somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সীমান্তের ঈগল(পরাজিত বীর)
আমি স্বাধীন দেশের পরাধিন মানব । স্বাধিন ভাবে বলতে চাই ,জানাতে চাই ,শিখতে চাই ,চাই বাক স্বধিনতা ।

প্রসঙ্গঃ সুরঞ্জিত সেন : "মাশরাফি ও সুরঞ্জিত 'বানোয়াট সংবাদ' সমাচার । কারা মিথ্যা ধর্মীয় বিদ্ধেষ ছড়িয়ে প্রিয় দেশকে আরো অস্থিতিশীল করতে চায়?

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ২:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :






------------------------------------------------------------
এমনি একটি অপশক্তি প্রিয় হৃদয়সম দেশটাকে ক্রমশ অস্থিতিশিল করে তুলছে। এর মধ্যে ধর্মের কলকে বাতাসে উড়িয়ে একটি মহল দেশে ধর্মীয় দাঙ্গা তৈরির চক্রান্ত করছে । দপ্তর বিহীন মন্ত্রী বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত কে নিয়ে মিথ্যা বানোয়াট একটি সংবাদ অখ্যাত ভূয়া '২৪ ডটকম' এর বরাত দিয়ে প্রথম প্রচারিত হয়। এর পর দুদিন ধরে ফেসবুক জুড়ে ডিজিটাল জিহাদে তিলিসমাতি চলছে। তাদের উদ্দ্যেশে ছিল দেশে নতুন করে সামপ্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করা। তাদের সাথে হুজুগে হুজুরদের আবেগের আস্ফালন ছিল অবাক কারার মতো। এমন কি হেফাজত মহাসচীব জুনাইদ বাবুনগরীর মিথ্যা বক্তব্য যে, এবার হেফাজত অস্ত্র হাতে ঢাকাতে আসবে সেন বাবুর বিচার করতে। জমিয়ত নেতা আল্লামা নুর হুসাইন কাসেমীর ভূয়া বিবৃতি প্রচার, এমন কি জাতীয় দলের অধিনায়ক নাকি বাবু সুরঞ্জিত সেনকে কড়া ভাষায় চিঠি লিখেছেন তার প্রতিবাদ জানিয়ে। সবই ছিল ভূয়া।কারা আমাদের ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করতে চায়। আমাদের সস্তা আবেগকে উত্তলিয়ে দিয়ে কারা গোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। গত দুদিনে এরকম দুই ডজ্জন ফেসবুকারকে আনফ্রেন্ড করেছি।

হা হা হা হা হা, মাশরাফী ভাই, জীবনে এতো ধন্যবাদ বোধহয় আর কখনো পাও নাই!
আগে ধন্যবাদ পেয়েছ উইকেট পেয়ে বা সফল নেতৃত্বের কারণে, এবারের কারণ ফাও!
ফেবুতে বলদদের বিচরণ যতদিন থাকবে, তোমরা এমন ফাও ধন্যবাদ পেয়েই যাবা!
সুরঞ্জিত কাকার বক্তব্যের বিরুদ্ধে নাকি তুমি ঈমানদীপ্ত এক জ্বালাময়ী বক্তব্য দিয়েছ? ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেওয়া তোমার সে বক্তব্য পাবলিক জানলো কীভাবে
তথ্যবাবারা কি মানুষের স্বপ্নের ভিডিও বের করতে পারে?
যত্তসব সার্কাস পার্টি!!!
.
"মাশরাফি ও সুরঞ্জিত 'বানোয়াট সংবাদ' সমাচার
'ধর্মের কল বাতাসে নড়ে'— এই প্রবাদের উৎপত্তি বাংলাদেশের জন্য শতভাগ সফল।
প্রথম বিষয় : আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে জড়িয়ে ফেসবুকে ‘মসজিদ, মাদ্রাসা ও জঙ্গিবাদ’ নিয়ে একটি প্রচার

বেশ জোরেশোরে চলছে। বড় বড় ধর্মবেত্তা এবং বিরাট বিরাট ধার্মিকব্যক্তিগণ এমন বক্তব্যের কারণে সুরঞ্জিতকে তুলোধূনা করে ছেড়েছেন। কেউ তার বিড়াল সদৃশ কার্টুন এঁকে পোস্ট করেছেন, কেউ গালির তুবড়ি দিয়ে ভারত পাঠিয়েছেন, ফাঁসির দাবি উঠেছে, কেউ কেউ বাস্তবিক অর্থেই তাকে ন্যাংটো করে ছেড়েছেন।
কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো, তিনি যে এই বক্তব্য দিয়েছেন তার কোনো সূত্র কেউ দিতে পারেনি। না কোনো পত্রিকা, না কোনো নির্ভরযোগ্য নিউজ পোর্টাল। এই সংবাদের উৎস কেবলমাত্র ফেসবুক! সুতরাং এর সত্যতার কোনো ভিত্তি কোথাও পাওয়া যায়নি।
.
গতকাল নির্ভরযোগ্য পত্রিকাগুলো এবং অনলাইন পোর্টালে সংবাদ এসেছে—
'এক মাসের বেশি সময় ধরে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অসুস্থ। গত মাসে সিঙ্গাপুরে তাঁর হৃদ্যন্ত্রে একটি জটিল অস্ত্রোপচার হয়েছে। এখন তিনি তাঁর নিজ বাড়িতে বিশ্রামে আছেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে কথাবার্তা ও ফোনালাপ থেকে বিরত রয়েছেন। এ অবস্থায় গণমাধ্যমে কথা বলার প্রশ্নই আসে না। ধর্মীয় উস্কানিমূলক এসব অপপ্রচার থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।'

.
তো বেরাদারানে ইসলাম, আপনারা যারা সামান্য বাতাস পেলেই ঝড়ো বেগে নড়িয়া উঠেন, তাদের কি উচিত ছিলো না এসব গাঁজাখুরি জিনিস প্রচার করার আগে একটু তাহকিক করার? না জেনে, কোনো ধরনের সত্যতা যাচাই না করে কারো নামে এমন মিথ্যা সংবাদ, অপবাদ প্রচার করা কি কবিরা গোনাহর অন্তর্ভুক্ত নয়?
মি. সুরঞ্জিত সাহেব নানা কারণে আপনার কাছে অপছন্দের হতে পারেন, তাই বলে তার নামে মিথ্যা বক্তব্য প্রচারের অধিকার তো ইসলাম আপনাকে দেয়নি।
.
দ্বিতীয় বিষয় : মাশরাফি বিন মর্তুজাকে নিয়ে ঘটেছে আরও নির্মম ঘটনা। একে তো সুরঞ্জিত সাহেবের বক্তব্যের ঘটনাটাই বানোয়াট, তার ওপর দুদিন ধরে ফেসবুকে বাহবার জোয়ার পড়ে গেছে মাশরাফির পিঠে। তিনি নাকি সুরঞ্জিতকে উদ্দেশ্য করে বিশাল এক ওয়াজ ঝেড়েছেন! মাদরাসা-মসজিদ নিয়ে তার বক্তব্যের প্রতিবাদে তিনি তাকে একহাত নিয়েছেন আর কি! মজার বিষয় হলো, নেটে তার সেই বক্তব্যের হুবহু কপিও পাওয়া যাচ্ছে।
মানুষের মাথায় আক্কল বলে একটা জিনিস থাকার কথা! মাশরাফি কি ঘাস খায় যে এমন বানোয়াট খবরের ওপর ভিত্তি করে একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তিনি কথা বলবেন? সে তার খেলা বাদ দিয়ে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে দাঁড়িয়ে ধর্মীয় বক্তব্য দিয়ে বেড়াবে— এমন চিন্তা আপনার আক্কলে ধরলো কীভাবে?
সুরঞ্জিত এবং মাশরাফির বক্তব্য সংক্রান্ত দুটো প্রচারই বানোয়াট, ভুয়া এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত!
.
আমার যতোদূর ধারণা, এসব ভুয়া জিনিস বানিয়ে কৌশলে প্রচার করে অমি পিয়াল, আসিফ মহি এবং তাদের ভাড়াটে শাহবাগীরা। তারা এসব বানিয়ে ফেসবুকের আনাড়ি মুসলিম যুবকদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়। আনাড়িরা না জেনে না বুঝে মাতম করতে করতে সেসব ফেসবুকে শেয়ার শুরু করে। ব্যস, অমি-আসিফদের ষড়যন্ত্র শতভাগ সফল। কাঁটা দিয়েই তারা সুচতুরভাবে প্রতিদিন তুলছে কাঁটা। মুসলমানদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছে বিভেদ, অযথা মিথ্যাবাদিতা, প্রতিহিংসার মতো জঘন্যতম পাপাচার। আমরাও তাদের সেই সংবাদের ফাঁদে আটকা পড়ছি প্রতিনিয়ত।
একটা সময় ইহুদি-খৃস্টানরা অনেক টাকা খরচ করে মুসলমানদের মাঝে ইসলামের নামে নানা প্রোপাগান্ডা চালাতো। এখন তাদের এতো টাকা খরচ করতে হয় না, ফেসবুকে হাজার হাজার মূর্খ ধার্মিক রয়েছে; তাদের দিয়েই আগের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি প্রচার চালানো যায়!
.
এ কারণে যেকোনো সংবাদ বা তথ্য প্রচার করার আগে অবশ্যই সেটার সত্যতা যাচাই করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য ফরজ। এর কোনো ব্যাত্যয় ঘটানো মানে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা। ভয়াবহ গোনাহর কাজ!


সংগৃহীত ও সংযোযিত হাকীম সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ২:২১
৮টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×