মূলধারা বাংলাদেশ নামের একখানি ট্যবলয়েড পত্রিকার অনলাইনে প্রকাশিত রবীন্দ্রনাথকে সাম্প্রদায়িক অপবাদ দিয়া সলিমুল্লা খান মহোদয়ের লেখাটা পুরা পড়িলাম না। তাহার প্রধান কারন তিনি তাহার এই সন্দর্ভে কী বুঝাইতে চাহিলেন তাহা কিয়ত পরিমান পাঠ করিলে মনযোগী পাঠকের বোধোদয় হইবে যে, খান সাহেব রবীদ্রনাথের গোসটি উদ্ধারে ব্রত পালন করিবার নিমিত্তে আমাদের মতো গাধা গরুদের জ্ঞান বিলাইতেছেন । আহমদ ছফার এক কালের চেলা তথা স্বাধীন বাংলাদেশের দুষ্ট চক্র জাসদের ঝান্ডা ধারীরা এই পরিনামই বরণ করেন । ইংরেজরা যদি দেশ ছাড়িয়া না যাইত তাহা হইলে এই জ্ঞানী প্রবর তাহাদের কে বিদেশী বলিতেন না। চলিয়া যাওয়াই তাহাদের কাল হইল। আর যাহারা ইহার পূর্বে ভারত বর্ষ আক্রমন বা 'জয়' করিয়া বাড়ী, ভিটি,পুকুরপার, বাঁশঝাড়, বৃক্ষাদি রোপণে ছেদনে,জিয়ানে ভোগ দখল পূর্বক জোর করিয়া তাহাদের মৌরসি পাট্টা বানাইয়া নিল, তাহাদের কে বিদেশী বলাতে খান মহোদয় রবীন্দ্রনাথের উপর ক্ষুদ্ধ হইলেন । ক্ষুদ্ধ হইবার আরও কারন আছে, যাহা খান সাহেব ব্যক্ত করিলেন না , কিন্তু তাহার সাম্প্রদায়িক মন কিছুতেই যে প্রবোধ মানিলেন না তাহাই এই লেখাতে ফুটাইয়া তুলিলেন। নচেৎ, এই অধমের ক্ষুদ্র জ্ঞানে কখনো জানি নাই, রবীন্দ্রনাথ আপন সমা্লচনায় পিছপা ছিলেন কিনা ও যাহা তাহার মনে ধরিত না, তাহা স্বগীয় হইলেও তিনি তাহা গ্রহন করিতেন কীনা । ইহা আমাদের খান সাহেবরা এই জনমে অধিগত করিতে পারিবেন না। রবীন্দ্রনাথ মহাশয়ের প্রবন্ধ গুলি পাঠ করিলে বা শ্রবন করিলে গেরামের চাষা ভুষা ও বুঝিতে পারিবেন তিনি যাহা মন্দ তাহাকে মন্দ বলিতে পিছপা থাকিতেন না । আর যাহা উত্তম তাহা উত্তম বলিতে পিছপা থাকিতেন না। খান সাহেব তাহার জীবনে, কোন অন্যায় অত্যাচারে বিরুদ্ধে দাঁড়াইয়া কোন রাজ শক্তির ভিত নাড়িয়া দিয়াছেন কিনা নাকি টক শোতে শুধু অধিগত জ্ঞান বিতরন করিয়া মানুষের সম্মুখে ইংরেজদের নাইট উপাধি রাস্তার ধুলায় ফেলিয়া দিবার সেই মানুষটা কে বেইজ্জত করিবার বাসনা পোষণ করিলেন কেন তাহা এই মূর্খ বাঙ্গালীর অনধিগম্য নহে। বলি হারি , রবী বাবুর সাথে তুলনা । এহ বাহ্য ।
খান সাহেব কি শান্তি নিকেতন ভ্রমন করিয়াছেন? সেখানে কি কোন হিন্দু দেব দেবীর পুজা আরচা প্রতিমা দেখিয়াছেন ? চালাক মানুষ বলিতে হইবে, তাই ব্রাম্ম দের উপর ও চাপাতি চালাইলেন। যেহেতু তাহার লক্ষ্য বস্তু রবীন্দ্রনাথ।
তিনি একটি মহাভুল পরিবেশন করিয়া পাঠক দের সাথে প্রতারনা করিলেন, আর তাহা হইল - রবীন্দ্রনাথ বুদ্ধ(বুদ্ধদেব??) কে হিন্দুর অবতার বানাইলেন । ইহা তিনি কোথায় পাইয়াছেন মহাজ্ঞানী কমলাকান্ত ??বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথ বুদ্ধ গয়ায় যাইয়া যে লিখাখানি লিখিয়াছিলেন তাহা কি তিনি পড়িয়াছেন । নাহ, ইহা পড়িবার কোন প্রয়োজন খান সাহেবের রহিয়াছে কীনা বিবেচ্য ।তবে একজন ক্ষুদ্র পাঠক হিসাবে খান সাহেব কে চ্যালেঞ্জ ছুড়িয়া দিলাম তিনি প্রমান করুন, রবীন্দ্রনাথ বুদ্ধ কে অবতার বানাইতে সচেষ্ট ছিলেন। কম পড়াশুনা করিয়া অধিক পরিমানে লিখিতে চাওয়া বড় ভয়াবহ। তাহাও আবার রবীদ্রনাথে কে লইয়া?? আমি যদি তাহাকে বলিতে চাহি রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ব্রাম্ম কোনটাই ছিলেন না, তিনি কি আমার কথার ভুল প্রমান করিতে পারিবেন ? আমি যদি বলি তিনি শুধু বৌদ্ধ ধর্মেই মুগ্ধ ছিলেন তাহা তিনি ভুল প্রমান করিতে পারিবেন ? তাহা হইলে তাহার এহেন উদ্দেশ্য মুলক রচনাখানি অর্থহীন হইয়া যাইবে । তাহা ভুল প্রমান করিতে হইলে রবী বাবুর সমগ্র রচনা তাহাকে পড়িতে হইবে, এমন কি তাহার গীতবিতান, গীতাঞ্জলী, নৃত্য নাঠ্য তাহাকে গাইতে বা শুনিতে হইবে । একবার বলিবেন ইউরোপীয়রা রেসিস্ট(তাই ফ্রাঞ্জ ফানো কেই কথায় কথায় তুলিয়া আনেন), আর একবার বলিবেন রবীন্দ্রনাথ সাম্প্রদায়িক। আর পাঠক দের গাধা গরু ভাবিবেন এমন জ্ঞানা ভিমান পরিত্যাজ্য । মহোদয়ের মনোবাঞ্ছা হয়তো গভীরে আর তাহা হইল এমন সাম্প্রদায়িক মানুষ টির রচিত গান কী করিয়া তাহাদের নিজ হস্তে স্বাধীন কৃত দেশটির জাতীয় সঙ্গীত হইতে পারে ??
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০১৬ বিকাল ৪:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


