somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে তাকে নিয়ে বিতর্কের অবসান হোক

১৭ ই মার্চ, ২০১১ দুপুর ১২:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন। একজন মানুষ যার জীবনের সবচেয়ে বড় অংশটাই কেটেছে বাঙালি মুক্তিসংগ্রামে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের রূপকার এই মানুষকে আমরা বিভিন্ন সময় কত ভাবেই না নিচে নামিয়েছি। আজ স্বাধীন বাংলাদেশে রাজাকাররা তাদের গাড়ীতে জাতীয় পতাকা লাগিয়ে ঘুরে আর এই মানুষকে নিয়ে এমন কিছু মানুষ সমালোচনা করে যাদের সেটা করার অধীকারই নেই।
বাঙ্গালির পাকিস্তান বিরোধি আন্দোলনের পুরোভাগে ছিলেন। যার নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন গড়ে উঠেছিল প্রায়শই আমরা তাকে মূল্যায়ন করতে চাই তিনি স্বাধীনতা ঘোষনা করেছিলেন কিনা এই বক্তব্য দিয়ে। আওয়ামি বিরোধিরা প্রমাণ করতে চায় তিনি স্বাধীনতা ঘোষনা করেন নি, আর আওয়ামিলীগ চায় এটা প্রমাণ করতে যে তিনি ছাড়া আর কেউ স্বাধীনতা ঘোষনা করেন নি, ভাবখানা এমন যে স্বাধীনতার ঘোষনা পত্রটিই বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিয়ে এসেছে। তাহলে ৬০ এর দশকের যে আন্দোলন তার কি কোন মূল্য নেই? ৭০ এ মানুষ যে তাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আওয়ামিলীগকে গণ রায় দিল তার কি কোন তৎপর্য নেই?
ঐ সময় বঙ্গবন্ধুর মত একজন বলিষ্ঠ নেতার প্রয়োজনীয়তা কি কেউ অস্বীকার করতে পারবে? আমি মনে করি আমরা বাংলাদেশীরা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে আমাদের সবচেয়ে প্রয়োজনের সময় ইতিহাসের একটা ক্রান্তিলগ্নে তার মত একজন নেতা পেয়েছিলাম। অবশ্য তার সহযোগী নেতৃবৃন্দের কথাও আমাদের ভুলে গেলে চলবে না।
স্বাধীনতার পর তার বিশেষ করে তার দলের বিভিন্ন কুর্মকান্ড প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে ঠিক কিন্তু অনেক সময় আমরা এর পুরো দায়ভার তার কাঁধে চাপানোর চেষ্টা করি। কিন্তু ঐ সময়ের বিভিন্ন সভা সমিতিতে তার বক্তব্য শুনলে বুঝা যায় অনেক যায়গায় তিনি চেষ্টা করেও কিছু করতে পারেন নি। হ্যা তিনি ভুল করেছিলেন। তিনি ভুল করেছিলেন মানুষ চিনতে। প্রকৃত বন্ধু খুঁজে নিতে পারেন নি তিনি। যার জন্য পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মূল্য মনে হয় তিনিই দিয়েছেন। পাকিস্তানীরা পারেনি কিন্তু তার স্বপ্নের স্বাধীন দেশে নিজ দেশের সেনাবাহিনীর হাতে তাকে স্বপরিবারে প্রাণ দিতে হয়েছে।
আমার সবসময় মনে হয় এই মানুষটাকে নিয়ে আমরা সবসময় বাড়াবাড়ি করেছি।তার বিরোধীগোষ্ঠি বলুন বা তার নিজের গড়া দল আওয়ামিলীগ সবাই তাকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করেছে । কেউ তাকে একেবারে তলানীতে নামিয়ে দিতে চেয়েছে কেউ বা হয়তো নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্যই তাকে যাচ্ছেতাই ভাবে ব্যবহার করেছে। অনেক ক্ষেত্রে তার নামের যথেচ্ছ ব্যবহার অনেকের বিরক্তির কারণ হয়েছে। আমরা কি পারি না তাকে তার প্রাপ্য সম্মন দিয়ে দলমত নির্বিশেষে বিতর্কের ঊর্ধে রাখতে?
১৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বইমেলার কবিতার বই: পাঁচ বছরে বাজারে এসেছে প্রায় ছয় হাজার, মান নিয়ে বিতর্ক

লিখেছেন এম ডি মুসা, ০৩ রা মার্চ, ২০২৪ সকাল ১১:৫২

তবে কবিতার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গবেষণারাও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বায়তুল্লাহ কাদেরী বলেন,হ্যাঁ, কবিতার মান ঠিক নেই। কিন্তু এখন মান দেখার তো লোক নেই। যার যেমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোরআনের যে দ্বন্দ্বগুলোর সমাধান নেই।

লিখেছেন কবি হাফেজ আহমেদ, ০৩ রা মার্চ, ২০২৪ দুপুর ১২:০১

এসবের উত্তরে গোজামিল দিয়েছেন খোদ খলিফা আলী নিজে।


কোরআনের সূরা আল-নিসার ১১-১২ নাম্বার আয়াত অনুসারে কেনো সম্পত্তির সুষ্ঠু বন্টন করা সম্ভব হয় না? [যখন একজন ব্যাক্তি শুধুমাত্র ৩ বা ততোধিক কন্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পবিত্র মাহে রমজানের প্রস্তুতি -ঈষৎ সংশোধিত পুনঃপোস্ট

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৩ রা মার্চ, ২০২৪ দুপুর ১২:৫৩

পবিত্র মাহে রমজানের প্রস্তুতি

ছবিঃ অন্তর্জাল হতে সংগৃহিত।

প্রাককথনঃ

দেখতে দেখতে পবিত্র মাহে রমজান-২০২৪ আমাদের দোড়গোড়ায় এসে উপস্থিত। রমজান, মুমিনের জীবনের শ্রেষ্ঠতম আনন্দের ক্ষণ, অফুরন্ত প্রাপ্তির মাস, অকল্পনীয় রহমতলাভের নৈস্বর্গিক মুহূর্তরাজি। রমজান... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাপ-মেয়ের দ্বৈরথ

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৩ রা মার্চ, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:৫৩


আমার দাদির ঝগড়াঝাঁটির স্বভাব কিংবদন্তিতুল্য ছিল। মা-চাচীদের কাছ থেকে শোনা কষ্ট করে রান্নাবান্না করলেও তারা নাকি নিজে থেকে কখনও মাছ-মাংস পাতে তুলে খেতে পারতেন না। দাদি বেছে বেছে দিতেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৃষ্টি খাতুনই অভিশ্রুতি, এনআইডিতে নাম সংশোধনের আবেদন করেছিল। ধর্মান্তরিত হওয়ার পিছনে দায়ী কে?

লিখেছেন এম ডি মুসা, ০৩ রা মার্চ, ২০২৪ রাত ৮:৩৩





বেইলি রোডের সেইদিনের অগ্নিকাণ্ডে নিহত অভিশ্রুতি শাস্ত্রীর প্রকৃত নাম বৃষ্টি খাতুন। অভিশ্রুতি ও বৃষ্টি খাতুন নামে দুইজন একই ব্যক্তি বলে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ সূত্রে নিশ্চিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×