somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তিন গোয়েন্দা আর জলদস্যু এবং মেক্সিকান মহিলা

১৪ ই অক্টোবর, ২০২৫ ভোর ৪:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার দেখা সবচেয়ে জবরদস্ত প্রচ্ছদের একটি হচ্ছে তিন গোয়েন্দা ভলিউম ২/২ এর নতুন প্রচ্ছদ। যদিও এটা অন্য ক্লাসিকাল প্রচ্ছদ থেকে আলাদা।



তিন গোয়েন্দা ভলিউম ২/২ এর মলাটের দুর্ধর্ষ জলদস্যুর ছবিটি কোথা থেকে এসেছে? আরেকটি বিশ্ববিখ্যাত বই Robert Louis Stevenson-এর Treasure Island, Scribner’s Sons প্রকাশনী থেকে ১৯১১ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। অলঙ্করণের কাজ করেছিলেন N.C. Wyeth (১৮৮২-১৯৪৫, Wikipedia Link )। তিনি আমেরিকার অন্যতম শিল্পী ও আলঙ্কারিক ছিলেন। তিনিই এই ছবিগুলো এঁকেছিলেন।




সোয়া শতাব্দী পুরনো এই বইটির মূল সংস্করণ এই লিঙ্কে বিনামূল্যে পাওয়া যায়ঃ

The Treasure Island, illustrated (1911)

এছাড়া ২০১৩ সালে প্রকাশিত একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ এর প্রচ্ছদেও এখন ব্যাবহার হচ্ছে।

Stevenson RL. Treasure Island. New York: Sterling Children’s Books; 2013.

এরকমই অন্য আরেকটি মলাট হল ভলিউম ১৮ (নতুন প্রচ্ছদ)। এই মলাটে দেখা যায় আরেকজন দুর্ধর্ষ ওয়েস্টার্ন চরিত্রকে।



প্রশ্ন হল, ইনি আসলে কে? আমাদের অতি পরিচিত গ্রেগরি পেক। মুভির নাম, ‘Billy Two Shots’ (১৯৭৪)।

Billy Two Shots





মুভিটি ওয়েস্টার্ন ঘরানার, এখানে পোস্টার দেখলে এই চরিত্রের সাথে (আমার মতে) সরাসরি মিল পাওয়া যায়। গ্রেগরি পেক, গানস অফ নাভারোন, টু কিল এ মকিং বার্ড, রোমান হলিডে -সহ আরো অনেক বিখ্যাত মুভিতে অভিনয় করেছেন।

বলে রাখা ভাল, এই ভলিউমের ভিতরেই আছে ‘ওয়ার্নিং বেল’ (১৯৯৩), মেক্সিকোর পরিবেশে, সিয়েরা মাদ্রে পর্বতমালার পাদদেশে দারুণ এক এ্যাডভেঞ্চার।



রিভলভারগুলো Colt Single Action Army (SAA) revolvers, যাকে ‘Peacemakers’ বলেও ডাকা হত। সাদা রঙ মানে হাতির
দাঁতের তৈরি বাঁটগুলো।

এই মেক্সিকান রহস্যময়ী মহিলা, গল্পে যার নাম ইসাবেলা, যিনি আসলে আমেরিকান, উইগ আর কন্ট্যাক্ট লেন্স পরে মেক্সিকান সাজতেন, তার আসল পরিচয় নিশ্চিত ভাবে বের করা যায়না। যদি ফটোশপ এবং পরে AI এর সাহায্যে এই ছবিটি পরিষ্কার করে আনি, তাহলে নিচের মত দেখা যাবে।





ওই আমলে হলিউডে নেটিভ আমেরিকান অভিনেত্রী যারা অভিনয় করতেন, তাদের মধ্যে Tantoo Cardinal এবং Kimberly Guerrero উল্লেখযোগ্য। সমস্যা হল তাদের মুখাবয়বের সাথে এই ছবি তেমন একটা মেলেনা। যদিও proportion distortion এর কারণে এরকম হতে পারে। এইও কিছুটা চেহারা বদলে দেয়ে। আমার মতে মূল মলাটের ছবিটা মেলে Donna Reed এর সাথে। তিনি ১৯৫৫ সালের মুভি ‘The Far Horizons’-এ Sacagawea চরিত্রে অভিনয় করেন।





তবে হ্যাঁ, নিশ্চিত করে বলা আসলেই সম্ভব না। যদি সত্যিই ইনি Donna Reed হয়ে থাকেন, তবে এনাকে আরো দেখেছি, It’s A Wonderful Life মুভিতে। James Stewart (Jimmy) এর সাথে করা খুব অনবদ্য ফিল্ম, এক অর্থে Christmas Classic। Home Alone যারা দেখেছেন, দেখবেন এই মুভিটি প্রতিটি হোম এলোন পর্বেই, টিভিতে দেখানো হয়, কেভিনের (Maclay kulkin, Home Alone-এর কেন্দ্রীয় শিশু চরিত্র) ভাই বোনেরা দেখে। মজার কথা হল, ওয়ার্নিং বেল এর গল্পে, ইসাবেল উইগ আর কন্ট্যাক্ট লেন্স পরে মেক্সিকান সাজেন। Donna Reed-ও তেমনি আসলে শ্বেতাঙ্গিনী, নেটিভ সেজেছেন।
মিল হোক বা নাই হোকা, এই সাচাগাওইয়া খুব ইন্টারেস্টিং ক্যারেকটার। তিনি ছিলেন একজন লেমহি শোশোন মহিলা ১৮০৪ থেকে ১৮০৬ সালের মধ্যে, তিনি কর্পস অফ ডিসকভারি (Corps of Discovery) নামী অভিযাত্রীদলের সঙ্গে উত্তর ডাকোটা থেকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত হাজার হাজার মাইল ভ্রমণ করেছিলেন, যেখানে তিনি দোভাষী ও পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছিলেন। এই ফলকে প্রেসিডেন্ট থমাস জেফারসন, বিখ্যাত Louisiana Purchase-এর পরে ঐ এলাকার মানচিত্র, প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত যাবার নদীপথ, ইত্যাদি খুঁজে বের করার দায়িত্ব দেন। সেখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এই নারী।
এই বইতে আরো আছে অন্য একটি সিনেমার রেফারেন্স – ‘Treasure of Sierra Madre’ (১৯৪৮,
Link)। সেটাও দেখার মতই একটা মুভি, Cassablanca (১৯৪২)- খ্যাত হামফ্রে বোগার্টকেও দেখা যায় এই মুভিতে।

আমার কথা
আমরা যদি ক্রস রেফারেন্সিং করে দেখি, কী আশ্চর্য বিস্তৃত ছিল এই প্রচ্ছদ শিল্পীদের রুচি এবং জানাশোনা। সেবা প্রকাশনী আক্ষরিক অর্থেই অন্তত দুই-জেনারেশনের বাংলাদেশকে প্রভাবিত করেছে। তারা সেটা করতে পেরেছেন যুগের চাইতে অগ্রসরতার কারণে। ইন্টারনেট বিহীন, সত্তর-আশির ঢাকা শহর কেমন ছিল যখন কল্পনা করি তখন মনে আসে রিকশার টুং-টাং, সোডিয়াম বাতি, ডায়াল ফোন, ট্রানজিস্টর রেডিও, সাদা কালো টিভি, ভেসপা-ভক্সওয়াগন। দোতলা বাড়ি, প্রচুর গাছ, অনেকটা দেয়ালের আধিপত্যবিহীন ঢাকা শহর। সেই আমলে সেগুনবাগিচায় বসে, সিয়েরা মাদ্রে, গ্রেগরি পেক, ইসাবেলাকে তারা পৌঁছে দিচ্ছিলেন কমলাপুর রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষমান কিশোর-তরুণের হাতে। এই সব প্রচ্ছদ দখল করে রেখেছিল ঢাকা কলেজের বাসস্টপের স্টেশনারী দোকান থেকে নিউমার্কেটের আজিমপুর গেট, কিংবা সোবহানবাগের জ্ঞানকোষ। তাদের কৃতিত্বতে মুগ্ধ হতেই হয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৫ বিকাল ৫:১৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

“Epstein “ বুঝতে পারেন ! কিন্তু রাজাকার,আলবদর,আলশামস আর আজকের Extension লালবদর বুঝতে পারেন না ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:০৮

মূলত এটি একটি ছবি ব্লগ। এক একটি ছবি একটি করে ইতিহাস। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কস্টের অধ্যায়।

এপস্টেইন ফাইল দেখে আপনারা যারা বিচলিত, জেনে রাখুন ভয়াবহ আরেক বর্বরতা ঘটেছিলো ৭১এ এদেশেই, আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০১

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

ছবি, সংগৃহিত।

সারসংক্ষেপ

রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত। সাধারণ মুসলিম সমাজে রোজা ভঙ্গের ধারণা প্রধানত পানাহার ও যৌন সংসর্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ কুরআন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×