somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাঙ্গালী জাতির উত্থান

২২ শে জুলাই, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাস্তা দিয়ে আমার এক তুর্কি বন্ধু হেটে যাচ্ছিল। আমি পেছন থেকে হঠাৎ শব্দ করলে সে অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়ে যায়। আমি হাসি মুখে জিজ্ঞেস করলাম, ভয় পেয়েছ? সে আমার দিকে তাকিয়ে গম্ভীরভাবে বলল, "তুর্কিরা আল্লাহকে ছাড়া কাউকে ভয় পায় না"। তুর্কিদের জাতি প্রেম দেখে সত্যি অবাক হই অথচ আমরা কেউ কেউ নিজেকে বাঙ্গালী পরিচয় দিতে হীনমন্যতায় ভুগি।

-
আমরা বাঙ্গালী না বাংলাদেশি- এই নিয়ে বিতর্ক করা মানেই হল হুদাই সময় অপচয় করা। গত দুইদিন ধরে আমার এক ফেইসবুক ফ্রেন্ডের সাথে “আমরা বাঙ্গালী না বাংলাদেশি” নামক হুদাই বিতর্ক করছি। ফলাফল হয়েছে শূন্য। কারণ কেউ কাউকে মেনে নেয়নি।

-
বিতর্কের শুরু- উনি আমাকে জিজ্ঞেস করল, ডিনার করেছ? তুরস্কের প্রধান খাবার কি?
আমি বললাম, হুম খেয়েছি। তুরস্কের প্রধান খাবার রুটির সাথে তরকারী।
উনি বলল, পাপদা মাছ দিয়ে ভাত খেয়েছি। আমি বললাম, হুমমম, মাছে-ভাতে বাঙ্গালী। উনি আমাকে সংশোধন করে দিলেন, বাঙ্গালী নয় বাংলাদেশী। আমি মনে মনে বললাম, সর্বনাশ এই লোক তো হাজার বছরের প্রবাদ পরিবর্তন করতে চাইছে। এখন থেকে উনার কথা অনুযায়ী আমাকে “মাছে-ভাতে বাংলাদেশি” বলতে হবে। উনাকে টেক্সট করে বললাম, বাঙ্গালী কিংবা বাংলাদেশি একই তো কথা। ভাষা বাংলা তাই বাঙ্গালী। ভূখণ্ডের নাম বাংলাদেশ তাই বাংলাদেশি।
উনি বলল, “বাঙ্গালী শব্দটি শুনতে ভাল লাগে না। কারণ এটা গালি বিশেষ”।
এই কথা শুনার পর রাগ করা উচিত ছিল। কিন্তু রাগ করিনি। শুধু আফসোস হচ্ছে লোকটির জন্য। আহারে নিজের পরিচয়ে লোকটি লজ্জিত। অবশ্য উনারই বা দোষ কি। আমাদের কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও বোধকরি নিজের জাত লইয়া কিঞ্চিৎ লজ্জিত ছিলেন। বলিয়াছিলেন, “ সাত কোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী,
রেখেছ বাঙালী করে, মানুষ কর নি।"

-
তিনি শেষ পর্যন্ত মানুষ হতে পেরেছিলেন কিনা জানি না। তবে পাক্কা হিন্দু হতে পেরেছিলেন ঠিকই। যার প্রমাণ রবি ঠাকুরসহ কলকাতার বাবু সম্প্রদায়ের পূর্ব বাংলাকে আলাদা প্রদেশ গঠনের বিরোধিতা। বাংলাদেশ স্বাধীনতার প্রথম ধাপ ছিল পূর্ব বাংলায় আলাদা প্রদেশ গঠনের আন্দোলন। যা বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন নামে পরিচিত।

(আমার অবশ্য ‘বঙ্গভঙ্গ’ শব্দটি ব্যবহার করতে আপত্তি আছে। এটা পূর্ব বাংলায় নতুন প্রদেশ গঠনের বিরোধিতাকারীদের শব্দগত প্রোপাগান্ডা। কেননা কোন দেশে প্রশাসনিক কাজকর্মের সুবিধার্থে নতুন প্রদেশ গঠন করা মানে নেগেটিভ অর্থে ভেঙ্গে ফেলা নয়।)

রবিঠাকুরসহ কলকাতার বাবু সম্প্রদায়ের বিরোধিতার কারণে সেদিন পূর্ব বাংলা আলাদা স্বাধীন প্রদেশের মর্যাদা লাভ করতে পারেনি। তারা বলতে শুরু করল, বাংলা আমাদের মা। সুতরাং বাংলাকে ভাগ করতে দেওয়া যাবে না। গানও লিখে ফেললেন, “আমার সোনার বাংলা”। দুর্ভাগ্য হলেও সত্য যে, যে গান বাংলাদেশ কে বিরোধিতা করে লেখা হয়েছিল সেই গান এখন আমাদের জাতীয় সঙ্গীত। বাহ কি চমৎকার ভাবেই না জন্ম লগ্ন থেকে আমরা আমাদের গলায় পরাধীনতার শিকল বেঁধে রেখেছি।
বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতার পেছনে যে মুসলিম বিরোধিতাই মূল কনসেপ্ট ছিল সেটা অল্প দিনের ভেতরেই ধরা পড়ে যায়। তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে সরাসরি বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ব বাংলা) বিরোধী ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ওরা তাচ্ছিল্য করে বলেছিল, চাষার ছেলে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করবে কি!বাংলার মক্কা বিশ্ববিদ্যালয়। ইত্যাদি ইত্যাদি আরও কত কি।

রবি ঠাকুর কিংবা দাদা বাবুরা মুসলিম বিরোধিতা করেছিল বলে আমরাও কি হিন্দু বিরোধিতা করবো? অবশ্যই না। বরং যারা ধর্ম দিয়ে বাঙ্গালী জাতিকে বিভক্ত করতে চেয়েচিল তাদের কে আমরা প্রত্যাখ্যান করবো। তারা মুসলমানদের বিরোধিতা করতে গিয়ে মূলত বাঙ্গালীদেরই বিরোধিতা করেছিল। অবশ্য ‘পূর্ব বাংলা প্রদেশ’ বিরোধিতার কঠিন খেসারত দিতে হয়েছিল কলকাতাকে। বিরোধিতা করতে গিয়ে সহিংসতার পথ বেঁচে নেওয়ায় কলকাতা হারায় তার রাজধানীর মর্যাদা। যার ফলে জিতে যায় ইন্ডিয়া (হিন্দি ভাষীরা, দিল্লির নেতারা), হেরে যায় বাঙ্গালিরা।

-
তৎকালীন কলকাতার নেতারা দিল্লি নেতাদের কুমন্ত্রণা গুলো শুনার ফলে বাঙ্গালীরা শুধু রাজধানীই হারায় নি। চিরতরে হারিয়েছে ঐক্যের বন্ধন।
আমি অপেক্ষায় আছি বাঙ্গালীরা একদিন একতার বন্ধনে আবদ্ধ হবে। তারা নিজ জাতির প্রতি আস্থাশীল হবে। দুই বাংলা এক হয়ে স্বাধীন বাংলা গঠন করা হবে। আর সেই বাংলাদেশ হবে দিল্লির শাসনের নামে শোষণের আওতা মুক্ত। সেই বাংলাদেশের উত্থান হবে একদিন যে বাংলাদেশের প্রকাশ ঘটবে আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৮:৫৭
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=যতই মোহ জমাই দেহ বাড়ী একদিন ঝরবোই=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৯



আমিও ঝরা পাতা হবো, হবো ঝরা ফুল,
রেখে যাবো কিছু শুদ্ধতা আর কিছু ভুল,
কেউ মনে রাখবে, ভুলবে কেউ,
আমি ঝরবো ধুলায়, বিলীন হবো,
ভাবলে বুকে ব্যথার ঢেউ।

সভ্যতার পর সভ্যতা এলো,
সব হলো এলোমেলো;
কে থাকতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামনে আসছে শুভদিন , জান্নাতের সুবাস নিন।

লিখেছেন সপ্তম৮৪, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৮

আর অল্প কিছুদিন পরেই বাংলাদেশ পেতে যাচ্ছে প্রথমবারের মত সম্পূর্ণ সৎ এবং মেধাবীদের দ্বারা গঠিত সরকার।
মেধাবীদের বিপরীতে আছে একমাত্র শক্ত দল বিএনপি। বিএনপির জনসমর্থন প্রচুর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা যেন পারষ্পরিক সম্মান আর ভালোবাসায় বাঁচি....

লিখেছেন জানা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪২



প্রিয় ব্লগার,

শুভেচ্ছা। প্রায় বছর দুয়েক হতে চললো, আমি সর্বশেষ আপনাদের সাথে এখানে কথা বলেছি। এর মধ্যে কতবার ভেবেছি, চলমান কঠিন সব চিকিৎসার ফলে একটা আনন্দের খবর পেলে এখানে সবার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালাদেশের নির্বাচনী দৌড়ে বিএনপি–জামায়াত-এনসিপি সম্ভাব্য আসন হিসাবের চিত্র: আমার অনুমান

লিখেছেন তরুন ইউসুফ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩



বিভিন্ন জনমত জরিপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবণতা এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করে ৩০০ আসনের সংসদে শেষ পর্যন্ত কে কতটি আসন পেতে পারে তার একটি আনুমানিক চিত্র তৈরি করেছি। এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম পরে, আগে আল্লাহ্‌কে মনে রাখো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৩৭

প্রিয় শাইয়্যান,
পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌কে তুমি যখন সবার আগে স্থান দিবে, তখন কি হবে জানো? আল্লাহ্‌ও তোমাকে সবার আগে স্থান দিবেন। আল্লাহ্‌ যদি তোমার সহায় হোন, তোমার আর চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×