কস্মিনকালেও, মনে পড়েনা, জ্বালিয়েছি কি আগরবাতি,
বাস্তবতায় মুখথুবড়ে পড়ে থাকে বিধ্বস্ত বিমান,
তবুও বিমানের ভাঙা দরজার মাঝে উড়ে চলে রঙিন কল্প পাখি
ব্যতিব্যস্ত মনের সলতে ক্ষয়প্রাপ্ত হলো বলে...
দুচোখে সলতের মাঝে আঁধার আসবে কি ফিরে?
নির্জনতার চরম বাস্তবতা তো কাঁদালোই কাল
আঁধার সে তো আরোও পুরনো বন্ধু...
ভাবছি উচাটন মনে কাঁদাবে নাকি
নিজেকে নিজের মাঝে করবে আড়াল......( 12/2/07 সকাল 11টা)
এই মুহূর্ত অবধি আমার লেখা শেষ কয়েক ছত্র উপরের কালো অক্ষরগুলোর সমন্বয়। তখন বসে ছিলাম কক্সবাজার এয়ারপোর্টে । মনে আব্বুর চিন্তা। কখন পৌঁছাব। ওদিকে ঢাকা থেকে কেউ স্পষ্ট করে কিছু বলল না , শুধু বলল আসতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। মন কাঁদছিল। অনুভবে পাচ্ছিলাম তার প্রমাণ। জি এম জির বিমানে শেষ দুটো টিকেটের একটা সংগ্রহ করতে পেরেছিলাম। কিন্তু প্লেন আর আসেনা। এ এক আশ্চর্য তো আমি এয়ারপোার্টে ঢুকলেই বিমান লেট করবেই।
বসে বসে কষ্ট উপশমের ঔষধ কবিতার বাক্য চয়ন প্রচেষ্টা পালন করেও অসফল ...অবশেষে ঢাকা পেঁৗছেছিলাম , দ্রুত সিএনজি নিয়ে পেঁৗছেওছিলাম সোহরাওয়ার্দি হাসপাতালের জরুরী বিভাগে। ভাগ্য বিশ্বাসী হলে মানতেই হবে হয়তো ভাগ্যে ছিল শেষ দেখা তাই তখনও কষ্ট করে আত্মাকে ধারন করে ছিলেন নিদারুন কষ্ট সহ্য করে আমার বাবা অথবা ভাগ্যে অবিশ্বাসী হলে ধরে নিতে হবে বাবাকে দেখতে চাইবার আমার করুন অভিলাষ আমাকে তার মৃতু্যর ঘন্টা পাঁচেক আগে অন্তত তার পাশে বসে তাঁর জীবন সায়াহ্নের কষ্ট পালন দর্শন সম্ভব করেছে।
এইতো মাত্র দুদিন আগে শনিবার রাতে আমার বই দেখছিলেন , কথা বলছিলেন সবার সাথে, মাত্র একদিন পরেই সেই একই মানুষের কথা বলার আর কোন সাধ্য নেই , হাসপাতালে রবিবার কথা বলেছিলেন উপস্থিত আত্মীয় স্বজনের সাথে। সোমবার সকালেও দুএকটা কথা বলেছেন। কথা বলতে চেয়েছিলেন আমার সাথে আর আপুর সাথে। আমরা দুজনেই কথা বলতে পারিনি। জানিনা শেষ মুহূর্তে আমার উপস্থিতি ও অনুভব করতে পেরেছিলেন কিনা। শেষ নিশ্বাসের কমিনিট আগে মাত্র একবারই চোখ মেলে তাকিয়েছিলেন আমার পানে। সে এক জটিল ভাষা যেন ছিল সে চাহুনী। সে চাহুনীই বলে দিচ্ছিল সময়ের কাছে পূর্ণ পরাজয় বাবার। সে চাহুনী তাই চোখে জল এনেছিল আমার মত কান্নার জল অবিলুপ্ত মানুষটিরও চোখে। তারপরই নিথর আমার বাবার দেহ...
কান্নাকে বন্ধু হিসেবে আহ্বান করতে পারলাম না, তাকে অন্যসবার জন্যে ত্যাগ করতে ই হলো। সে হোক আমারা বাবার এত এত গুনগ্রাহীর সম্পত্তি। আর আম্মু যে পরিমাণ কান্নার ভাগ দখল করে নিয়েছেন , আমি আর পাই কোথা? কিন্তু কষ্ট যে এই দুনিয়ার আকাশে বাতাসে অফুরন্ত , কান্নার নির্দিষ্ট আসন গুলোতেও সে অজান্তে জাগিরদার হয়ে এল । সকালের সেই ক লাইন কবিতার মতো অাঁধার বন্ধু হয়েই থাকল, উচাটন মন মরু ভূমিতে হারাল সত্ত্বা আর নিজেকে নিজের মাঝে করলো যেন আড়াল। তাই বুঝি এই নির্জনতায় বসে এখন চোখে উপস্থিতি ঠাওর করছি কান্নার জলের।...
=========
ছবি ঃ আমার তোলা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
