somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বহু মুক্তিকামী মুসলমানদের হত্যার পর তাদের খুলি আজও সুসভ্য ফ্রান্সের যাদুঘরগুলোতে সংগ্রহে রাখা আছে

১৬ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৫:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



উপরের ছবিটা জুলাইখা আল শায়িব নামে এক মুসলিম আলজেরিয়ান তরুণীর। ১৯৫৭ সালে ১৫ অক্টোবর ফ্রান্সের সেনারা একটা মিলিটারি ভ্যানের সঙ্গে তাঁকে বেঁধে রেখেছে, সে অবস্থায় তোলা।

এর কিছু পরেই তাঁকে এভাবে বেঁধেই পুরো দশদিন শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরানো হয় এবং লাউড স্পিকারে ফ্রান্স সরকারের তরফে জানান দেওয়া হয়-

যদি কোনও আলজেরিয়ান ফ্রান্সের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের চেষ্টা করে কিম্বা সাহায্য করে তবে এর ফল হবে এমনই। এমনকি সে নারী হলেও বিন্দুমাত্র অনুকম্পা প্রদর্শন করা হবে না।

এর ঠিক দশদিন পর, তাঁকে ২৫ অক্টোবর একটা সামরিক হেলিকপ্টার থেকে ফেলে হত্যা করে ফরাসি সেনাবাহিনী। পরবর্তীতে, ১৯৮৪ সালে তাঁর কবরের সন্ধান মেলে।

এটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ফরাসি শাসনাধীন ফ্রান্সের প্রাত্যহিক অনুষঙ্গ ছিল এই জুলুম, এই হত্যাযজ্ঞ। আমিন আল মুতাওয়াসসিতি তাঁর পরিবারের নিকটজনদের অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন।

তাঁরই এক আত্মীয়, কার্ফিউ চলাকালে নিজের সন্তানকে খেলার মাঠ থেকে খুঁজতে গিয়েছিলেন। ফিরতে ফিরতে কার্ফিউ শুরুর সময় হয়ে যায়। পথে তাঁকে ধরে নিয়ে যায় ফরাসি সেনারা। কার্ফিউ ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে তাঁর সন্তানসহ মাটিচাপা দেওয়া হয়।

এই ঘটনাগুলো কিন্তু খুব বেশিদিন আগের নয়। মাত্র ৬০ বছরের কিছু বেশি কাল আগের। সময়ের হিসেবে ইতিহাস হয়ে পড়ার মত দূরত্বেরও নয়। সে সময়কার বহু মানুষ এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছেন।

সারা দুনিয়ায় যে পশ্চিমা দুনিয়া আমাদের তথাকথিত সভ্যতার শিক্ষা দেয়- সে শিক্ষার জাজ্বল্যমান উদাহরণ হচ্ছে এই ঘটনাগুলো।

১৮৩০ সাল থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েক বছরে ফ্রান্স গোটা আলজেরিয়া দখল করে নেয়। এরপরই মুসলমানদের উপর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ জুলুম চলে। নগরের পর নগরে গণহত্যা চালানো হয়।

আরবি শিক্ষা এবং 'ইসলামিক লেসন' অর্থাৎ ইসলাম শিক্ষা নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। বহু মসজিদকে গীর্জায় বদলে ফেলা হয়।

১৬১২ সালে উসমানি খেলাফতকালে নির্মিত আলজেরিয়ার ঐতিহাসিক জামে মসজিদ জামা কাংশোয়াহ (جامع كتشاوة) ছিল সবচে’ বড়ো মসজিদ। ১৮৪৫ সালে এ মসজিদটি গীর্জায় বদলে ফেলে ফ্রন্স সরকার। Cathedral of St Philippe নাম দেওয়া হয়।

উমাইয়া খেলাফতের একেবারে শুরুতেই আলজিরিয়া ইসলামী খেলাফতের সীমাভূক্ত হয়েছিল। ইসলামের গোঁড়ার দিকেই। প্রখ্যাত বীর সেনাপতি সাহাবি উক্ববা বিন নাফি রা. আলজেরিয়ার বিজয় সূচনা করেন।

এরপর আবু আল-মুনজির দিনার রহ. সমগ্র আলজেরিয়ায় ইসলামকে পৌঁছে দিয়েছিলেন। বর্তমানেও আলজেরিয়ায় প্রায় ৯৯ শতাংশ মুসলমানের বাস।

১৯৫৪ সালের অক্টোবর ছিল পরাধীন আলজেরিয়ার উত্তপ্ত মাস। নভেম্বরেই শুরু হয় আলজেরিয়ান বিপ্লব। পনেরো লাখ মুক্তিযোদ্ধার রক্তস্রোতে ভেসে ১৩২ বছরের পরাধীনতার সমাপ্তি ঘটে।

স্বাধীন হয় আলজেরিয়া। ১৯৬২ সালের ৫ জুলাই আত্মপ্রকাশ ঘটে স্বাধীন আলজেরিয়ার। যেই কাংশোয়া জামে মসজিদকে করে রাখা হয়েছিল গীর্জা সেটায় ১১৭ বছর পর হয় পুনরায় হয় জুমার নামাজ।

এই এ বছরও আলজেরিয়ার সদ্যগত স্বাধীনতা দিবসকে উপলক্ষ করে ফ্রান্স দুই ডজন আলজেরীয় মুক্তিকামীদের মাথার খুলি ফেরত পাঠিয়েছে।

এইরকম বহু মুক্তিকামী মুসলমানদের হত্যার পর তাদের খুলি আজও সুসভ্য ফ্রান্সের যাদুঘরগুলোতে সংগ্রহে রাখা আছে।

আলজেরিয়ায় 'সভ্য' 'গণতান্ত্রিক' 'সেক্যুলার রাষ্ট্র' ফ্রান্স তার আধুনিক কালের ইতিহাসে যা করেছে তা কি করে এই পশ্চিমের মনস্তাত্ত্বিক গোলামিতে আবদ্ধ প্রজন্ম বিচার করবেন তা আমার জানা নেই!

আজ যে ফ্রান্স সে ফ্রান্সের নাগরিকদের মাত্র এক পুরুষ আগের প্রজন্মই ছিল তারা। আজও ফ্রান্সের এই জুলুমবাজি মালির মাটিতে বিদ্যমান।

পাশ্চাত্য, ইউরোপের প্রতি আমাদের যে শির ঝুঁকে গেছে- যে দুনিয়ার চাকচিক্য আমাদের নজর কেড়েছে তাতে এই জুলুম এই ইতিহাস আমাদের হৃদয়ে কখনো প্রবেশ করবে না, কখনো দাগ কাটবে না।

আফসোস, আমরা নিজেদের জন্য কেবল এই দুনিয়াকে বেছে নিয়েই সন্তুষ্ট আছি। অথচ আমাদের অবস্থা তো কোরআন আমাদের জানাচ্ছে,

لَوْ نَشَاءُ أَصَبْنَاهُمْ بِذُنُوبِهِمْ وَنَطْبَعُ عَلَى قُلُوبِهِمْ فَهُمْ لا يَسْمَعُونَ

আমি চাইলে তাদেরকেও তাদের গুনাহের কারণে মুসিবতে আক্রান্ত করতে পারি। এবং (যারা উপেক্ষা করে এবং নিজেরা হঠকারী মনোভাবের জন্য শিক্ষা গ্রহণ করে না) আমি তাদের অন্তরে মোহর করে দেই, ফলে তারা কোনও কিছুই শুনতে পায় না। (আ‘রাফ ১০০)

ক্বাবার রবের শপথ, এই মোহর পড়ে যাওয়া অন্তরের জন্যই আজ আমাদের এই দূর্ভোগ। এই ইতিহাস, এই সত্য আজ আমাদের হৃদয় স্পর্শ করে না!
কপি #দ্বাদশ ব্যক্তি
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:১১
১৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আকাশের ক্যানভাসে আঁকা এক ছবি

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ১০:৩৭


শেষ বিকেলের মিষ্টি নরম আলোয়,
চঞ্চল মেঘের দল আবির মেখে লাল।
সেই রূপবতী মেঘ দেখে হঠাৎ আমার ইচ্ছে হলো
এবার আঁকবো আমার স্বপ্নগুলো আকাশের ক্যানভাসে।
এই ভাবনার সাথে একাত্মতা ঘোষণা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাস্কর্য - মূর্তি দ্বন্ধ : প্রকৃত সত্যের স্বরূপ সন্ধান

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:৫০

ভাস্কর্য না মূর্তি?
ভাস্কর্য বিরোধীতায় সরব এক পক্ষ। যাদের নেতৃেত্ব আছে হেফাজতে ইসলাম নামের এক দল। অতিসম্প্রতি হেফাজতের আমির বাবুনগরী সাহেব বললেন- যদি কোথাও কোনো ভাস্কর্য হয়, যে দলই করুক, টেনেহিঁচড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নোভা কেন আত্মহত্যা করলো?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ২:৫৩



মেয়েটার নাম নোভা।
বিদেশে থাকে। নোভা বাংলাদেশে বেশ কয়েকবার আগ্রহ নিয়ে এসেছে। কিন্তু তিন মাসের জন্য এলেও, অল্প কয়েকদিন থেকে চলে গেছে। এই দেশ তার ভালো লাগে না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামিক দলগুলো শেখ হাসিনাকে বাজিয়ে দেখছে

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৮:২৬



দেশের অবস্হা দেখে মনে হচ্ছে, রাজনৈতিকভাবে শেখ হাসিনা ঠিক আগের মতো শক্তিশালী নন; দেশের ইসলামিক দলগুলো এই ধরণের সময়ের জন্য অপেক্ষা করছিলো। ইসলামিক দলগুলো শেখ হাসিনার পক্ষে কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি বাংলাদেশ বলছি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৯:২৬



প্রিয় দেশবাসী,
কিছুদিন যাবত অত্যন্ত বেদনা নিয়ে লক্ষ্য করছি ভাস্কর্য বনাম মূর্তি নিয়ে সবাই আলোচনা করছেন সমালোচনা করছেন। কেউ ধর্মের পক্ষ নিচ্ছেন, কেউ আধুনিকাতার পক্ষ নিচ্ছেন, কেউ হয়তো শিল্পমনার পরিচয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×