somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রেম একবার এসেছিল নীরবে...........

২৮ শে আগস্ট, ২০১১ দুপুর ১:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(সবাই ঈদ সংখ্যা বের করে,তাই আমারও এবারের ঈদ সংখ্যা ব্লগ। তাড়াহুড়ায় লেখা,তাই পুরোপুরি জাতে উঠতে পারেনি।সেকারনে আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি পড়ার কষ্ট দেয়ার জন্য!)


নীলাকে আমি ভুলতে পারিনি আজও।মাঝে মাঝে অলস দুপুরে,চারিদিক যখন সুনসান হয়,-একাকীত্বের বেড়াজালে নিজেকে জড়িয়ে নিয়ে ভাবতে বসি তাকে।ধুলোপড়া বাক্সে ফুঁ দিয়ে আস্তে করে ডালা মেলি।ভেতর থেকে বের করে আনি অনেকদিনের পুরোনো,বিবর্নপ্রায় নীলাকে।হাত দিয়ে নেড়েচেড়ে দেখি ।বুকে কান পেতে শুনি তার হাসির জলপ্রপাত!আহ!কতদিন!ক-ত-দি-ন!!

অসহ্য রকমের একটা হাসি ছিল নীলার।একবার শুরু হলে আর থামতেই চাইত না ।মুন্নি প্রায়ই বলত,"নীলা'পু,তোমার কপালে দুঃখ আছে।এত হাসি ভাল না!"কিন্তু দুঃখের কথা ভাবার সময় কই নীলার!সে তখন স্বপ্নের ডানায় মেলে উড়ে চলেছে মুক্তোঝরা হাসি ছড়াতে ছড়াতে।

নীলা বোঝে না।নীলা বোকা।তাই এলোমেলো চলতে চলতে সে ভালোবেসে ফেলে এক কবিকে।(কবিকে কি ভালোবাসতে আছে?)এক ছন্নছাড়া!খামার বাড়িতে কি এক চাকুরী যেন ছেলেটির,তাও না করলেই নয় বলে করা।কিন্তু তার আসল কাজ হল কাব্য লেখা।আকাশে উড়ে যাওয়া গোলাপী মেঘ নিয়ে,শান্ত পুকুরের জলে পড়া শিশির বিন্দু নিয়ে,কিংবা বৃষ্টি ভেজা নীলার শরীর থেকে ঝরে পড়া এক একেকটা ফোঁটা নিয়ে তার কাব্য!প্রথম কবিতার বই সে উৎসর্গ করল নীলাকে।প্রথম কবিতার শেষ লাইন-"নীলা-তোমার বুকে।"তারপরই হারানোর শুরু দু'জনের।

নীলা হারিয়ে যায় শামসের চোখে।কিন্তু মুখে প্রকাশ করে না।একদিন কি এক ছুঁতোয় আলত হাত ছুঁয়ে যায় শামস।হয়ত ভালোবাসার স্পর্শ ছিল তাতে।কিন্তু পাগলী নীলা না বুঝেই রাগ করে উঠে পড়ে ঝটকা!তারপর সোজা হেঁটে রিক্সা নিয়ে বলে,"যাচ্ছি!"এরপর কত ফোন,কত অনুনয়!রাগের ফানুস এক ফুঁতেই ঠুস!!

শামস চিঠি লিখে আকাশের ঠিকানায়!চিঠি নয়,যেন এক একটি গল্প।কোথায় কোন গ্রামে নীলাকে ভাবতে বসে বিমুঢ় হয়ে যাওয়া।মেঠো রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিশাল কমলা চাঁদকে সূর্য ভেবে ভুল করে পূর্ব পশ্চিম গুলিয়ে ফেলা!মনে মনে নীলার বাসার সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়া,জূতোর ফিতে বাঁধার ছূতোয় একপলক ব্যাল্কনিতে উঁকি দেয়া!আর কত কি!!

একদিন হঠাৎ শামস জিজ্ঞেস করে,"আমার বাড়ী যাবে?"
শামসের বাড়ী শেরপুর।গাড়ো পাহাড়ের কাছে।শালবনের রাস্তাটা বড় প্রিয় নীলার।ওই রাস্তা ধরে সে যে কোন জায়গায় যেতে রাজী।

"আমাকে নেবে?"কি ভেবে আবার জিজ্ঞেস করে,"কিন্তু আমাকে নিয়ে গিয়ে তোমার বাবা-মা কে কি বলবে?"

শামস দুষ্টু হেসে বল,"বলব আমার হতে পারত বউ!"

জন্মদিনে নীলা শামসের পছন্দের শাড়ি পড়ে।শামসের ফরমায়েশ মত কপালের দুই ভ্রুর মাঝে আঁকে গোল বড় টিপ।সুগন্ধি বেলফুলের মালা খোঁপায় জড়িয়ে নিয়ে অপেক্ষা করে শামসের।বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়।বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের নিচতলায় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে পা ব্যাথা,চোখ ছলছল।ঠিক সন্ধ্যার মুখে শামস কে গেট দিয়ে ঢুকতে দেখে অভিমানে গাল ফোলায় নীলা।

"এই তোমার আসা হল?এখুনি তো সন্ধ্যা নামবে!আমি যে তোমার জন্য সেজেগুজে এলাম,তুমি দেখবে কি করে বলো?"

শামস কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে ফিস ফিস করে বলে,"চোখের আলোয় দেখেছিলাম চোখের বাহিরে,অন্তরে আজ দেখব যখন আলোক নাহিরে!!"

মুহুর্তগুলো যেন প্রজাপতির ডানায় মেলে উড়ছিল।দু'জনের চোখেই রঙ্গীন চশমা।কড়া রোদকেও তখন ভীষন ভাল লাগে!আর বৃষ্টি!সে তো ঐশ্বরীয়!!

নীলার একটা পথ আছে।এম.পি. হোস্টেলের পেছনে,সংসদ লাগোয়া ছোট্ট এক টুকরো রাস্তা।কড়া রোদেও আলো আঁধারে ঘেরা থাকে রাস্তাটা।পথের ওপর সারা বছরই পড়ে থাকে ঝরা পাতা।সেই ঝরা পাতা মাড়িয়ে মাড়িয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে নীলা হারিয়ে যায় কোন স্বপ্নের দেশে!একবার এদিক থেকে ওদিক,আবার ওদিক থেকে এদিক,এভাবে হাঁটতে হাঁটতে ছোট্ট রাস্তাটার পথ যেন আর ফুরোয় না!

"একদিন খুব বৃষ্টি হবে,সেদিন তুমি আর আমি সেই রাস্তায় তুমুল ভিজব!"

শামস অপেক্ষা করে আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নামার।নীলাও।কিন্তু সেই অপেক্ষার শেষ আর হয়ে ওঠে না।তার আগেই হারিয়ে যায় শামস!কেন,কে জানে?কি এক অজানা অভিমান বুকে নিয়ে অজান্তেই নিজেকে সরিয়ে নেয় নীলার জীবন থেকে।একেবারে নিঃশব্দে!অভিমানে নীলাও মুখ ফিরিয়ে রাখে।ফোন করে খুঁজেও দেখে না সে কোথায় আছে!ব্যস্ত সময় নীলাকে সরিয়ে রাখে শামসের কাছ থেকে।নতুন শহর,নতুন মানুষ!একেবারেই হারিয়ে যায় দু'জন।

পুরোপুরি হারিয়ে ফেলার পরই নীলা বুঝতে পারে,ভালোবাসা কারে কয়!কখন নীরবে,নিভৃতে এক স্বর্গীয় প্রেম এসে হৃদয়ে বাসা বেঁধেছিল,নীলা বুঝতেও পারেনি।আর তাই তো তার প্রকাশ ঘটেনি কখনো। সেই ভালোবাসার কুঁড়ি কখন ফুল হয়ে ফুটে ঝরে গেছে নীলা আজো জানে না।সে শুধু ঝরা পাতাগুলোকে কুড়িয়ে নিয়ে বাক্সবন্দি করে রাখে।শুকিয়ে যাওয়া পাতাগুলো থেকে আজো ভালোবাসার অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়,পাওয়া যায় তার সুরভী।

নীলা মনে মনে খুজে ফেরে তাকে।সেই পাবলিক লাইব্রেরী,সেই টি এস সি এর মোড়।সেই নাম না জানা গাছটির ছায়ায় আজো খুজে ফেরে হারিয়ে যাওয়া মুখ।

বইমেলায় গেলে খুব কাছ থেকে দেখে কবিদের মুখ।কাউকে কি চেনা মনে হয়?খোঁচা খোঁচা দাড়ি,ফরসা ছেলেটাকে দেখে চমকে যায়,কাছে গিয়ে ভুল ভাঙ্গে।না, সে নয়,অন্য কেউ!

প্রতিদিন একবার হলেও নীলা খুঁজে ফেরে সেই চেনা মুখ।একবার যদি তার দেখা পেত!হাত ধরে নিয়ে যেত তার সেই প্রিয় পথটিতে।বলত,"এই নাও,আজ থেকে তোমায় দিলাম।"

হায়!যে হারায়,সে কি আর ফেরে?হারানো মানুষ ফিরে আসে,কিন্তু যে নিজেই হারায়?তাকে যে বলা হল না,নীলার ভালোবাসার কথা।সে যে ভুল বুঝে চলে গেল!সে কোনোদিনো জানল না,কে এক নারী আজো তার কথা ভেবে আড়ালে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।হায়!এত সহজেই চলে যেতে শিখেছে মানুষ!

পড়ন্ত বিকেলে বন্ধ হয় স্মৃতির জানালা।সব পাখি ঘরে ফিরে!ফুরায় এ জীবনের সব লেনদেন।বাক্সবন্দী হয় নীলার জীর্নপ্রায় অস্তিত্ব!

আর আমিও ফিরি আমার ঘর গেরস্থালীর কাজে।নীলা থেকে নীলাদ্রি হক!


সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০১১ দুপুর ১:৪০
৭টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×