somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধাপকি...!

১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৪:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রবিন আর নাঈম। মেডিকেলে আমার যথাক্রম জুনিয়র। ডাইলের সুবাদে তাদের অসাধারণ জুটি তৈরি হইছিল একটা। বিচিত্র সব কাণ্ডকীর্তি দুই পাগলের। সেয়ানা পাগল যদিও। একবার সিঙ্গাপুর মার্কেট থাইকা তারা একজোড়া ওয়াকিটকি নিয়া আসছে। তারপর দেখা যায় একজন রুমের বাইরে গিয়া ভিতরের জনের লগে কথা কয়- হ্যালো... ওভার... ওভার। সন্ধ্যার সময় একদিন নাঈমরে দেখি কালা চশমা আর জ্যাকেট পিন্দা ওয়াকিটকি নিয়া দাঁড়াইয়া আছে এক ফলের দোকানের সামনে। ধুমা তোলা গরমে জ্যাকেট। রবিনরে খুঁজতে গিয়া দেখি সে গেইটের ওইপারে। নির্দেশ দিতাছে। চা খাইয়া আসার পথে দেখি বিশাল জটলা। নাঈমরে বাইন্ধা পুলিশে দেওয়ার উদ্যোগ নিছে দোকানদাররা। কাহিনী জটিল। সে দোকান থেইকা গোল্ডলিফ নিছে চাইরটা। দাম না দিয়া যাইতাছিল গা, দোকানদার ঠ্যাকাইছে পরে কয়- সে পুলিশের সার্জেন্ট। ছুটাইয়া লইয়া'ইলাম।

অফুরাণ কীর্তির মাঝে একদিন জুনিয়ররা বিলা হইল খুব। আমরা থাইকাও নাই অবস্থা। ব্যাচ বাইর হইয়া গ্যাছে ৪ বছর আগে। ক্যাম্পাস তাগো হাতে। তয় আমাগো কথা শোনে। ঘাটায়োনা। ক্যামনে কি! ফয়সাল নামে ছোটভাই কইল নাঈম তার বড় ভাইর কাছে ওর নামে ভাঙানি দিছে। চুকলিবাজি। এখন ওরা ওরে শাস্তি দিব। কইলাম- ঠিকাছে। তয় মাইরধোর চলব না। জুনিয়রের হাতে সিনিয়র নিগ্রহে আমার চিরকালই অরুচি। যদিও আইডিয়াটা খুব খারাপ না ক্যাম্পাস রাজনীতিতে। ছোটভাই দিয়া ইনসাল্ট করাইয়া 'করস কি করস কি' বইলা দৌড়াইয়া যাওয়াটা বড় ভাইরা অহরহ করতেন। আমার নাপসন্দ।

তারপরো ক্যাম্পাসে থাকা অবস্থায় এমন কিছু আমার গোচরে আনা হবে, হস্তক্ষেপও চাওয়া হবে ভাইবা গেলামগা এক বন্ধুর ওইখানে। সন্ধ্যায় ঘুরলাম, পিনিক লইলাম, মুভ্যি দ্যাখলাম। ভাত খাইয়া রুমে। হঠাৎ শুনি খুব চিল্লাচিল্লি। ভাঙচুরের আওয়াজ। নাঈমরে পিক অ্যান্ড পেইন্ট করার কথা ক্যাম্পাসে, হোস্টেলে না। বাইর হইয়া দ্যাখি রবিন একটা গ্লাস আছাড় মারলো। 'সব চুদির ভাইরে আইজকা ব্রাশ কইরা মাইরালামু। এত্ত বড় সাহস। নাঈমের গায়ে হাত, নাঈমের গায়ে'- কইয়া দিল এক দৌড় ক্যাম্পাসের দিকে। ভোদাইর মতো তাকাইয়া আছি। করণীয় ভাবতাছি। এইটা তো বড় ক্যাচাল হইয়া গ্যাল। এট্টু পর রবিন-নাঈমের রুমমেট টুটুল আইল দৌড়াইয়া। 'দোস্, পাগল থামা।' জিগাই-
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৪:৪২
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তালেবান ঢাকায়, রাষ্ট্র ঘুমায়

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩২

জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে অনেক কিছু নতুন হইছে। নতুন সরকার, নতুন মুখ, নতুন বুলি। কিন্তু একটা জিনিস খুব চুপচাপ, খুব সাবধানে নতুন হইতেছে, যেইটা নিয়া কেউ গলা ফাটাইতেছে না। তালেবানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×