somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভীষণ মর্মান্তিক ...( মৃতু্যর সময় কতই না অনিশ্চিত!!!!!!!)

১৩ ই জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ১০:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"কক্সবাজার আসছি, তোর ওখানে থাকব", মোবাইলের ওপাশ থেকে কথা গুলো ভেসে এলো তাজিকের কণ্ঠে। চিটাগাং অনলাইনের(সি ও এল) সিইও তাহমীদ আনোয়ার তাজিক।
বললাম, " আমি তো ঢাকায়, রাতে রওয়ানা দেব, সকালে পৌঁছাব।"
বলল," ঠিক আছে সকালে দেখা হবে, আমরা তিনজন আসছি । আমি , সিদ্দিক আর রাজীব। থাকার জন্যে রেষ্ট হাউসে বলে দে..."

বলে দিলাম ফোন করে কক্সবাজারে রেষ্ট হাউসে। 13 জানুয়ারী বিকেল 5:15 এর মত সময় হবে তখন ঘড়িতে। কঙ্বাজারে আরেক বন্ধু সুমন আমার রুমে আমার সাথে থাকে , জিপিতে আছে। ফোন ধরল ঘুমাতে ঘুমাতে। সুমন কে ওরা আমার আগেই কল দিয়েছিল। সুমন কে আরও বলে দিলাম রেস্ট হাউস এ ওদের কে নিয়ে যেতে।

সময় কাটছিল বাসায় একা একা চিন্তায়; আব্বু অসুস্থ , ও অবস্থাতেই আপুর বাসায় গেছে সবাই । রাতে 10:50 এ বাসে উঠতে হবে। একটু নেট এ ঢুকলাম। কদিন সময়ই পাইনি। ব্লগের কৌশিক দার সাথে কথা হলো ...এবং কিছুক্ষণ পরেই সুমন ফোন দিল। ঘুম কেটেছে তখন। বলল," ওরা কখন রওয়ানা হয়েছে রে? সিদ্দিকের মোবাইল বন্ধ পাচ্ছি, তাজিকের নম্বরটা এসএমএস করে পাঠা।"

একটু পরেই সুমনরে কল এল।আটটার মত বাজে তখন মোবাইলের ঘড়িতে । কিছু বুঝে ওঠার আগেই অকস্মাৎ কানে এল সুমনের কণ্ঠ থেকে যন্ত্রের মত তরঙ্গে দুর্ঘটনার খবর। মাথায় ঠিক ক্যাচ করতে পারছিলাম না প্রথমে। কিন্তু স্পষ্ট শুনলাম। ওদের প্রাইভেট কারে চকোরিয়ার কাছে কোথাও মারাত্মক একসিডেন্ট ঘটেছে। সিদ্দিক স্পট ডেড।
ওহ নো। সুমন বলল ও কঙ্বাজার থেকে রওয়ানা দিচ্ছে ওফিসের গাড়ী নিয়ে চকোরিয়ার দিকে। ভ্যাবাচ্যকা অবস্থা , বুঝতে পারছিনা কি করব।
শাহরিয়ার কে জানালাম। তাজিকের বাসায় বা অফিসে বললাম জানায়ে দিতে। ফোন করলাম সিদ্দিকের মোবাইলে , উদ্ধারকারী স্থানীয় কোন একজন কথা বলল। ঐ ব্যক্তিই সুমন কে জানায়। জানলাম আরেকটু তার কাছ থেকে। ফোন করলাম তাজিকের বাসার নম্বর জানতে পারে এমন আরোও দুএকজন কে। ...

...ভীষন মন খারাপ নিয়ে যখন বাসে উঠছি সুমন খবর দিল রাজীব ও মারা গেছে। আার তাজিককে চিটাগায় মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে।...
কি করুন , দুটি তরতাজা প্রাণ নিমেষে ঝরে গেলো। কি মর্মান্তিক। কি হৃদয়বিদারক। উহ!
সিদ্দিক , কি প্রচন্ড মেরিটোরিয়াস একটি ছেলে । স্ট্যান্ডার্ট চার্টাড ব্যাংক এ জব করত। এইতো কদিন আগেই ঘুরে গিয়েছিল আমার এখান থেকে। বিশ্বাস করতে মন চায়না। আজ সে নেই। রাজীবের সাথে দেখা হয়নি ভার্সিটি লাইফের পরে আর। বাইরে গিয়েছিল এম এস করতে শুনেছিলাম। ...আর কোন দিন রাজীবের সেই মায়া মায়া নিরীহ চেহারাটা দেখবনা। কত অল্প সময়ে কত কিছু অলটপালট হয়ে যায়।
আল্লাহ তায়ালা ওদের দুজনের মাগফেরাত দান করুন , দোয়া করি।
তাজিকের অবস্থা শুনলাম একটু ভাল । কিন্তু বুঝতে পারছিনা কতটা। সবাই দোয়া করবেন যে এখনও বেঁচে আছে সেই তাজিক যেন সুস্থ সবল হয়ে বেঁচে থাকে।

5 দিন পরে ব্লগে লিখছি। কিন্তু তাও এই করুন ঘটনা।
লিখতে গিয়ে বারবার কেঁপে কেঁপে উঠছে হাত। চোখ ছলছল। সারারাত গাড়ীতে কেটেছে উজাগর রাত। চোখ পুরো বন্ধই হচ্ছিল না বাসে। রাতে 2টায় সুমন চকোরিয়া হতে ফিরেছে কক্সবাজার। ওর মুখে শুনলাম দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আরও খানিক। সিদ্দিকের বিভৎস চেহারার ভয়াবহ বর্ননা। জানলাম চকোরিয়ার সেই দীর্ঘ স্পিড ব্রেকার বসানো জায়গাটাতেই ঘটেছে দুর্ঘটনা। তাজিক ড্রাইভ করছিল। হঠাৎ ব্রেকে গাড়ী ঘুরে যায় আর তখনই সামনে থেকে বোরাক বাস .....
কি ভীষন কষ্ট ...ওরা যে আমার এখানে রেষ্ট হাউসে থাকবে বলেছিল...

এই করুনন কাহিনী পোষ্ট করার পরই দেখলাম মিথিলা মনির দুঃখজনক মুতু্যর খবর। ...আচ্ছা একসংগে এত মৃত্যুর খবর কেন শুনতে হয়?

14ই জানুয়ারী2007
সকাল 9:40
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ১০:৫০
২০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

লজেঞ্জুষ খাওয়াবে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


বাতাসের নিঃশ্বাস, পিঠ ঠেকে যাচেছ
শহরের ধূলি বালির নর্দমার কাছে;
কখন চিৎকার করে বলে ওঠবে-
দূষিত নিঃশ্বাস তোমরা সরে যাও
তোমরাই স্বার্থপুরের রাক্ষস রাক্ষসী;
সাবধান বাতাসের কোটি নিঃশ্বাসগুলো
লজেঞ্জুষ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে-
খুব আদর করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৮৯

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫



মসজিদে বসে মদ খেতে দাও, অথবা সেই জায়গাটা দেখাও যেখানে আল্লাহ নেই।

বহুদিন ধরে গল্প লেখা হয় না!
অথচ আমার গল্প লিখতে ভালো লাগে। সস্তা প্রেম ভালোবাসা বা আবেগের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×