somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

পদাতিক চৌধুরি
আমি আমার নিরক্ষর কিন্তু বুদ্ধিমতী মায়ের কাছ থেকে এই শিক্ষাই পেয়েছিলাম,যথাযথ কর্তব্য পালন করেই উপযুক্ত অধিকার আদায় করা সম্ভব। - মহাত্মা গান্ধী

একবিংশ শতকেও ভারতের আদিম মানুষ

১০ ই মে, ২০১৮ বিকাল ৩:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ভারতের আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের একটি দ্বীপ হল সেন্টিনেল দ্বীপ । এই দ্বীপে বাস সেন্টিনেল জনগোষ্ঠীর । মূলত গ্রেট আন্দামানের উত্তরে এই দ্বীপটি অবস্থিত । এরা বাইরের জনগোষ্ঠীর উপর আক্রমনাত্মক নীতি নিয়েই চলে । প্রাচীন বর্বরদের মত আজও এরা শিকার নির্ভর জাতি ।
দ্বীপের পশু শিকার, মাছধরা বন্যলতাপাতা সংগ্রহই এদের জীবিকা । ভাবতে আশ্চর্য লাগে যে এদের সমাজে এখনো কৃষিকাজ ও আগুনের ব্যবহার ঢোকেনি । কাজেই একথা বলা যায় যে আধুনিকতার ছোঁয়া এখানে সামান্যতমও প্রবেশ করেনি ।



এদের এই রহস্যময় জীবনের খোঁজে গিয়ে অনেকেই ইতিমধ্যে নিহত হয়েছেন । ১৯৭৫ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফির এক পরিচালক একটি তথ্যচিত্র করার উদ্দেশ্যে এই দ্বীপে গেলে দলের অপর একজন মারাত্মকভাবে বিষের কবলে পড়লে পিছিয়ে আসেন । দ্বীপবাসির কোনো ভালো ছবি আজ পর্যন্ত তোলা সম্ভব হয়নি । যা উঠেছে সবটা আবছা বা দূর থেকে ঝুঁকি নিয়ে তোলা । মাঝে মাঝে হেলিকপ্টার করে কিছু খাদ্য পানীয় বা প্রয়োজনীয় সরজ্ঞাম ফেলা বা ছড়ানো সম্ভব হলেও তেমন কোনো সাফল্য পাওয়া যায়নি । কাজেই আজ একবিংশ শতকেও এরা বাকি বিশ্বের কাছে রহস্যময় রয়ে গেল ।



সেন্টিনেলদের হত্যা আর বর্বরতা কিছুটা জানলেও বন্য প্রবৃত্তির জুড়ি মেলা ভার । পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই দ্বীপে সর্বনিম্ন ৩৯ - ২৫০ জন আর সর্বোচ্চ ৫০০ জনের বাস বলে অনুমান করা হয় । ১৮০০ একর আয়তনের জমিতে ৭৩ বর্গকিমিতে কোনো নির্দিষ্ট জরিপ নেই । ২০০৪ সালের ভয়ঙ্কর সুনামিও এদের টলাতে পারেনি ।

অত্যন্ত স্বাধীনচেতা এই জাতির বাস সেন্টিনেল দ্বীপটি ভারতের কেন্দ্র শাসিত আন্দামানের একটি অংশ পূর্বেই বলেছি । সরকার বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও এদের কাছে পৌছাতে পারেনি । ১৯৬৭ সাল থেকে পোর্টব্লেয়ারে অবস্থিত ভারতীয় কতৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা সেন্টিনেলদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে । তাই খাবার, বস্ত্র,ঔষধ নিয়ে মৈত্রী স্থাপনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় । এমনকি খাবার সর্বরাহকারী কয়েকজনকে বিষে হত্যা করলে , পরে হেলিকপ্টার করে মৃতদেহ আনতে গেলেও তারা তীর ছোঁড়াই ফিরে আসতে বাধ্য হয় ।



১৯৯০ দশকে সরকার সাধারনের মত অভিযান চালাতে গেলে অপর একটি জনগোষ্ঠী জাঁরোয়াদের অনেকে নিহত হয়েছিল । সে ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান ভারত সরকার আর নুতন করে অভিযান চালাতে রাজি নয় । ফলে আগামী কত বছরে আন্দামানের সেন্টিনেল বা জাঁরোয়া উপজাতি আলোর সন্ধান পাবে সেটি এখন বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন ।

তথ্য ও ছবির ক্রডিট - ২৪ ঘন্টা ওয়েভ নিউজ।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০১৮ বিকাল ৩:৪৯
২৯টি মন্তব্য ৩২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"-.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪০




"বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"- বাংলা সাহিত্যের এই বহুল পরিচিত পঙ্‌ক্তির মর্মার্থ আমরা সবাই জানি। তবে মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, বিশেষ করে শিশুদের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত স্নেহ ও আন্তরিকতারও... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিথ্যে বলতে পারি না

লিখেছেন স্প্যানকড, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


ছবি নেট


মিথ্যে বলতে পারি না,
আজও আমি স্পষ্ট দেখি
ঘরের মেঝেতে এক টুকরো রোদ
জানি না কী করে যেতে হয় ভুলে
পুরনো সব রোগ
সেই ভালো হতো যদি মিশে যেতাম স্রোতে।

মিথ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন নিজে নিজে এআই দিয়ে, নেট ঘেটে ডাঃ জাহাঙ্গীর কবির স্যারের সব সত্যতা পাচ্ছে...!

লিখেছেন লিংকন বাবু০০৭, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬

বারডেম সহ সকল ডাক্তারদের উচিত নন কমিউনিকেবল ডিজিজ গুলো বেশি বেশি ঔষধ দিয়ে, ছয় বেলার জায়গায় দরকার হলে আরো কয়য়েক বেলা মুড়ি, বিস্কুট, খই এর সাথে আরো কিছু যোগ করে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবদাস, কালজয়ী উপন্যাস এবং চিত্রনাট্যের পটভূমি

লিখেছেন মেহবুবা, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৮


প্রথম ১৯২৮ সনে নির্বাক "দেবদাস" মুক্তি পায় ফনী বর্মা এবং তারকবালা অভিনীত ছিল সেটি। এরপর প্রমথেশ বড়ুয়া এবং যমুনা বড়ুয়া অভিনীত সবাক দেবদাস মুক্তি পায় ১৯৩৫ সনে। তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×