somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিজেকে কি নিজের মাঝে আড়াল করা যায়?-

১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ১০:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মোহিনী আগরবাতির গন্ধ নাকে আসছে কেনো ?
কস্মিনকালেও, মনে পড়েনা, জ্বালিয়েছি কি আগরবাতি,
বাস্তবতায় মুখথুবড়ে পড়ে থাকে বিধ্বস্ত বিমান,
তবুও বিমানের ভাঙা দরজার মাঝে উড়ে চলে রঙিন কল্প পাখি
ব্যতিব্যস্ত মনের সলতে ক্ষয়প্রাপ্ত হলো বলে...
দুচোখে সলতের মাঝে আঁধার আসবে কি ফিরে?
নির্জনতার চরম বাস্তবতা তো কাঁদালোই কাল
আঁধার সে তো আরোও পুরনো বন্ধু...
ভাবছি উচাটন মনে কাঁদাবে নাকি
নিজেকে নিজের মাঝে করবে আড়াল......( 12/2/07 সকাল 11টা)

এই মুহূর্ত অবধি আমার লেখা শেষ কয়েক ছত্র উপরের কালো অক্ষরগুলোর সমন্বয়। তখন বসে ছিলাম কক্সবাজার এয়ারপোর্টে । মনে আব্বুর চিন্তা। কখন পৌঁছাব। ওদিকে ঢাকা থেকে কেউ স্পষ্ট করে কিছু বলল না , শুধু বলল আসতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। মন কাঁদছিল। অনুভবে পাচ্ছিলাম তার প্রমাণ। জি এম জির বিমানে শেষ দুটো টিকেটের একটা সংগ্রহ করতে পেরেছিলাম। কিন্তু প্লেন আর আসেনা। এ এক আশ্চর্য তো আমি এয়ারপোার্টে ঢুকলেই বিমান লেট করবেই।
বসে বসে কষ্ট উপশমের ঔষধ কবিতার বাক্য চয়ন প্রচেষ্টা পালন করেও অসফল ...অবশেষে ঢাকা পেঁৗছেছিলাম , দ্রুত সিএনজি নিয়ে পেঁৗছেওছিলাম সোহরাওয়ার্দি হাসপাতালের জরুরী বিভাগে। ভাগ্য বিশ্বাসী হলে মানতেই হবে হয়তো ভাগ্যে ছিল শেষ দেখা তাই তখনও কষ্ট করে আত্মাকে ধারন করে ছিলেন নিদারুন কষ্ট সহ্য করে আমার বাবা অথবা ভাগ্যে অবিশ্বাসী হলে ধরে নিতে হবে বাবাকে দেখতে চাইবার আমার করুন অভিলাষ আমাকে তার মৃতু্যর ঘন্টা পাঁচেক আগে অন্তত তার পাশে বসে তাঁর জীবন সায়াহ্নের কষ্ট পালন দর্শন সম্ভব করেছে।
এইতো মাত্র দুদিন আগে শনিবার রাতে আমার বই দেখছিলেন , কথা বলছিলেন সবার সাথে, মাত্র একদিন পরেই সেই একই মানুষের কথা বলার আর কোন সাধ্য নেই , হাসপাতালে রবিবার কথা বলেছিলেন উপস্থিত আত্মীয় স্বজনের সাথে। সোমবার সকালেও দুএকটা কথা বলেছেন। কথা বলতে চেয়েছিলেন আমার সাথে আর আপুর সাথে। আমরা দুজনেই কথা বলতে পারিনি। জানিনা শেষ মুহূর্তে আমার উপস্থিতি ও অনুভব করতে পেরেছিলেন কিনা। শেষ নিশ্বাসের কমিনিট আগে মাত্র একবারই চোখ মেলে তাকিয়েছিলেন আমার পানে। সে এক জটিল ভাষা যেন ছিল সে চাহুনী। সে চাহুনীই বলে দিচ্ছিল সময়ের কাছে পূর্ণ পরাজয় বাবার। সে চাহুনী তাই চোখে জল এনেছিল আমার মত কান্নার জল অবিলুপ্ত মানুষটিরও চোখে। তারপরই নিথর আমার বাবার দেহ...
কান্নাকে বন্ধু হিসেবে আহ্বান করতে পারলাম না, তাকে অন্যসবার জন্যে ত্যাগ করতে ই হলো। সে হোক আমারা বাবার এত এত গুনগ্রাহীর সম্পত্তি। আর আম্মু যে পরিমাণ কান্নার ভাগ দখল করে নিয়েছেন , আমি আর পাই কোথা? কিন্তু কষ্ট যে এই দুনিয়ার আকাশে বাতাসে অফুরন্ত , কান্নার নির্দিষ্ট আসন গুলোতেও সে অজান্তে জাগিরদার হয়ে এল । সকালের সেই ক লাইন কবিতার মতো অাঁধার বন্ধু হয়েই থাকল, উচাটন মন মরু ভূমিতে হারাল সত্ত্বা আর নিজেকে নিজের মাঝে করলো যেন আড়াল। তাই বুঝি এই নির্জনতায় বসে এখন চোখে উপস্থিতি ঠাওর করছি কান্নার জলের।...


=========
ছবি ঃ আমার তোলা
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ১০:৫২
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Dual Currency Card Needed for Meta Monetization. Urgent National Interest.

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬

ছবি

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছি প্রায় চল্লিশ মিনিট। এক জায়গায় এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে সাধারণত দুই ধরনের সন্দেহ হয়- এক, লোকটা কিছু করতে এসেছে। দুই, লোকটার করার কিছু নেই। আমি কোনোটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

’দেশ বিক্রির অভিযোগ, কাঠগড়ায় ইউনূস–জামাত–বিএনপি–এনসিপি”

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:১৩

’দেশ বিক্রির অভিযোগ, কাঠগড়ায় ইউনূস–জামাত–বিএনপি–এনসিপি”
==========================================
চুক্তি মানেই তো স্বার্থের ভারসাম্য। কিন্তু সেই ভারসাম্য যখন দেশের স্বার্থকে উপেক্ষা করে, তখন সেটি আর চুক্তি থাকে না প্রশ্নবিদ্ধ সমঝোতায় পরিণত হয়। ইউনূসের শেষ সময়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুপ্তদের সকল অপকর্মের তদন্ত হোক....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৪৮


সময় যত যাচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে অস্বস্তিকর সত্য!
সময় গড়িয়ে যাচ্ছে- আর অতীতের অনেক ঘটনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ, সাক্ষ্য ও তথ্য সামনে আসছে-
যেখানে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষকের মর্যাদা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৩


কবিতাটার কথা কি মনে আছে? বাদশাহ আলমগীর একদা প্রভাতে গিয়ে দেখলেন, শাহজাদা এক পাত্র হাতে নিয়ে শিক্ষকের চরণে পানি ঢালছে, আর শিক্ষক নিজ হাতে নিজের পায়ের ধূলি মুছে সাফ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:০৯

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গত এক দশকে ব্যাপক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×