
ছোট কালের কথা মনে পড়ে গেল। আগে পুজোর ছুটি পেলে খুব খুশি হতাম। স্কুল একটানা প্রায় সাত থেকে দশদিন বন্ধ থাকতো। আমরা কয়েকজন একত্র হয়ে দল ধরে গ্রামের পুজো দেখে বেড়াতাম। আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল নরেন্দ্রনাথ সরকার। আমাদের সাথে আরো যোগ হতো পরিতোষ, ভবেশ, অলোক কুমার, নুরুল, মোজাম্মেল, কালু মিয়া। হিন্দু মুসলমান হলেও আমাদের মধ্যে কোন মানসিক দূরত্ব ছিল না। এই কয়জন পুজোর কয়দিন এক সাথেই থাকতাম। সারা রাত ঘুরাঘুৃরি করে ঘুমানোর সময় কোন এক বন্ধুর বাড়িতে ফ্লোরে লম্বা বিছনা পেতে সবাই এক ঢালা হয়ে শুয়ে থাকতাম। কাঁথার টানাটানি না হলেও বালিশের টানাটানি হতো। কাঁথা লম্বা করে বিছানো হলেও বালিশ তো আর লম্বা করা যায় না এবং অতিরিক্ত কাঁথা থাকলেও অতিরিক্ত বালিশ কারো ঘরে থাকতো না। বাধ্য হয়ে বালিশের পরিবর্তে ধানের নাড়া দিয়ে বালিশ বানিয়ে সবাই শুয়ে থাকতাম। ধানের নাড়ার উপর শুয়ে থাকলেও সব বন্ধু একসাথে থাকায় তাতেও অনেক আনন্দ পেতাম।

নবমীর দিন রাতে সব চেয়ে বেশি মজা হতো। নবমীর রাতে দল ধরে কয়েক গ্রাম ঘুরে বেড়াতম-- এমন কি তিন চার মাইল হেঁটে হেঁটে কয়েক গ্রাম পার হয়ে চলে যেতাম। কার বাড়ির পুজোয় আরতিতে কার নৃত্য ভালো এসব দেখে বেড়াতাম। একবার তিন মাইল ফাঁকে এক গ্রামে পুজো দেখতে গিয়ে ভবেশকে সবাই মিলে জোর করে ঠেলে নাচতে দিলাম। ওকে নাচতে দিয়ে আমরা পাঁচ ছয়জন হই হই করতে লাগলাম। আমাদের উৎসাহ পেয়ে ভবেশ প্রাণ খুলে নাচতে লাগল। আর তাতেই বাজি মাৎ হয়ে গেল। নাচের প্রথম পুরস্কার ভবেশ পেল। সেই পুরস্কার নিয়ে আমাদের আনন্দ আর ধরে না। মিছিল করতে করতে আমাদের গ্রামে চলে এলাম। পুরুষ্কার পাওয়ায় আমাদের সাথে গ্রামের আরো ছেলেরা যোগ হলো। সবাই মিলে হই হই করে পুরো গ্রাম ঘুরতে লাগলাম। সেই সময়ে পুরুষ্কারটি খুব দামী ছিল, আট আনা ওজনের সোনার চেইন। এর আগে যে সব লোক আমাদের দল ধরে ঘুরে বেড়ানো দেখলে তিরষ্কার করতো সোনার চেইন পুরুষ্কার পাওয়ায় তারাও ধন্যবাদ দিয়েছিল।
(ছবি ইন্টারনেট)
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই অক্টোবর, ২০১৬ বিকাল ৫:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



