somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্মব্যবসায়ী-রাজাকার-জামাইত্যারা মুক্তিযুদ্ধকালে ধর্মের নামে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছিল -একজন সাক্ষীর বর্ণনা

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ৯:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জামাত নেতা আলী আহসান মুজাহিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের প্রথম সাক্ষী সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেছেন, জামাত মুক্তিযুদ্ধকালে ধর্মের নামে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছিল।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনালে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী সভাপতি শাহরিয়ার কবির (৬২) আসামীপক্ষের জেরাকালে আজ বুধবার এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের পর তৎকালীন পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলো তিনভাগে বিভক্ত ছিল। যথা- জাতীয়তাবাদী, ইসলামপন্থী ও কমিউনিজম বা সোসালিজমপন্থী। কমিউনিজমকে অনেক সময় আন্তর্জাতিকতাবাদের অনুসারি বলা হয়। যে অর্থে কমিউনিজমকে আন্তর্জাতিকতাবাদের অনুসারি বলা হয় সে অর্থে জামাত অনুসারিদেরও আন্তর্জাতিকতাবাদের অনুসারি বলা হয়।...
তিনি বলেন, কমিউনিজম সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না। আমি এবং আমার সংগঠন মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক, ধর্মব্যবসায়ীদের ধর্মের নামে রাজনীতি করার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি। কারণ, আমরা মনে করি ধর্ম পবিত্র বিষয়। ধর্মকে রাজনীতির ভেতর টেনে এনে কলুষিত করা উচিত নয়। ১৯৭১ সালে ধর্মের নামে জামাত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছিল।
তিনি বলেন, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত জামাতের সংসদ সদস্যরা সংবিধান অনুযায়ী শপথ করা জামাতের হিপোক্রেসি বা ভন্ডামি। কারণ জামাত ইসলামী তাদের দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বাংলাদেশের সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদের বিরোধী। আমাদের সংবিধানে জনগণের সার্বভৌমত্বের কথা বলা হয়েছে। জামাত তা মানে না।’
জবানবন্দিতে শাহরিয়ার কবির বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালে পাকবাহিনীর সহযোগী হিসেবে মুজাহিদের নেতৃত্বে আল-বদর বাহিনী ও অন্যান্য সহযোগী বাহিনীগুলো মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ ব্যাপক গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘঠিত করেছে।...
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ নভেম্বর বদর দিবস উপলক্ষে এক আল-বদর সমাবেশে মুজাহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের পাকিস্তান এবং ইসলামের দুশমন ও ভারতের এজেন্ট উল্লেখ করে তাদের খতম করার শপথ পরিচালনা করেছিলেন। তাদের এই তথাকথিত শপথ হচ্ছে মরণপণ সংগ্রামে নিয়োজিত বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য নিবেদিত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সহযোগী দেশের সর্বস্তরের মানুষের বিরুদ্ধে। কারণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল প্রকৃত অর্থেই একটি জনযুদ্ধ।
সাক্ষী তার জবানবন্দিতে বলেন, রাজাকার, আলবদর, আল-শামসের ঘাতক বাহিনী জামাতের হাই কমান্ডের নিদের্শ অনুযায়ী বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ’৭১-এ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছিল।
সুপরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যা ১৯৭১ সালে আল-বদর বাহিনীর সবচেয়ে নৃশংস অপরাধ ছিল উল্লেখ করে শাহরিয়ার কবির বলেন, ’৭১ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত তালিকা প্রস্তুত করে আল-বদর বাহিনী হাজার হাজার বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের হত্যা করে। এই তালিকায় বরেণ্য সাংবাদিক আমার জেঠতুতো ভাই শহীদুল্লাহ কায়সার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার শিক্ষক অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, অধ্যাপক আনোয়ার পাশা, অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী অন্যতম।
গত ২১ জুন মুজাহিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ৭টি ঘটনায় ৩৪টি অভিযোগে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। এর আগে একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন মুজাহিদকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরের ২ আগস্ট এক আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়।
সূত্র: বাসস
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

লিখেছেন কাবিল, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৪


মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকীর্ণ মন

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩৮


রাস্তার মোড় যেনো সংকীর্ণ মন
ঘর উঠনে রাখবে আর কত কাল
চোখের নেশায় লালসার আগুন
জ্বলছে নিভবে না আর অমরণ

কখন মন জানালায় দেখেছ পায়রা
ভাবনার সফলী মাঠে যাচ্ছে উড়ে
দেখো নাই যে শান্তির পায়রা মন-
সংকীর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×