
ভারতের আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের একটি দ্বীপ হল সেন্টিনেল দ্বীপ । এই দ্বীপে বাস সেন্টিনেল জনগোষ্ঠীর । মূলত গ্রেট আন্দামানের উত্তরে এই দ্বীপটি অবস্থিত । এরা বাইরের জনগোষ্ঠীর উপর আক্রমনাত্মক নীতি নিয়েই চলে । প্রাচীন বর্বরদের মত আজও এরা শিকার নির্ভর জাতি ।
দ্বীপের পশু শিকার, মাছধরা বন্যলতাপাতা সংগ্রহই এদের জীবিকা । ভাবতে আশ্চর্য লাগে যে এদের সমাজে এখনো কৃষিকাজ ও আগুনের ব্যবহার ঢোকেনি । কাজেই একথা বলা যায় যে আধুনিকতার ছোঁয়া এখানে সামান্যতমও প্রবেশ করেনি ।

এদের এই রহস্যময় জীবনের খোঁজে গিয়ে অনেকেই ইতিমধ্যে নিহত হয়েছেন । ১৯৭৫ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফির এক পরিচালক একটি তথ্যচিত্র করার উদ্দেশ্যে এই দ্বীপে গেলে দলের অপর একজন মারাত্মকভাবে বিষের কবলে পড়লে পিছিয়ে আসেন । দ্বীপবাসির কোনো ভালো ছবি আজ পর্যন্ত তোলা সম্ভব হয়নি । যা উঠেছে সবটা আবছা বা দূর থেকে ঝুঁকি নিয়ে তোলা । মাঝে মাঝে হেলিকপ্টার করে কিছু খাদ্য পানীয় বা প্রয়োজনীয় সরজ্ঞাম ফেলা বা ছড়ানো সম্ভব হলেও তেমন কোনো সাফল্য পাওয়া যায়নি । কাজেই আজ একবিংশ শতকেও এরা বাকি বিশ্বের কাছে রহস্যময় রয়ে গেল ।

সেন্টিনেলদের হত্যা আর বর্বরতা কিছুটা জানলেও বন্য প্রবৃত্তির জুড়ি মেলা ভার । পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই দ্বীপে সর্বনিম্ন ৩৯ - ২৫০ জন আর সর্বোচ্চ ৫০০ জনের বাস বলে অনুমান করা হয় । ১৮০০ একর আয়তনের জমিতে ৭৩ বর্গকিমিতে কোনো নির্দিষ্ট জরিপ নেই । ২০০৪ সালের ভয়ঙ্কর সুনামিও এদের টলাতে পারেনি ।
অত্যন্ত স্বাধীনচেতা এই জাতির বাস সেন্টিনেল দ্বীপটি ভারতের কেন্দ্র শাসিত আন্দামানের একটি অংশ পূর্বেই বলেছি । সরকার বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও এদের কাছে পৌছাতে পারেনি । ১৯৬৭ সাল থেকে পোর্টব্লেয়ারে অবস্থিত ভারতীয় কতৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা সেন্টিনেলদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে । তাই খাবার, বস্ত্র,ঔষধ নিয়ে মৈত্রী স্থাপনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় । এমনকি খাবার সর্বরাহকারী কয়েকজনকে বিষে হত্যা করলে , পরে হেলিকপ্টার করে মৃতদেহ আনতে গেলেও তারা তীর ছোঁড়াই ফিরে আসতে বাধ্য হয় ।

১৯৯০ দশকে সরকার সাধারনের মত অভিযান চালাতে গেলে অপর একটি জনগোষ্ঠী জাঁরোয়াদের অনেকে নিহত হয়েছিল । সে ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান ভারত সরকার আর নুতন করে অভিযান চালাতে রাজি নয় । ফলে আগামী কত বছরে আন্দামানের সেন্টিনেল বা জাঁরোয়া উপজাতি আলোর সন্ধান পাবে সেটি এখন বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন ।
তথ্য ও ছবির ক্রডিট - ২৪ ঘন্টা ওয়েভ নিউজ।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০১৮ বিকাল ৩:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



