somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কটূক্তি এবং বাকস্বাধীনতা

১১ ই এপ্রিল, ২০১৩ বিকাল ৩:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কটূক্তি এবং বাকস্বাধীনতা নিয়ে নানা তর্ক বিতর্কে চায়ের কাপে ঝড় উঠেছে।নানা তত্ত্বের আলোচনা সমালোচনা চলছে ।কটূক্তি আর বাকস্বাধীনতায় সূক্ষ্ন পার্থক্য আছে।কটূক্তি অপ্রয়োজনীয় এবং বাকস্বাধীনতা প্রয়োজনীয় ।
প্রাসঙ্গিকভাবেই ধর্ম কি তা আলোচনায় সবার আগেই চলে আসে ।কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে ধর্মানুভূতি জড়িত ।
ধর্ম মানুষের বিশ্বাস ।ঈশ্বর মানুষের বিশ্বাস ।বিশ্বাস জ্ঞান নয় ।তা সত্য হতে পারে ।মিথ্যাও হতে পারে ।সাধারণত যা অনিশ্চিত তা বিশ্বাস করতে হয় ।তা কোন সময়ে প্রমাণিত হতে পারে ।আবার অপ্রমাণিত হতে পারে ।যা প্রমাণিত নয় তাই নিয়েই মানুষ তর্ক করে বিশ্বাস নিয়ে জ্ঞানে উত্তরণের জন্য।বিশ্বাস বা অবিশ্বাস যেহেতু অনৈব্যর্ক্তিক তাই এ বিষয়ে অনুভূতির তারতম্য থাকবে ।প্রশ্ন আসছে ,কিভাবে একজন আরেকজনের অনুভূতি রক্ষা করবে ?যে ধর্মে বিশ্বাস করে সে তা প্রমাণের চেষ্টা করবে।যেমন জাকির নায়েকের প্রমাণের চেষ্টাকে অনুভূতিতে আঘাত বলা যাবে না।তেমনি রাসেলের "কেন আমি খ্রিস্টান নই"কে অনুভূতিতে আঘাত মনে করা যাবে না।ইমানুয়েল কান্ট যখন যুক্তি দিয়ে বলবে ঈশ্বর সিস্টেমের সাথে ফিট করে বলে তার মনে হয় তা কারো অনুভূতিতে আঘাত নয় ।আবার নীটশে বা এরিস্টটল যদি যুক্তির মাধ্যমে বলে যথেষ্ট ফিট করে না তাও কারো অনুভূতিতে আঘাত নয় ।একজন মনীষী একটা যুক্তি দেন ।দুশো বছর পরে তা আরেকজন খন্ডন করেন ।তাই যা তর্কযোগ্য তা চলবে এবং এভাবে জ্ঞানের বিকাশ ঘটে ।এটা বাকস্বাধীনতার প্রয়োজনের দিক ।এটা ছাড়া মানুষের প্রগতি বন্ধ হয়ে যাবে ।নিউটন নিয়ে কথা বলার অধিকার না থাকলে আইনস্টাইন আসবে না ।আইনস্টাইন নিয়ে কথা বলার অধিকার না থাকলে আরো মেধাবী কেউ আসার সম্ভাবনা নস্ট হয়ে যাবে ।এই সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে বাকস্বাধীনতা খুবই জরুরী।ধর্মের ব্যাপারে একটু ভিন্নতা আছে ।এক্ষেত্রে অনুভূতি জড়িত যা কোন অন্য জ্ঞানের তত্ত্বের সাথে জড়িত নয় ।যে ইসলাম ধর্মকে যৌক্তিক মনে করে সে অন্য ধর্মকে অযৌক্তিক মনে করে ।কেন মনে করে তার কারণ প্রকাশ করা তার বাকস্বাধীনতা ।তবে এই প্রকাশের সাথে প্রকাশভঙ্গী জড়িত যা অন্যান্য বাকস্বাধীনতায় জরুরী না ।সে বলতে পারে রামায়ণে রামের রথে ওড়াটা আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না।এই কথাটা সে নানাভাবে বলতে পারে ।সে শালীন ভাষায় বলবে এই কারণে যে এই ব্যাপারটাকে আরো অনেক মানুষ বিশ্বাসযোগ্য মনে করে যার সাথে সে একই সমাজে বাস করে।পরস্পর নির্ভরশীল হিসেবে বাস করে ।আবার উল্টোভাবে একজন হিন্দু মুসার লাঠিকে সাপে পরিণত হওয়াকে অযৌক্তিক মনে করতে পারে ।কেন মনে করে তা সে প্রকাশ করতে পারে যৌক্তিকভাবে ।তর্কযোগ্যভাবে ।নাস্তিক কিছুই বিশ্বাস না করতে পারে ।কেন করে না তা যৌক্তিকভাবে বলতে পারে যা নিয়ে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে ।প্রশ্ন হচ্ছে কেন যুক্তি ও বিশ্লেষণ করা যাবে কিন্তু কটূক্তি অপ্রয়োজনীয়?কারণ প্রত্যেকের উদ্দেশ্য তার বিশ্বাস বা অবিশ্বাসকে প্রতিস্ঠিত করা যার একমাত্র উপায় যুক্তি ও বিশ্লেষণ ।কটূক্তি কোন সত্য প্রতিস্ঠার উপায় নয় ।তাই এটি অপ্রয়োজনীয় ।আর বর্জনীয় এই কারণে যে এটি সমাজে বসবাসের শর্ত।এদেশের আদিবাসী বা নৃগোস্ঠীরাও একটা বিশ্বাস নিয়ে বাঁচে ।নানা মানুষের নানা অনুভূতি ।একজনের বিশ্বাসে আরেকজনের বিশ্বাসের কোন ক্ষতি হয় না যতক্ষণ তা সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়।তাই সুস্ঠু সমাজের স্বার্থে একজনের বিশ্বাস অবিশ্বাস নিয়ে কটূক্তি অনুচিত ও অপ্রয়োজনীয়।
প্রত্যকেই কিছু না কিছু না বিশ্বাস করে।তার অর্থ কিছু না কিছু না অবিশ্বাসও করে ।অর্থাত্‍ বিশ্বাস অবিশ্বাস মানবিক সত্য ।তাই তা তর্কযোগ্য এবং বিশ্লেষণ যোগ্য।যৌক্তিক প্রাণী হিসেবে মানুষ যে কোনটা মেনে নিতে পারে ।এটা তার ব্যাক্তিগত ব্যাপার ।কটূক্তির কারণে কেউ বিশ্বাসীও হয় না আবার অবিশ্বাসীও হয় না ।তাই কটূক্তি অবাঞ্ছনীয় কারণ এতে সামাজিক বিশৃঙ্গলা ছাড়া আর কিছু হয় না ।কটূক্তি অনুত্‍পাদনশীল এবং নেতিবাচক প্রেষণা এবং বাকস্বাধীনতা ও যৌক্তিকতা সৃষ্টিশীলতার সহায়ক ।এ পার্থক্যটুকু না করতে পারলে আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি হারিয়ে ফেলবো এবং এর চূড়ান্ত অবস্থায় দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিপন্ন হয়ে পড়বে ।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০১৩ বিকাল ৪:২৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×