খুব ছোটবেলায় গ্রামের বাড়িতে থাকতাম। তখনও আমার দাদী বেঁচে আছেন। ৮০ বছরের বৃদ্ধা। পরনে ধবধবে সাদা কাপড়। দাদীর প্রচন্ড পরিস্কার বাতিক।
দাদীর কাপড় খুব যন্ত করে ধুতেন আমার মা। তারপর উঠোনের রোদে সেটা মেলে দেয়া হতো। চকচকে রোদে ধবধবে শুভ্র শাড়ী সেই ছোটবেলায়ই অন্যরকম শ্রদ্ধা লাগত। দাদীর প্রতি। দাদীর শাড়ির প্রতিও।
আমরা যারা ছোট ছিলাম তারা খুব সাবধানে থাকতাম। সারাদিন খেলে হাতে সারাক্ষন কাদা লেগে থাকত। উঠানে দাদীর কাপড় দেখলেই আমরা খুব সাবধান হয়ে যেতাম। গ্রামরে বাড়ি বলে কুকুর বেড়াল সারাক্ষণই ঘুরাঘুরি করত এদিকে ওদিকে।
আমাদের দাদী উঠোনে শাড়ী মেলে দিয়ে বারান্দয় বসে থাকতেন। তার হাতে থাকত লম্বা একট লাঠি। কোন দিন আমি, কোনদিন আমাদের আর কোন পিচ্চি ভাই-বোন তার সঙ্গে বসত। কুকুর-বিড়ালকে শাড়ীর আশপাশে দিখলেই দাদী লাঠি তুলে তাড়িয়ে দিতে। কোন কোন ত্যাদর কুকুর দাদীর লাঠিকে ভয় পেতনা। তাদের জন্য ছিলাম আমরা। হাতে ঢিল নিয়ে দৌড়ে তাড়িয়ে দিতাম।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


