
একজন শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের মর্যাদা কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে মাপা যায় না...
বিউটি রাণী পালঃ ২০২৬ সালে সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। একটি জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হওয়া কোনো সাধারণ অর্জন নয়। এর পেছনে থাকে বছরের পর বছর নিষ্ঠা, মেধা, দায়িত্ববোধ, নেতৃত্ব এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, তাঁর আপলোড করা কয়েক সেকেন্ডের একটি রিলস- যেখানে তিনি নিজের মতো করে শাড়ি পরে হেঁটেছেন- সেটিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটিতে ছিল না কোনো অশালীনতা, ছিল না কারও প্রতি অসম্মান বা বিদ্বেষ। এটি ছিল একজন মানুষের স্বাভাবিক আনন্দের মুহূর্তকে স্মৃতিতে ধরে রাখার একটি ব্যক্তিগত প্রয়াস।
তবুও তাঁকে হতে হয়েছে সাইবার বুলিংয়ের শিকার। আরও দুঃখের বিষয়, সেই ঘটনাই এখন তদন্তের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আমাদের নিজেদের কাছে একটি প্রশ্ন রাখা উচিত- একজন মানুষের দীর্ঘ কর্মজীবনের সততা, সাফল্য ও অবদান কি কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও দিয়ে বিচার করা যায়?
একজন শিক্ষকের মূল্যায়ন হওয়া উচিত তাঁর চরিত্র, শিক্ষা-দর্শন, নেতৃত্ব, শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং সমাজে তাঁর ইতিবাচক অবদানের ভিত্তিতে; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কোনো নিরীহ ভিডিওর ভিত্তিতে নয়।
বিউটি রাণী পালের প্রাপ্য সম্মান তাঁর কর্মে, তাঁর অর্জনে এবং তাঁর শিক্ষাদানের উত্তরাধিকারে। মতের ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা কিংবা অযৌক্তিকভাবে কাউকে জনসমক্ষে হেয় করা কখনোই সভ্য সমাজের পরিচয় হতে পারে না।
একজন শ্রেষ্ঠ শিক্ষককে তাঁর প্রাপ্য সম্মান দিন। কারণ একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে সেই শিক্ষকদের হাত ধরেই, যারা নীরবে প্রজন্মকে আলোকিত করে যান।
একজন শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের পরিচয় তাঁর পোশাকে নয়, তাঁর প্রজ্ঞায়; তাঁর পদচারণায় নয়, তাঁর চরিত্রে; একটি ভাইরাল ভিডিওতে নয়, হাজারো শিক্ষার্থীর হৃদয়ে। যারা প্রজন্ম গড়ে তোলেন, তাদের সম্মান রক্ষা করা সমাজের দায়িত্ব। বিউটি রাণী পালের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক শুভকামনা। ❤️

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।