স্ত্রী বিয়োগের পর তৌফিক সাহেব আবার বিবাহের মনস্থির করলেন । তৌফিক সাহেবের বিষয় আশায় যথেষ্ট । গ্রামে দুদুটি পুকুর,জমি,বাড়ি,গোয়াল ভর্ত্তি গরু,বাড়ির উঠোন ও রাস্তার ধারে পাঁচ পাঁচটি ধানের গোলা । সব মিলিয়ে সম্পন্ন কৃষক বলা যায় । আর আপনজন বলতে পাশের গ্রামে বসবাসকারী ছোট ভাই সৌফিক ও নিজ পুত্র মুকুল । মুকুলের বয়স তখন যথেষ্ট আঠারো বছরের তাজা যুবক । তারও পকেটে যথেষ্ট পয়সা ও চোখে রঙিন স্বপ্ন দেখে । ৪০বছর বয়সে মায়ের অকাল মৃত্যুতে তাই তার মত তার আব্বাও প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠে আবার নুতন করে সংসার শুরু করতে বিবাহের সিদ্ধান্ত নিলেন । মুকুল স্বপ্ন দেখে যে তার আব্বা তাকে বিবাহ দিতে সম্মন্ধ দেখছেন । মুকুল কখনও তার আব্বা মায়ের মুখের উপর কথা বলত না । তবে সে চলতো সম্পূর্ণ নিজের খেয়ালে । শুধু মুখের উপর কথা না বলাকে যদি সমিহ বলা যায় তাহলে আব্বার প্রতি এখন থেকে তার সম্মানটা অনেকটা বেড়ে গেল । গাঁয়ের কোনও একজন দুষ্টু বন্ধু মজা করতেই বোধহয় খবরটা তার কাছে এইরূপ ভাবে পরিবেশন করেছিল, যে তার আব্বা তার বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজছেন । যাইহোক এর পর থেকে অনেকটা সময় সে বাড়িতেই দিত ।
এদিকে তোফিক সাহেবও মায়ের মৃত্যুর পর ছেলের এই আকস্মিক পরিবর্তনে অবাক হয়ে গেলেন । এটা ঠিক যে ছেলেকে এক সময় পড়ানোর ইচ্ছা থাকলেও স্রেফ স্কুলের অভাবে তাকে ভর্ত্তি করতে পারেননি । এক প্রকার নিষ্কর্মা ছেলে সারাদিন এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াত । বাড়িতে বাবা মা এত পরিশ্রম করলেও সে ফিরেও তাকাতো না । মা সারাদিন গোয়াল ঘর পরিষ্কার,উঠোন ঝারু দেওয়া,গরুর দুধ দোওয়া,ধান সিদ্ধ, রান্নাবান্না সামলিয়ে বিকাল গড়িয়ে না গেলে নাওয়া-খাওয়া করতে পারতেন না । তৌফিক সাহেবও সারাদিন প্রায় মাঠে ঘাটেই কাটাতেন । প্রায়ই দুপুরে বড় বড় ঝুড়িতে বেগুন, পটল, ঢ্যাঁরস,পেঁপে পুই নিয়ে বাড়িতে ফিরতেন, বিকালে হাটে তুলবেন বলে । বাবা মায়ের প্রতি মুকুলের উদাসীনতা প্রসঙ্গে তাকে একা দোষ দেওয়া যায় না । একমাত্র সন্তানকে একটু আদরে রাখতে বাবা মা ছোট থেকে তাকে কোন কাজে বলতেন না । কিন্তু ক্রমশ সে যখন বড় হতে লাগলো,তখন তার বাবামায়ের প্রতি উদাসীনতা আরও বেড়ে গেল ।তৈরী হল বাবা মায়ের দুশ্চিন্তা । মা একটু বেশিই হতাশা প্রকাশ করতেন । তাকে নিয়ে প্রায়ই মা দুঃখ করে বলতেন আজ আমাদের কষ্ট দেখছিস না । যেদিন আমরা থাকবো না, সে দিন দেখবি পৃথিবীতে আপনজন বলতে আর কেউ নেই । মৃদুভাষী আব্বাও ছেলের এহেন আচরণ নিয়ে উপরওয়ালার কাছে কপাল ঠেকাতেন । নামাজের পাটিতে বসে আল্লাহর কাছে দোয়া চাইতেন যাতে তার শুভবুদ্ধির উদয় হয় ।
শাকচুড়া হাটে একদিন এক সাইকেল আরোহীকে দেখে আব্বার কাছে সে একটি সাইকেল কেনার বায়না ধরলো । আজ যায়, কাল যায় করে একদিন সময়মত তৌফিক সাহেব গরুর গাড়ি করে হাসনাবাদে গিয়ে তার জন্য একটি সাইকেল নিয়ে এলেন । যদিও সাইকেলটি দেওয়া নিয়ে মায়ের একটু আপত্তি ছিল । যাইহোক এটি পাওয়ার পর মুকুলের ব্যস্ততা অনেক বেড়ে গেল । সারাদিন সে কোথায় যায় বা থাকে, কি খায়, কেউ কিছু জানতে পারে না । যেটুকু সময় বাড়িতে থাকে মুখ বুঁজে থাকে । কিছুক্ষণের জন্য বাড়িতে এলে বা দ্রুত বাড়ি ছাড়ে । ফেরে সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলে । নুতন সাইকেল পেয়ে তার মনের অবস্থাও বদলে গেছে । এটি নিয়ে প্রায়ই একএকজন বন্ধুকে নিয়ে সে গা্ঁছারাটি জামালপুরের দিকে ঘুরতে যায় । তার সাইকেলের সওয়ারি হওয়াটা বন্ধুদের কাছে খুব আকর্ষণীয় ছিল । কত লোক তার নুতন সাইকেলটির দিকে তাকিয়ে থাকতো । আর এজন্য সে মনে মনে তার আব্বাকে ধন্যবাদ দিত । সাইকেলটি তার পরিচিতি অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছিল । আশেপাশে পা্ঁচ সাততি গ্রামে তার মত সাইকেল কারও ছিলনা । গ্রামের মেয়েদের মধ্যেও তাকে নিয়ে ফিসফিশানি কম হতনা । কিন্তু সে তার আব্বা মাকে প্রচন্ড ভয় পেত । কারও সঙ্গে কথা বলার মত সাহসে সে পেরে উঠত না । তাকে অনেকে সাইকেল বলেও ডাকতো । সে ডাকে অবশ্য সে বেশ খুশিই হয়েছিল ।
শাকচুঁড়া হাটের উপর দিয়ে কিছুটা গেলেই কোদালিয়া গ্রাম । এই গ্রামেই চৌদ্দপুরুষের বাস তৌফিক সাহেবের । চারিদিকে সবুজে ঘেরা গ্রামটি অত্যন্ত সুন্দর । এখান থেকে বেশ কিছুটা গেলে ছোলাদানা গ্রাম । পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ইছামতি নদী। পার্শ্ববর্তী অন্যান্য কয়েকটি গ্রাম হল - উত্তর দিকে বাগুন্ডি,দন্ডিরহাট,মধ্যমপুর আর দক্ষিন আছে কাটারাটি, জালালপুর,গাছারাটি প্রভৃতি । আরও একটু দক্ষিনে গেলে টাকি সোদপুরের ঐতিহ্যশালী টাকি জমিদারবাড়ি । ছোলাদানাগ্রামটির ভৌগোলিক অবস্থা অত্যন্ত মনোরম । একদিকে পাশাপাশি দুটি ইঁটভাটা,পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ইছামতি নদী অপর দিকে দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ । এই ইছামতি মুকুলকে সারাদিন বসিয়ে রাখে । নদীর পানির ছলাৎ ছলাৎ শব্দে সে বিভোর হয়ে যায় । নদীর ঘাটে কত নৌকা আসা যাওয়া করছে এসবে তার ভ্রুক্ষেপ নেয় । বরং সে উদাস হয়ে দূর আকাশের একঝাক উড়ন্ত বকের দিকে চেয়ে থাকে । সে পানকৌড়ির ডুব দেওয়া দেখতে দেখতে বিভোর হয়ে যায় । মাঝে মাঝে কয়েকজন পথচারির পায়ের শব্দে যদিবা তার কল্পনার জগতে ছেদ ঘটে । কখনও বা ইছামতির নোনাপানি তুলে সে চোখ মুখ ধুয়ে নেয় । তবে এপানি তার কাছে নোনা নয়,বরং মিষ্টিই লাগে । সে লক্ষ্য করে দূরে কিছু কাকের কর্কশ শব্দ , কিমবা নদীর ধারে লবনাম্বু উদ্ভিদের শিকড়ের মধ্যে পানির স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে দু-একটি কাঁকড়ার শিকড় বেয়ে উপরে ওঠার ব্যর্থ চেষ্টা প্রভৃতি ।
ইছামতির তীরে বসে কখনও সে তার অতিত জীবনের কথা ভাবে । আব্বার সঙ্গে পাঁচ/ছয় কিমি দূরে গরুর গাড়ি করে বসিরহাটে মার্টিন বার্ন লাইনে ট্রেন দেখতে যাওয়া,যেটা ছিল তার প্রথম শহর দেখা । অনেকপরে হাসনাবাদে সাইকেল কিনতে গিয়েছিল ঠিকই কিন্তু বসিরহাট শহরকে সে আজও ভূলতে পারেনি । ফেরার সময় কিছু চপ ও মুড়ি খেয়ে কি আনন্দেই না সে বাড়ি ফিরেছিল । সে দু চোখ বন্ধ করে দিনটিকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করলো ।
পড়াশোনায় সে ভাল ছিল না ঠিকই কিন্তু পাঠশালার পাঠ শেষ করে গুরু মশায় যখন তাকে স্কুলে ভর্ত্তি হবার জন্য টাকি বা বসিরহাটে ভর্ত্তি করার পরামর্শ দিলেন তখন তার মাথায় বাস্তবিকই আকাশ ভেঙে পড়েছিল । শুুধু শুধু পড়াশোনার জন্য টাকি বা বসিরহাটে গিয়ে থাকাটা তার কাছে নিতান্ত অনর্থক বলে মনে হয়েছিল । তখনই সে ঠিক করে ভাল পড়াশোনা করলে যদি বাড়ি ছেড়ে থাকতে হয় তাহলে সে বরং লেখাপড়াটা আর করবেই না । তৌফিক সাহেবেরও ছেলেকে কাছছাড়া করার ইচ্ছা ছিল না । এদিকে কোদালিয়া বা তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় কোন বিদ্যালয় না থাকায় তৌফিক সাহেব অগত্যা ছেলের পড়াশোনা বন্ধকরতে বাধ্য হলেন ।
আজ ইছামতির তীরে বসেও মুকুলের মনটি ভাল নেই । গতকাল সন্ধ্যাবেলা সে বাড়ি ফিরে শুনেছে যে এবারে টাকির জমিদারবাবুরা তাদের জমিতে খাজনার পরিমান অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছেন । নায়েব মশায় কাঁছারিতে পেয়াদা পাঠিয়ে তার আব্বার মত কৃষকদের ডাকিয়ে সময় বেঁধে দিয়েছেন । সময়মত খাজনা দিতে না পারলে যে জমিজমা রাখা যাবেনা সেটা তৌফিক সাহেব ভালোই জানেন । সেদিন রাতে মাটির দাওয়ায় শুয়ে তৌফিক সাহেব সারারাত এপাশ ওপাশ করছিলেন । আর মুকুল লক্ষ্যকরেছিল কেরোসিনের কুপির শিখাটি যেন তার আব্বার যন্ত্রনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই মূহুর্মুহু স্থান পরিবর্তন করছিল । অস্পষ্ট কুপির আলোয় তার আব্বার যন্ত্রনা যেন তাকে আরও আতঙ্কিত করে তুলেছিল । আজ নদীর পাড়ে বসে সে ভাবছিল যদি মা আজ বেঁচে থাকতো তাহলে আব্বার সমস্যা সমাধানের নিশ্চয় একটা উপায় বার হত । আজ আর তার এখানে বসে থাকতে ভাল লাগছে না । মনে পড়লো ইছামতির ওপারে গোয়ালহাটি নামক একটি স্থানে তার মামার বাড়ির কথা । খুব ছোট বেলায় একবার মায়ের সঙ্গে সে মামার বাড়ি গিয়েছিল । সে তখন এতই ছোট যে সে সম্পর্কে তার তেমন কিছু মনে নেয় । মামারাও কোনোদিন তাদের বাড়িতে আসেনি । মাকে অবশ্য এই নিয়ে কোন দিন হাহুতাশ করতে শোনেনি । তৌফিক সাহেবের সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির সম্পর্কটি ঠিক কি কারনে খারাপ সেটা ঠিক মুকুল জানে না । আজ তার মনে হচ্ছে আশেপাশে সবার মামাদের মত যদি তার মামারাও তাদের পাশে থাকতো তাহলে আব্বার সমস্যা সমাধানের একটা পথ নিশ্চয় বার হত । যাইহোক মনের এই যন্ত্রনায় সে তার সাইকেল নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিল ।
সেদিন সন্ধ্যার একটু আগেই বাড়ি ফিরে মুকুল দেখলো তার আব্বা তখনও হাট থেকে ফেরেনি । অন্যদিনগুলিতে বেশ রাতে বাড়ি ফিরে মুকুল দেখতো তার আব্বা বাড়িতে আলোর ব্যবস্থা করেছে । ওদিকে মসজিদের মাগরিবের আজান কানে এল । পাশের বাড়ির মনোয়ারা চাচিমাকে তাদের বাড়ির লাগোয়া পুকুরে উজু করতে দেখলো । চাচিমা তার আব্বা হাট থেকে ফিরেছে কিনা খোঁজ নিল । আজ সন্ধ্যায় দাওয়ায় বসে তার মায়ের চলে যাওয়ার ছবিটি বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠলো । ছোট থেকেই সে দেখে এসেছে মা সারাদিন বাড়িতে কঠোর পরিশ্রম করতো । সময়মত নাওয়া খাওয়া করতে ভুলে যেত । কিন্তু তাদের খাওয়ানো,গরুদের দেখাশোনা করার মত কাজ মা সময়মত করত । মা কত সুন্দর করে গোটা উঠোন,বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার করে রাখত । সকালবেলা রান্নাঘর সুন্দর করে নেমন দেওয়া,তিনবেলা গরম গরম খাবারের ব্যবস্থা করা, সন্ধ্যাবেলা ঘর রান্নাঘরে আলো দেওয়া । আর এখন তাদের বাড়ির ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে গেছে । তৌফিক সাহেব মাঠঘাট সামলিয়ে যা সময় পান তা দুটো রান্না করতেই সময় চলে যায় । মুকুল বোঝে এখন তার আব্বার কাজ অসম্ভব বেড়ে গেছে । তার আব্বা মায়ের মত পরিপাট করে রান্না করতে পারে না । দুপুরের রান্নাতেই এখন তাদের তিন বেলা খেতে হয় ।এত পরিশ্রমে তার আব্বারও যদি মায়ের মত পরিণতী হয় । একটা আশঙ্কায় সে শিউরে উঠে , আর ভাবতে পারেনা, চোখ মুখ জ্বালা করে ওঠে । সে ভীতু হয়ে পড়ে । দু হাতে মুখ চেপে কান্না ঢাকার চেষ্টা করে ।
তার মনে এল মা যেদিন মারাগেল,তার আগেরদিন শেষ রাতে মায়ের অসম্ভব বুক যন্ত্রনা শুরু হয় । কখন থেকে ব্যাথা শুরু হয়েছিল,সেটা সে জানেনা ঠিকই কিন্তু শেষরাতে যখন তার ঘুম ভাঙে সে দেখে তার আব্বা মায়ের যন্ত্রনা প্রশমিত করার আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছে । ঘুম চোখে হাউমাউ করে সে মায়ের পায়ের কাছে কেঁদে পড়লো । মায়ের সে সবে ভ্রুক্ষেপ নেই । অনেক ক্ষন ছট ফট চিৎকার করতে করতে মা একসময় কিছুটা নিস্তেজ হয়ে পড়লো । এক সময় তার আব্বা তাকে মাকে দেখতে বলে পড়শিদের বাড়িতে ছুটে গেল । মাঘ মাসের শেষের দিকে সেই হালকা শীতের রাতে অনেক ডাকাডাকির পর পাশের বাড়ির হাবিবুরচাচা,মানোয়ারা চাচিমা সহ কয়েকজনঘুম চোখে ছুটে এলেন । সবাই তার মায়ের যন্ত্রনার কারন অনুসন্ধানের চেষ্টা করতে লাগলেন । কেউ বলছেন গ্রামের বৈদ্য মশায় রাজ্জাক সাহেবকে ডেকে আনতে । হাবিবুরচাচা বরং মাকে বসিরহাট হসপিটলে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন । এদিকে তখন ভোর হয়ে গেছে।বিভিন্ন মসজিদের আজান ভেসে আসছে । ক্রমশ পূর্ব আকাশে লাল আলো ফুটে উঠছে । শেষ পর্যন্ত সকাল বেলায় হাবিবুর চাচা আব্বাকে সঙ্গে নিয়ে মাকে নিয়ে গরুর গাড়ি করে বসিরহাট হসপিটলের উদ্দেশ্য রওনা দিলেন । ডাক্তারবাবু জানালেন রোগীর আগেই মৃত্যু ঘটে গেছে । এমন সময় মকুল বাইরে কারোও পায়ের শব্দ শুনতে পেল । ঘরে আলো জ্বলছে দেখে তৌফিক সাহেব খুশি হয়ে, এত তাড়াতাড়ি বাড়ি এসেছে, শরীর ঠিক আছে কিনা জানতে চাইলেন । মুকুল মাথা নেড়ে জবাব দিল । তৌফিক সাহেব আজ মুকুলের দায়িত্ববোধ দেখে মনে মনে খুশি হলেন ।
আজ এত বছর পরে মুকুলও তার আব্বাকে অন্য রুপে দেখলো । আজকের সন্ধ্যাবেলা তাকে অনেক শিক্ষা দিল । সে ছোট্ট শিশুর মত আব্বাকে বললো এখন থেকে আমিই প্রত্যেকদিন বাড়িতে আলো দেব । তোমার আর চিন্তা করতে হবে না । আজ সত্যিই বাবাছেলে যেন একে অপরকে অন্য ভাবে পেল । আসলে তৌফিক সাহেব কোনোদিন ছেলের সঙ্গে জোর করে কথা বলেন নি । যেমন বলেনি তার মাও ।ফলে চিরদিনই সে কিছুটা বাড়তি স্বাধীনতা পেয়ে পেয়ে এসেছে । অসম্ভব অপত্য স্নেহের কারনে বাবামা ছেলের কোন কাজকে কখনও নিষেধ করেনি । কিন্তু একটা সন্ধ্যা তাকে অনেকটা বড় করে দিয়েছে । তাই সে যখন তার আব্বাকে জানালো আমিই আজ থেকে বাড়িতে আলো দেব,রান্না করতে তোমার সাহায্য করবো,গরুর খাবার দেবো ,মাঠের কাজেও তোমাকে সাহায্য করবো তখন তৌফিক সাহেবের চোখের জল বাস্তবিকই যেন বাঁধ মানল না । বাবা ছেলে একে অপরকে জড়িয়ে ধরলো । তৌফিক সাহেব যে আজ তার প্রিয়তমা মারিয়মকে মুকুলের মধ্যে ফিরে পেলেন ।


বিঃদ্র - পোষ্টটি আমার ব্লগিং জীবনের প্রথম পোষ্ট । প্রথম পাতায় দিতেই আজ রিপোষ্ট করলাম । ঐ পোষ্টে যারা তাঁদের সুচিন্তিত মতামত দিয়েছিলেন , তারা হলেন - প্রিয় তারেক মাহমুদভাই, কবিভ্রমরেরডানাভাই , মাআইপাআপু , শ্রদ্ধেয় খায়রুল আহসানস্যার ও আমার স্নেহের ছোটোভাই রাকু হাসান । ওনাদের প্রত্যেককে আমার অন্তরের বিনম্র শ্রদ্ধা ।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই আগস্ট, ২০১৮ বিকাল ৫:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



