somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পতিতা

২৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১১:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আগার তাহার বিভীষিকাভরা ,_জীবন মরণময়!
সমাজের বুকে অভিশাপ সে যে,_সে যে ব্যাধি,_সে যে ক্ষয়;
যৌনকর্মীদের সম্পর্কে জীবনানন্দ দাশের ভাবনার খোঁজ পেলাম ঝরা পালকে। কবিতার নাম পতিতা। একেবারে সাধারণ মধ্যবিত্তের ভাষা। ভালোবাসার লেশ মাত্র নাই পতিতাদের প্রতি। অন্তত প্রথম লাইনে। আর কবিতার প্রথম দুই লাইনে অনেক নেতিবাচক শব্দের মিছিল। বিভীষিকা, জীবন মরণময়, অভিশাপ, ব্যাধি এবং সবোর্পরি ক্ষয়।

প্রেমের পসরা ভেঙে ফেলে দিয়ে ছলনার কারাগার
রচিয়াছে সে যে, _দিনের আলোয় রুদ্ধ করেছে দ্বার!


বিস্ময়! কীভাবে পারে যৌন কর্মী? যার জন্য সবচেয়ে বড় ত্যাগ দেখায় মানুষ,_সেটা প্রেম। আর কবিতো হয় প্রেমের পূজারী। সেই প্রেমের পসরা যখন অবলীলায় ভেঙে দিয়ে ছলনায় বন্দী করে প্রেমিককে তখন তা কারাগার লাগে। বোঝতে পারে কী পুরুষ? যা প্রেমে হয় ছলাকলা, হয় শীৎকারের মধুময় স্মৃতি, তা দিয়েই কারাগার বানায় যৌনকর্মী। তাকে হতে হয় আরো কৌশলী। সে আফিমওয়ালী, সে বাঁধে , সে ভূলায়।

সূর্যকিরণ চকিতে নিভায়ে সাজিয়াছে নিশাচর,
কালনাগিনীর ফণার মতন নাচে সে বুকের “পর!

সমান্তরাল এক সমাজে যৌনকর্মীদের চলে যাবার বিষয়টি অবশ্য ভালো লিখেছেন জীবনানন্দ। যাকে ভদ্রলোকরা বলে অসামাজিক। ওরা হয়তো সমাজবদ্ধদের বলে ভদ্দরনোক!

চক্ষে তাহার কালকূট ঝরে,_বিষপন্কিল শ্বাস,
সারাটি জীবন মরীচিকা তার,_প্রহসন পরিহাস!
ছোঁয়াচে তাহার ম্লান হয়ে যায় শশী তারকার শিখা,
আলোকের পারে নেমে আসে তার আঁধারের যবনিকা!


হ্যা, এইতো পাওয়া গেলো জীবনান্দকে। যে লিখেছে, চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদীশার নিশা......
তাঁর হাতেই আসতে পারে এমন নেতিবাচক বর্ণনা। আর এক কথাতেই এক অনিশ্চিত অথচ সামনেই অনাবিল আনন্দের হাতছানি মাখা সময়ের স্বপ্নে বিভোর এক জীবনের ছবি আঁকা।

সারাটি জীবন মরীচিকা তার,_ প্রহসন পরিহাস।
কার সাথে এই প্রহসন?

নিজের সাথে? সমাজের সাথে? নিজের বলতে তাহলে কী বোঝাবে? আর কীই বা সমাজ তার কাছে, যে সমাজে লুকিয়ে থাকে আর তার দু উরুতে আশ্রয় নিতে যায় সমাজপতিরা?

কবিতার শেষ দুই লাইন আরো বিস্ময়কর। জীবনানন্দ লিখেছেন,


সে যে মন্বন্তর,_মৃত্যুর দূত,_অপঘাত,_মহামারী,
মানুষ তবু সে,_ তার চেয়ে বড়ো,_সে যে নারী, সে যে নারী!

জীবনানন্দের ভেতরের কবি সত্ত্বা বেরিয়ে এলো শেষ লাইনে। এতো কিছু বলার পরও ভুলতে পারলেন না, যাকে বলা হলো এতোসব নেতিবাচক শব্দ সে,_ মানুষ । মানুষের চেয়েও বড় হয়ে ওঠলো যে বিষয়,_ তা হলো নারী। সে কি বিস্ময় কবির। একই লাইন দুইবার লিখলেন তিনি। সে যে নারী,_ সে যে নারী । তার আগে গালাগালি করতেও ভুললেন না তিনি। মহামারী, অপঘাত,মন্বন্তর,মৃত্যুর দূত এসবতো ভদ্রলোকের গালিই হয়।

তা হলে জীবনানন্দ কি বলতে চাইলেন মানুষ এতো নেতিবাচক হতে পারে। নাকী বললেন এতো কিছু নেতিবাচক থাকার পরও নারী বিস্ময়কর?
কবিতাটি পড়ার পর থেকে ভাবছি তা....

এবার একটা গল্প বলি।
জীবনান্দের বাড়ীতে এক মহিলা ভাড়া থাকতেন। তিনি ছিলেন বাঈজী। প্রতিদিন সন্ধ্যায় তার বাসায় গানের আসর বসতো। আসতো অনেক লোক। প্রভাবশালীরাও আসতো সেখানে নিয়মিত। ফলে সে ভাড়াটেকে উচ্ছেদ করতে পারছিলেন না তিনি। আবার প্রকৃতিপ্রেমী এই কবি কোলাহলটা মেনে নিতেও পারছিলেন না। সেটা তাঁকে অনেক বিরক্ত করেছিলো। আর কতোটা বিরক্ত হলে একজন কবি এমন একটা কবিতা লিখতে পারেন!!!!!!!!!!!

৬টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×