somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অন্দরসজ্জায় ইন্টেরিয়র ডিজাইন

২৪ শে মে, ২০১৩ রাত ১:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অন্দরসজ্জায় চিরাচরিত ধারণা থেকে বের হয়ে অন্দরসজ্জাকারীর মেতে ওঠেন ঘর সাজানোর নানা রকম নকশার পরীক্ষণে। সাধারণত বেশির ভাগ বাসাবাড়িতে ঘরের কোনাগুলো ফাঁকা পড়ে থাকে। অনেকেই হয়তো কর্নার-র‌্যাক অথবা টিভির স্ট্যান্ড দিয়ে পূর্ণ করে ফেলেন ঘরের কোণ। কিন্তু বিভিন্ন রঙের আলোছায়ার মেলায় এবং শৌখিন কিছু জিনিসের ব্যবহারে ঘরের কোণের সাজ পাল্টে দিতে পারে ঘরের চেহারা। কোণে কীভাবে আনবেন শৈল্পিকতার ছোঁয়া, ইন্টেরিয়র ডিজাইনারা মনে করেন, ‘নতুন বাড়িতে তো বটেই, বিশেষ করে একটু পুরোনো ধাঁচের বাড়িতে কর্নারের ইন্টেরিয়র ঘরে এক ধরনের আধুনিক চেহারা নিয়ে আসে।’
সাধারণত মাটির পটারি, ল্যাম্পশেড, আয়না, মোমদানি—এগুলো দিয়ে সাজানো যায় ঘরের কোণ। এ ছাড়া ঘরের কোনায় রং ও আলোর খেলা আপনার মনে এনে দেবে প্রফুল্লতা। সাধারণত বসার ঘরের কোনাটি জাঁকজমকভাবে সাজানো হয়।অন্য দেয়ালের রং ও আসবাবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্নারের রং নির্বাচন করতে হবে। সাধারণত অনেকেই বসার ঘরের দেয়ালজুড়ে হলুদ বা কমলা রং ব্যবহার করেন। সে ক্ষেত্রে ঘরের কর্নারে লাল রঙের এবড়োখেবড়ো টাইলস (রাস্টিক টাইলস) অথবা শ্লেট ব্যবহার করতে পারেন। এরপর দেয়ালের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টেরাকোটা বা পেইন্টিং কর্নারের দেয়ালে টাঙিয়ে রাখুন। কোনায় রাখতে পারেন সুদৃশ্য পটারিতে গাছ। চাইলে পটারির পরিবর্তে রাখতে পারেন হালকা রঙের স্ট্যান্ডিং ল্যাম্পশেড। তবে পটারি বা ইনডোর প্ল্যান্টস, যেটাই রাখুন না কেন, খেয়াল রাখবেন এগুলো যাতে তিন থেকে চার ফুট আকৃতির লম্বা হয়। শোবার ঘরের কর্নারে দেয়ালের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিলিং থেকে (বড় থেকে ছোট) ক্রমানুসারে তিনটি গোলাকৃতির রংবেরঙের ল্যাম্পশেড ঝুলিয়ে দিন। যেহেতু এটি বিশ্রামঘর, তাই এর কর্নার বেশি জাঁকজমক করবেন না। খাবার ঘরের কর্নারে রাখতে পারেন পছন্দমতো নকশার লম্বা ফুলদানিতে গাছ। এ ছাড়া খাবার ঘরের কোনায় দেয়ালের সঙ্গে লাগিয়ে দিতে পারেন আর্ট গ্লাসের তাক। আর্ট গ্লাসটি যদি রংচঙে হয়, তবে এর ওপর কাচের কারুকাজ করা বাটিতে রাখতে পারেন ক্রিস্টালের ফল। আর গ্লাসটি সাদা হলে রাখতে পারেন বিভিন্ন নকশার মোমের শো-পিস। বাসার প্রবেশপথের কোনায় দেয়ালের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাখতে পারেন বড় আকৃতির স্ট্যাডি (চার ফুট উঁচু ও ছয় পায়ের) পিতলের প্রদীপদানি। প্রদীপদানির ওপরে দুদিকের দেয়ালের সঙ্গে স্থায়ীভাবে বসিয়ে দিতে পারেন কাঠের কারুকাজ করা আয়তাকৃতির আয়না। প্রদীপের সঙ্গে মেঝেতে রাখতে পারেন পিতলের হুঁকোর শো-পিস। আরেকটি পিতলের থালায় রাখতে পারেন বিভিন্ন আকৃতির মোম। যেকোনো উৎসবে প্রদীপের সলতের আলোতে আলোকিত প্রবেশপথ উষ্ণ-অভ্যর্থনা জানাবে ঘরে আগত অতিথিকে। শুধু প্রদীপের আলোতেই নয়, কর্নারকে আলোকিত করতে ব্যবহার করতে পারেন স্পটলাইট। সিলিংয়ে বসিয় দিন স্পটলাইট। তবে খেয়াল রাখবেন, স্পটলাইটের আলো যাতে হলুদাভ রঙের হয়। কারণ, হালকা হলুদ রঙের ছায়া ঘরে যেমন আনে আভিজাত্যের ছোঁয়া, তেমনি চোখে আনে প্রশান্তি। যে ঘরের কর্নারই সাজান না কেন, ঘরের আসবাব এবং আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র হতে হবে হালকা নকশার। কারণ, কর্নারকে জাঁকজমকভাবে সাজালে তা ঘরকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে। তবে বেশি কারুকার্যময় নকশার আসবাব রাখলে ভালো দেখায় না। চাইলে কর্নার ইন্টেরিয়র করা ঘরে মেঝেতে বসার ব্যবস্থা করতে পারেন। পুরো ঘরের দেয়াল সাদা রেখে কর্নারে রাখতে পারেন নান্দনিক ভাস্কর্য। আপনার ঘরটি যেমনই হোক না কেন, খুবই অল্প খরচে ঘরের কর্নারটি সাজিয়ে ঘরে আনতে পারেন শৈল্পিকতার ছোঁয়া।

০১৭১১ ৫২০২৪৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ: ইসলামপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ, নাকি রাজনৈতিক বাস্তববাদী?

লিখেছেন Sujon Mahmud, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৮

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত প্রশ্নগুলোর একটি হলো—তিনি কি সত্যিই ইসলামপন্থী ছিলেন, নাকি ইসলামকে মূলত রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×