আগামী ২৫ মে বিশ্বভারতীর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন ভারত, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যথাক্রমে নরেন্দ্র মোদী ও শেখ হাসিনা । নবনির্মিত বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করতে এসে শান্তিনিকেতনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।আর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দিক দিয়ে ২০০৮ সালে শেষবার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বিশ্বভারতীর সমাবর্তনে এসেছিলেন, তারপর এবার মোদী আসতে চলেছেন । বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার শ্রী নীলাজ্ঞন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আমন্ত্রণ করা হয়েছে । ২০১৩-১৭ সাল পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের স্নাতক, স্নাতকোত্তর, গবেষণা ডিগ্রী হিসাবে ছাতিম পাতা বা সপ্তপর্ণী তুলে দেওয়া হবে ।
পরেরদিন অর্থাৎ ২৬ মে শেখ হাসিনা যাবেন কাজি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে । সেখানে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে স্বাগত জানাতে বর্ধমানের দুই বিশিষ্ট মিষ্টি সীতাভোগ ও মিহিদানা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বরন করা হবে । বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানমন্ত্রীকে সাম্মানিক ডি.লিট প্রদান করবে । প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়েরর উপচার্য সাধন চক্রবর্তীকে মৌখিক সম্মতি দেওয়ার পর এ খবর জানানো হয়েছে ।
উপচার্য আরো জানান রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় কথা সারা হয়ে গেছে । উল্লেখ্য ১৯ বছর আগে শেখ হাসিনা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর সময়ে কবির জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে কবির জন্মস্থলে এসেছিলেন। তারপর এবার আবার আসছেন ডি. লিট নিতে । উল্লেখ্য এবারে মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরো দুজন ডি. লিট প্রাপক হলেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী শ্রীমতী শর্মিলা ঠাকুর ও ভাবা পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানী এস.এস.ইউসুফ ।
তবে শেখ হাসিনার ভারত সফরকে কেন্দ্র করে কতগুলি প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে । ১,সব ঠিকঠাক চললে এবছরেই বাংলাদেশ সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠীত হতে চলেছে । সেক্ষেত্রে নির্বাচনী ইস্তেহারে তিস্তার জলবন্টন সমস্যা প্রধানমন্ত্রীর কাছে মস্তবড় চ্যালেঞ্জ । বিরোধীরা যখন প্রথম থেকেই সোচ্চার এটা বলে যে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে ভারতের তাবেদারি রাষ্ট্রে পরিনত করেছেন , সেখানে তিনি অন্তত প্রমান করতে পারবেন যে ভারত প্রকৃত তার বন্ধু রাষ্ট্র । তবে এক্ষেত্রে প্রধান বাঁধা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে দীর্ঘকালীন না হলেও সাময়িক বা অন্তর্বর্তীকালীন জলবন্টন চুক্তি করেও প্রধানমন্ত্রী নিজের কিছুটা সম্মান ধরে রাখতে পারেন । তবে সবক্ষেত্রই তা নির্ভর করছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সদিচ্ছার উপর ।
২,রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের অবস্থান বাংলাদেশকে খুশি করতে পারেনি । ঢাকা চেয়েছিল দিল্লী রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরাসরি এমনকি ক্লিনসিং বা গোষ্ঠী নিধনের অভিযোগ আনবে । কিন্তু মায়ানমার সফরকালে নরেন্দ্র মোদী রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি শব্দ তো উচ্চারণ করেননি , অভিযোগ আনা তো দূরের কথা । অবশ্য এখানে মোদীর নিরাবতার একটি কারন আছে । চিনের সঙ্গে মায়ানমারের সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো । এমতাবস্থায় ভারত কোনোভাবেই মায়ানমারকে চাপে রাখতে পারবে না উল্টে তাকে ও চিনকে চটাতেও চায়না । সেকারনেও মোদী নিশ্চুপ আছেন বলে অনুনান করা হয় ।
৩,সম্প্রতি আসামের বিজেপি সরকার ন্যাশনাল রেজিস্ট্রেশন অফ সিটিজেনস প্রকল্পের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের পর যারা আসামে এসেছে তাদের চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু করেছে । এক্ষেত্রে অনুপ্রবেশকারী বলতে মূলত বাংলাদেশীদের বোঝাচ্ছে । প্রকল্পটি অত্যন্ত জটিল ও স্পর্শ কাতরও বটে । কারন ইতিমধ্যে শেখ হাসিনা আরো দুকদম এগিয়ে অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভাষায় জানিয়েও দিয়েছেন যে আসামে একজনও বাংলাদেশি নেই ।
সুতরাং উল্লিখিত সমস্যা গুলিকে সামনে রেখে শেখ হাসিনার আসন্ন সফর কতটা মসৃণ বা কন্টকাকীর্ণ তা ভবিষৎ ই বলবে ।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০১৮ বিকাল ৫:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



