
প্রাচীন কাল থেকে চলে আসা ভারতের অন্যতম একটি প্রথা হল কুমারী প্রথা বা সুতো প্রথা । এই প্রথায় কুমারী মেয়েদের কৌমার্যের পরীক্ষা দিতে হত । যার মাধ্যমে প্রমানিত হত সে কুমারী কিনা । একটি সাদা দড়ি বা সুতো মেয়েটির শরীরের ব্যক্তিগত জায়াগায় বাঁধতে বাধ্য করা হত । যদি লাল সুতোটি রক্তে ভিজে যেত তাহলে প্রমানিত হত মেয়েটির কুমারী বা কৌমারীত্ব নষ্ট হয়ে গেছে । রাজস্থানেরর সানসি নামক উপজাতিদের মধ্যে আজও প্রচলিত । এই প্রথায় যদি দেখা যেত মেয়েটির চরিত্রদোষ আছে , বা তার কৌমারীত্ব নষ্ট হয়ে গেছে তাহলে তার উপর শুরু হয় সামাজিক অত্যাচার । তাকে প্রচন্ড মারধর করা হয় । জিজ্ঞাস করা হত যে বিবাহের পূর্বে কোন পুরুষের সঙ্গে তার যৌন সম্পর্ক হয়েছে । যখন সেই মেয়েটি কোনো পুরুষের নাম বলত তখন মেয়ের বাবা ছেলেটির কাছে বিরাট পরিমানে ক্ষতিপূরণ দাবী করত বা করে ।
২ জল দিয়ে চারিত্রিক বিশুদ্ধতার পরীক্ষা -
কৌমারীত্বের পরীক্ষার আর একটি প্রথা হল জল দিয়ে চারিত্রিক বিশুদ্ধতারর পরীক্ষা । প্রধানত উত্তর প্রদেশে এই প্রথা চালু ছিল । তবে সরকার এ প্রথা বন্ধ করলেও লুকিয়ে জায়গায় জায়গায় এ প্রথা আজও চালু আছে । এই প্রথায় জলের তলায় মেয়েটিকে নিঃশ্বাস বন্ধ করে থাকতে হত । তখন জলের উপর দিয়ে একজন পুরুষ একশত পা হাঁটবেন । এই একশত পা হাঁটার মধ্যে যদি মেয়েটি নিঃশ্বাস ধরে রাখতে পারে তাহলে সে অতি পূর্ণবতী ও শারীরিক বিশুদ্ধতায় পাশ করবে । তার চরিত্র নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠবেনা ।উল্লেখ্য হয়তো কোনো পুরুষের পক্ষেও এই পরীক্ষা অত্যন্ত কঠিন । কারন জলের তলায় অতক্ষণ নিঃশ্বাস আটকে রাখা প্রায় একপ্রকার অসম্ভব বা মৃত্যুর সামিল । কাজেই মেয়েটির চরিত্র নির্মল নয়, খুব সহজে প্রমানিত হত এবং তার উপর অত্যাচারের মাত্রা আরো বৃদ্ধি পেত ।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০১৮ বিকাল ৪:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



