somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হরতাল নিকৃষ্ট, ঘৃণিত একটি নাম। শতধিক তারে ....

১৭ ই জুন, ২০০৬ সকাল ৮:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সময়টা 1999 সালের সেপ্টেম্বরে। তখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় (আমার কাছে ওইসব ফালতু মনে হয়) সেদিন বিরোধী দল বিএনপি হরতাল ডেকেছিল। গ্রাম থেকে আমার এক বন্ধু ঢাকা এসেছে তার অসুস্থ চাচাকে দেখতে। শাহবাগ পিজি হাসপাতালে ওর চাচাকে ভর্তি করানো হয়েছে। হরতালের জন্য সারা শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল। সকাল দশটায় মোবাইলে খবর এলো বন্ধুর চাচার অবস্থা মুমুর্ষ। হাসাপাতালে যেতে হবে।

দ্রুত দুই বন্ধু পিজির উদ্দেশ্যে রিকসা নিয়ে রওনা দিলাম। পেঁৗছে দেখি চাচার জন্য রক্ত লাগবে। রক্তের জন্য ছুটোছুটি করে দুই বন্ধু যখন হাসাপাতাল থেকে বের হলাম তখন দুপুর 12টা।

শাহবাগে পুলিশ আর পিকেটারের চরম উত্তেজনাকর মুহুর্ত অবলোকন করতে করতেই আরো রক্তের চিন্তা মাথায় নিয়ে জীবন বাঁচাতে আর সকলের সঙ্গে দৌড়াচ্ছি আমরা দুই জনও। কোনোরকম মৎস ভবন পার হয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম আগে বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিই। তারপর রক্তের সন্ধানে বের হবো।

বাসা ছিল মতিঝিলে। রাস্তায় রিকসা নেই। তাই বাধ্য হয়েই কাকরাইল হয়ে হাঁটতে শুরু করলাম। বিএনপি অফিসের সামনে যখন আসলাম তখন আমাদের 100 গজ দুরত্বে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হলো। গনহারে ধরা শুরু করলো পুলিশ। নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে চললেও কিছু বুঝে উঠার আগেই পুলিশ আমাদের দুইজনকে ডাকলো। সামনে গেলে বললো তাদের গাড়িতে উঠতে। কারন জিজ্ঞেস করতেই তাদের মধুর গালি হজম করতে হলো। বাধ্য হয়ে তাদের গাড়িতে উঠলাম। ভেতরে এক কনেস্টবল বললো কিছু হবে না। আপনাদের থানায় নিয়ে ছেড়ে দেবে।

কিন্তু আমরা কী করেছি? সেই লোকটি আবার বললো-উপরের নির্দেশ অনেকগুলি এরেস্ট দেখাতে হবে। আমাদের কিছুই করার নাই। (সম্ভবত লোকটি বিএনপি সাপোর্ট করতো, তার সঙ্গে যোগাযোগ করে পরে তার সত্যতাও জেনেছি)। মতিঝিল থানায় (বর্তমানে পল্টন থানা) নিয়ে লকআপে অন্যান্য পিকেটারদের সঙ্গে আমাদেরকেও রাখা হলো। বুঝতে পারছিনা কী করবো। এক কনেস্টবলকে 100 টাকা দিয়ে মতিঝিল থানার তৎকালীন আওয়ামী লীগের এক নেতাকে ফোন করালাম। তিনি এসে দেখেন আমাদের নামে কেইস ফাইল হয়ে গেছে। আমরা নাকি বোমাবাজি করছিলাম। সবচেয়ে অবাক হলাম আমি আর আমার বন্ধুকে 4 ও 5 নং আসামী দেখানো হয়েছে।

রাত 12টায় সেই নেতার কল্যানে আমাদের মামলা বাতিল করে থানা থেকে বের হলাম। যখন শুনলাম ওইদিনই বিকেল পাঁচটায় বন্ধুর চাচা হাসপাতালে মারা গেল প্রচন্ড কষ্টে বুকটা ভরে গেল।
চাচাকে আর দেখা হলোনা। হাসপাতাল থেকে আমাদের খবর না পেয়ে তার লাশ দাফন করতে সরাসরি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেদিন কী অপরাধ ছিল আমাদের? উত্তর দেবেন কী বিশিষ্ট রাজনৈতিক বুদ্ধিজীবিরা?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছোট গল্পঃ বাবার প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন সামিয়া, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:০৩



একটা মাস হয়ে গেল।
ইউনাইটেড হাসপাতালের সিসিইউর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে সময়ের হিসাব হারিয়ে ফেলেছে রিপা। দেয়ালে ঝোলানো ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে, নার্সরা ডিউটি বদলাচ্ছে, ডাক্তাররা আসছেন, যাচ্ছেন। শুধু একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আনন্দ ও শোকে কবিতা সংকলন - অক্টোবর ২০২৫

লিখেছেন বিজন রয়, ২৯ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:২৫



আনন্দ বিশ্বকাপ ফুটবল!
শোক ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্প!!


এই আনন্দ ও শোকে কবিতা সংকলন পোস্ট অক্টোবর ২০২৫! অনেক দেরি হয়ে গেল! হ্যাঁ অক্টোবর ২০২৫ এর সব কবিতা সংরক্ষিত ছিল, কিন্ত সময়ের অভাবে সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা বেবি রেসলার ইন দ্যা ডে কেয়ার সেন্টার- নিজের চোখকেও অবিশ্বাস হয় আজকাল .....

লিখেছেন অপ্‌সরা, ২৯ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৭


বহু বছর ধরে বাচ্চাদের সাথে কাজ করছি। নানা রকম শিশু কিশোর দেখে দেখে চোখ, কান, মাথা, প্রায় অভ্যস্থ হয়ে গেছে। বাচ্চারা বাড়িতে এক, বাড়ির বাইরে খেলার মাঠে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালোবাসার আলো, স্মৃতি জাগানিয়া তুমি !!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩২



ভালোবাসার আলো, স্মৃতি জাগানিয়া তুমি !!!

(The Hertiest Light, The Fleeting Memory)



তোমার ছোঁয়ায় থমকে দাঁড়ায় চেনা সময়টুকু,
দূরে গেলেই মেঘের ছায়ায় কাঁদে অবুঝ সুখ।
সুন্দর সেই দিনগুলো যায় ,হুট করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা ব্লগিং-এ দুই দশক - ধন্যবাদ সামহোয়্যার ইন ব্লগ

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫৮


দেখতে দেখতে শেষ পর্যন্ত সামুতে ২০ বছর পেরিয়ে গেল, ব্যক্তিগত একটি মাইলস্টোনও পার করা হলো। এই অনুভূতি মূলত মিশ্র। একদিকে আমি যেমন সামহোয়্যার ইন কর্তৃপক্ষের নিকট কৃতজ্ঞ যে দু'দশক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×