লিষ্ট যে কেউই তার একটা না একটা শুনছে। আমি সংশ্লিষ্ট না হইয়াও অগুণতি শুনছি। সুবাদেই আগ্রহের ভিত্তিটা আগে থেকেই তৈরি। তো শাপলুর আরেক বন্ধু নোবেল (তারে ওরা টিচার এবং চিটার কইয়াও ডাকে) নিয়া বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের অফিশিয়াল বারের দিকে পা বাড়াই যীশু খৃস্টানের স্বাস্থ্য পান করতে। আইজকা বড়দিন। মদ খাওয়ার জব্বর উছিলা।
হুমায়ুন ভাইরে এখন ভড়কাইতে হইব। আমি কইলাম- সবই ঠিকাছে, তয় এইচআইভি টেস্টটা করাই লইলেই ভালো। ওইটা নেগেটিভ আইলে মনে করবেন নিশ্চিন্ত। কারণ এই যে ওজন হারাইতাছেন' প্রতিবাদ আসে- প্রশ্নই আসে না। আমি এই একটা ব্যাপারে যথেষ্টই সচেতন। ভিয়েতনাম সফরে গিয়া সুযোগ পাইছিলাম। মাইয়ারে চুমা পর্যন্ত দিই নাই।' জবাব দিলাম- সামনে বসাইয়া খেচলেই যে এইডস হইব না এই কথা কইছে ক্যাডা আপনেরে?' তারপর তারে অনেক আগে পড়া কাউন্টার কারেন্ট ফিডব্যাক মেকানিজম বুঝাইলাম। ভিডি এবং এসটিডি যে পাবলিক প্লেসে দাঁড়াইয়া মুতলেও হইতে পারে এই হাইপোথেসিসটা খুব সিরিয়াস মুখভঙ্গী নিয়া তার উদ্বিগ্ন চিত্তে ঢুকাইয়া দিলাম। যদিও আর্গুমেন্ট চলল, উনি নিশ্চিত উনার এইডস নাই। তারপরও পরীক্ষা করাটা জরুরী। শেষ পর্যন্ত ঠিক হইল বিয়ার আগে উনি সব টেস্ট করাইয়া পাত্রীপক্ষে পেশ করবেন। উনাদেরও একই কাজ করতে হবে। একমাত্র তারপরই ডিল। নাইলে নো ডিল।
তারপর যথারীতি আমার রংবাজী নিয়া ফাকাফাকি। হ্যান-ত্যান-ফ্যান, বহুত বাল ছিড়া আটি বানছি গল্প। চোখ পড়ল এক টেবিল পরে- ওই টিভির সাউন্ডটা বাড়ান তো। নাসির ভাই। আমাদের কালে চিটাগাং মেডিক্যালে ছাত্রলীগের একমাত্র চিটাগাইঙ্গা প্রেসিডেন্ট। রুমে ফিরতাছি। মাত্র ঢুকছি। খালাতো ভাই মনোয়ার সিপিবি করেন, আমারে তুইলা দিছেন ইউনিয়নের সিটে। হারমনিয়াম-তবলা পার্টি। বড়ই বিপাকে আছি। তো ফাঁকা লবিতে নাসির ভাই বসা একটা টেবিলে। ডাক দিলেন-এই শোনো।' আমি ফিল্টারলেস স্টারটা পায়ে বুজাইয়া সামনে গিয়া খাড়াই অতি তমিজে। 'জ্বি, বলেন।' 'নাম কী? কোন রুমে থাকো।' বললাম। উনার একটা স্পেশাল হাসি আছে। সেইটা যে দেখে নাই সে ফিল করতে পারবেনা। দিয়া বললেন, ছাত্র ইউনিয়নের ছেলেরা তো এইভাবে হাটে না। তোমার হাটার স্টাইলটা আমার খুব ইরিটেটিং লাগতাছে।' জবাব দিলাম- এখন আমি হাটা চেঞ্জ করুম ক্যামনে! সব সময় তো এইভাবেই হাঁটি।' বললেন, 'হাটা চেঞ্জের দরকার নাই, রুম চেঞ্জ করো। টুয়েলভ-এ তে আরিফরা থাকে। তুমি তো আরিফের সঙ্গেই থাকো সবসময়, ওইখানে উঠো। যদিও চারজন ফার্স্ট ইয়ার আছে ওইখানে। তুমি রুমমেট চুজ করো, আমি ব্যবস্থা করতাছি।' তব্দা খাইয়া গেলাম। জটিল তো! 'তুমি তো ক্যাম্পাসের বেয়াদবদের একজন। ছাত্রলীগের হইয়া বেয়াদবী করো সমস্যা নাই। নাইলে সমস্যা আছে।' তখন আমি প্যান্টে মুতি অবস্থা। যাক উনার কথাই ফললো অনেক কান্নাকাটির পর। ইউনিয়ন আমারে ছাড়তে চায় নাই। মনোয়ার ভাই ডাকাইয়া কড়া ঝাড়ি দিছে। ঢাকা থেকে ফোন আসছে, 'কিরে তুই নাকি পলিটিক্সে ঢুকছস? তোরে পড়তে পাঠাইছি না এইসব করতে?' আমি কই 'না আম্মা, ঘটনা তা না।' এরপর নাসির ভাইর আমি প্রিয় ছোট ভাইদের একজন। উনার মেশিন আমি ক্যারি করি। '৮৯তে উনি বের হইয়া যাওয়ার পর আর দেখা নাই। যোগাযোগ ও করি নাই।
বিল চুকাইলাম। হিজ হুজ। যামু গা। নাসির ভাইরে দেইখা কথা কওয়ারও সাধ হইতাছে। এখন মদের টেবিলে গিয়া বড় ভাইরে সালাম দেওয়ার আইডিয়াটা কতখানি স্বাস্থ্যকর, তাই নিয়া ভাবতাছি। ঝুকিটা নিলাম। এক কথার পর দুই কথা কইতে হয় নাই। আরে তুই। বয়। কতদিন পর পাইছি তোরে। ওনার লগে আরো দুই অচিন পাবলিক। আমি কই 'না বস, আপনে আড্ডা মারেন।' 'তোরে বইতি কইছি তুই বয়-ভিন্টেজ নাসির ভাই। এরপর কথা চলে না। 'তোগো প্রথম আলো তো দারুণ বাঁশ ডলা দিলো আওয়ামী লিগরে।' জানাইলাম আমি প্রথম আলো তে নাই। যায়যায়দিন হইয়া এখন শাহবাগ আছি। 'রিয়্যাকশন কী সেইটা ক।' কইলাম- প্রতিক্রিয়া তীব্র। পার্টি প্রতিক্রিয়াশীল হইছে। মুজিবের পার্টি করছি, হাসিনারটা করি না।' 'ক্যান করছে বইলা তোর মনে হয়?' 'ভোটে জিততে, আবার কী!' হঠাৎই নাজিল হইল সেইসব কথা যার উত্তর আমি খুজতেছিলাম। 'একটা কারণ হইতে পারে ইলেকশন ডক্টরিংয়ের সম্ভাবনা দেইখা আওয়ামী লিগ দিশাহারা। আমি আওয়ামী লিগের ১০৫টা সিট খুব কষ্ট কইরা বাইর করছিলাম। সেইটা এখন ষাইটের ঘরে। টাইনা টুইনা ৬৫। সো হাসিনা সাম্প্রদায়িক শক্তির লগে গাটছড়া বানছে, কিন্তু প্রতিষ্ঠিত স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে না। চুক্তি একটা করছে বটে, সেইটা মানতেই হইব এমন কথা নাই। ইলেকশন জিতলে পল্টিবাজি সবাই করে। বিএনপি তো চুক্তি না কইরাই এইসব বাস্তবায়ন করছে। সরকারের পুলিশ নিজের হাতে সাইনবোর্ড টাঙ্গায়- এইটা কাদিয়ানীদের উপাসনালয়, মুসলমানরা ঢুকবেন না। আর খেলাফত মজলিশের হাতে দেশের সিংহভাগ মাদ্রাসা ও মসজিদ। জুম্মার নামাজে ইমাম সাহেব মুনাজাতে এমন লাইন ঢুকান যেইটা আমার মনোপুত না, কিংবা আমার চেতনার বিরোধী; আমি তো হাত নামাইয়া ফেলি না। মনে মনে কইনা যে আল্লাহ এইডা আমার কথা না, ইমাম কইছে। বরং আমিন আমিন করি। সো আওয়ামী লিগের ভোট যদি মোট ভোটারের ৩২-৩৬% হয়, তাইলে খেলাফত মজলিশ তাতে আরো ১০% যোগ করছে। বর্তমান রাজনৈতিক আবহাওয়ায় এইটারে আমি ভুল চাল মনে করতাছি না। বরং হাসিনা অ্যাভয়েডেড দ্য ওর্স্ট ডেভিল অ্যান্ড চোজ দ্য বেটার।' একদমে কইলাম। কইয়া ভাবতাছি কি কইলাম। আমি কইলাম না আর কেউ কইল! যীশু তার স্বাস্থ্য পানে খুশী হইল না কি!
'সবাই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কয়, তুই ডক্টরিং কইছস। মজাই লাগল। তুই শিউর ১০% ভোট খেলাফতের আছে?'
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


