প্রায় বছর খানেক আগে ফেসবুকে একজন মধ্যবয়স্ক মহিলার সঙ্গে আলাপ হয়, সেই থেকে পরিচয়, তারপর অনেকটা বন্ধুর মত আচরণ। ভালই লাগে। বিশেষ করে তাঁর চিন্তা-ধারা, সমাজ নিয়ে ভাবনা ইত্যাদি বিষয়গুলো। ভদ্রমহিলা উচ্চ-শিক্ষিত, একটা বড় ফার্মে গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকুরী করেন। প্রায় সময় নিজে থেকেই তিনি আমাকে নক করতেন। কিন্তু তাঁর কিছু-কিছু বিষয়ে আমি একমত হতে পারতাম না। যেমন: তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে তিনি যে কথাগুলো বলতেন। ''এই প্রজন্মকে দিয়ে আসলে কিচ্ছু হবে না! এক-একজন রোবটের মত, যন্ত্রদানবের মত বেড়ে উঠছে! এদেরকে দিয়ে এই দেশ ও সমাজের কি উপকার হবে?''
তাঁর ক্ষোভটা ছিল মূলত: তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে। তার কথাগুলো মনোযোগ সহকারে শোনছিলাম। সঙ্গে-সঙ্গে আবার এটাও ভাবছিলাম- তার সব কথাগুলো আবার হেসে উড়িয়ে দেওয়ারও মত নয়।
একদিনের একটা ঘটনার কথা বলি।
একদিন অফিসে খুব মগ্ন হয়ে কম্পিউটারে একপ্রকার উপুড় হয়ে কাজ করছিলাম। কোনও দিকে তেমন কোনও খেয়াল নেই। ফেসবুকটা ওপেন করে রেখেছি নামমাত্র। কিছুক্ষণ পর ফেসবুক পাতাটা ওপেন করে দেখি ম্যাসেজ আর স্ট্যাটাসের কমেন্ট জমে আছে কয়েকটা। তার মধ্যে ঐ মহিলার একটা ম্যাসেজ। উত্তর দেওয়ার পর আমার একটা কথার সূত্রধরে তিনি যা বললেন, বিশেষ করে এই নতুন প্রজন্মকে নিয়ে, তাদের চিন্তা-ধারা নিয়ে, তাদের বাংলা ভাষাচর্চা নিয়ে, যারা নাকি বাংলাভাষাটা পর্যন্ত ঠিকঠাকভাবে লিখতে এবং পড়তে জানে না, তাদের রাজনৈতিক চিন্তা-ধারাও অনেকটা সময়ের সঙ্গে যায় না- যার অনেক যুক্তিই আমার পক্ষে মেনে নেওয়াটা সম্ভব হই নি। আমি শুধু উত্তরে এতটুকু বলেছিলাম '' লেখালেখির কল্যাণে আমাকে অনেক শব্দের সঙ্গেই পরিচিত হতে হয়। আর বাংলা ভাষাটাকে একটু ভাল করে জানার এবং বুঝার চেষ্টা করি। আমি মনে করি এর যথেষ্ট প্রয়োজনও আছে। আর এই জেনারেশনকে, জানি না আপনি আমার সাথে একমত হবেন কি না, ঢালাওভাবে দোষারোপ করেও কোনও লাভ নেই। কারণ, এই প্রজন্মের কথা ভেবে কোনও সরকার, রাষ্ট্র এবং সুশীল সমাজের (যদিও এক্ষেত্রে 'সুশীল' শব্দটা নিয়ে আমার আপত্তি আছে) পক্ষ থেকে, যেটুকু না করলেই নয়, সেটুকুও ঠিকঠাকভাবে করা হয় নি! তাহলে শুধু-শুধু এই প্রজন্মকে দোষারোপ করে কোনও লাভ আছে? আমি এই প্রজন্মের একজন সহযাত্রী হলেও সবার আগে নিজেকে চিনে নিয়ে চলার চেষ্টা করি। এজন্য আমাকে অনেক কাঠখড় পোহাতে হবে জানি। কিন্তু আপনারা এই প্রজন্মের জন্য কি করেছেন? এটা তো আপনাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্যের মধ্যে পড়ে, তাই না?''
মজার ব্যাপার হল- পরে ভদ্রমহিলা এর উত্তর তো দেন-ই নি, উল্টো সেদিনের পর থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগটাও অনেক কমিয়ে দেন। এজন্য আমার মন খারাপ হওয়ার কথা থাকলেও, তাতো হয়-ই নি, বরং মনে-মনে হাসি পেল অনেক!! প্রাণখুলে হাসলাম অনেক্ষণ।
পরে অবশ্য জানতে পেরেছিলাম ভদ্রমহিলা একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং আমি একটি কাগজে (তখন) আছি বিধায় তিনি আমার সঙ্গে ভাল (!) একটি সম্পর্ক তৈরি করে আমাকে তার কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন!
কি নোংরা মন-মানসিকতা থাকলে মানুষ মানুষের সঙ্গে এমন করতে পারে! ভাবা যায়!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






