somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আইনের শাসন আর ন্যায়ের শাসন একনয়।

৩১ শে মার্চ, ২০১৫ সকাল ১১:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশ্বকাপ ক্রিকেট শেষ হলো। কিন্তু টিভি সেটে বসে একটি দিনও খেলা দেখিনি। হয়ত নেটে একটু স্কোরটা দেখলাম মাঝে মাঝে। অথচ খেলার প্রতি দুর্বলতা যে নেই তা কিন্তু নয়। না দেখার দুটি প্রধান কারন হলো এক. কাজের ব্যস্ততা, দুই. খেলা হলো আনন্দ উল্লাস হাসি তামাশা ঠাট্ট্রা মশকরা বিনোদনের একটা মাধ্যম। যেই মুহুর্তে মানুষ চলাচল করতে পারছেনা, কেউ ঘরেও থাকতে পারছে না, ব্যবসা খারাফ, চাকুরী চলে যায়, পড়ালেখা নষ্ট, আয় রোজগারে কষ্ট, অভাব, অনটন, হাহাকার, চিৎকার, পেট্রোল বোমায় পুড়ে অঙ্গার, ক্রসফায়ার, হত্যা, খুন, গুম, পঙ্গুত্ব, যন্ত্রনা, বেদনা, নিরপরাদ মানুষের কারাবাস এই চিত্র সামনে নিয়ে বিনোদন করতে সত্যি মন চাইছিলোনা।
যাক আসল কথায় আসা যাক এই বিশ্বকাপে ভারত বাংলাদেশ ম্যাচে যা হলো সবই সবাই দেখেছেন, আমার কাছে যেটি ভালো লেগেছে সেটি হলো অন্যায় দেখার পর পুরো জাতির এক হয়ে যাওয়া, একক চিন্তার বর্হিপ্রকাশ। এই এক হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে যদিও খেলার ফলাফল পাল্টেনি তবু যালেম শাসক ও বিচারকের অন্যায় বিচারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভতো প্রকাশ করা গেছে। মানুষের এই গর্জে ওঠা কিন্তু অন্যায় কারী, যুলুমবাজদের জন্য সতর্কবার্তা। কারন আমরা খারাফ খেলে হেরে যাব এতে আমাদের দু:খ নেই, কিন্তু ভালো খেলেও ষড়যন্ত্রের কাছে পরাজিত হওয়া বেশি দু:খজনক। আম্পায়ার রা হলো নিরপেক্ষ বিচারক তারা যদি পক্ষপাতিত্ব করে, তারা যদি অন্যায় সিদ্ধান্ত দেয়, তাহলে আর যাবইবা কোথায়। সরকার যেভাবে পছন্দমত কোর্ট পাল্টায়, বিচারক পাল্টায় তেমনি আইসিসি কর্তৃপক্ষ তারা যদি একজনের পক্ষ নিয়ে মাঠ পাল্টায়, পিচ পাল্টায় তাহলেতো দুর্বলদের জন্য করার কিছুই থাকেনা। আর থার্ড আম্পায়ার যিনি স্বাক্ষী দিবেন তিনিও যদি রিপ্লেতে দেখেন যে মাহমুদ উল্যাহ ৬ মেরেছে, ক্যাচ হয়নি। লাইনে পা লেগেছে, তবুও তিনি সঠিক স্বাক্ষ্য না দেন, কোন ব্যক্তি যে এলাকায় কোনদিনও যায়নি অথচ তাকে ঐ এলাকায় গনহত্যার জন্য ফাঁসি দেওয়া হলো, তাহলে দর্শকরা কি সঠিক বিষয়টা ধরতে পারবেনা। পারবে। বিচারকের রায়ের মত আম্পায়ারের রায়ও পরিবর্তনযোগ্য নয়, সেটাই আইন। আইনের দৃষ্টিতে ভূল রায়ের ভিত্তিতে কাউকে ফাঁসি দিলেও আম্পায়ারের কিছু হবেনা। ।কারন বাংলাদেশ ফিরে পাবেনা তার সেমিফাইনালে ওঠার কোন সুযোগ কিন্তু দর্শক আইনের বিচার মেনে নিলেও কিন্তু ন্যায় বিচার না হওয়ায় তারা অন্তর থেকে ধিক্কার জানাবেই্। কারন বিচারকদের আইনরে শাসনে অন্যায় রায় হলে মেনে নিতে বাধ্য হলেও ঐ আম্পায়ারদের ঘৃনা করতে, আইসিসি সরকারকে প্রতিবাদ করতে পুরো জাতির এক হয়ে যাওয়া সত্যিই যালেমদের জন্য সতর্কবার্তা। আইসিসি ও আম্পায়ারদের ষড়যন্ত্র ও ভূলরায়ে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি হয়ত, কিন্তু সারা দুনিয়াতে বাংলাদেশ যে ভালোবাসা সহমমির্তা পেয়েছে, আর আইসিসি ও আম্পায়াররা যেই ঘৃনা পেয়েছে, কোনটির প্রভাব বেশি সেটা ইতিহাসই বলে দিবে, যেমনিভাবে ভূলরায়ে ফাঁসি হওয়া ব্যক্তিকে ফিরে পাবনা, কিন্তু সারা দুনিয়ায় যে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন তিনি এবং মানুষের যে ক্ষোভ ঘৃনা যালেমের প্রতি তার বিচারও ইতিহাস একদিন করবে। এটুকুই প্রমান হলো আইনের শাসন আর ন্যায়ের শাসন একনয়।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×