====================================
ভবিষ্যত দেখার ক্ষমতা কোন মানুষের আছে বলে আমি বিশ্বাস করিনা। কোন পরিস্থিতি নিয়ে তাই পর্যালোচনা , আলোচনা বা সমালোচনা অথবা গবেষনার প্রেক্ষিত তাই কেবল বর্তমান আর অতীতই । তবে মানুষের দূরদর্শীতা বলে একটি বৈশিষ্ঠ্য মানুষের মাঝে বিদ্যমান। আর এই দূরদর্শীতা র গভীরতা নির্ভর করে একজন মানুষের অতীত আর বর্তমানের বিশ্লেষনের দক্ষতার উপর।
বিশ্লেষনের জন্য যে পরিমাণ জ্ঞান দরকার সে পরিমাণ আমার ঘটে যথেষ্ট না বলেই জানি। তবুও মাঝে মাঝে বিশ্লেষনরে স্বপ্রনোদন জাগ্রত হয় ঘুর্ণিপাকের মস্তিষ্কে।
বুদ্ধির কালে আমার দর্শনের মাঝে যতটা স্মৃতি এই দেশের আর্থসামজিক আর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের তার মাঝে অরাজকতা নামক একটা ঘুনে বাস্তবতা প্রতিটা সরকারের আমলেই বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছে। তাই একটা পরিবর্তনের ঘনঘটা আশা করেছে প্রাণের যে অংশটি দেশপ্রেম ধারন করে কিঞ্চিৎ হলেও সেখানটা। একটা স্বার্থক ফলপ্রশু, দেশের জন্য যথার্থ পরিবর্তন সেখানে মূখ্য।
অবশেষে একটা পরিবর্তন দেখলাম বিশেষভাবে হঠাৎকরে যেদিন জরুরী অবসহার মাধ্যমে বর্তমান তত্তাবধায়ক সরকার ক্ষমত দখল কর সেদিন থেকে।
বিগত কয়েকমাসে দেশের উদ্ভুত রাজনৈতিক জটিলতার মাঝে একটা সামরিক কু এর আশঙ্কা জাগ্রত হতেই পারত। কিন্তু সে ক্ষেত্রে বাস্তবতা বা বর্তমান প্রেক্ষিত ইন্ধন যোগাচ্ছিল না মনে হয়। কু এর ক্ষেত্রে এর আগে দেখা গেছে বৈদেশিক একটা প্রচ্ছন্ন সাপোর্ট দরকার। সেটা প্রায় অসম্ভব ছিল কোন কারনে ( পত্র পত্রিকা পড়ে এবং বিদেশিদের প্রচ্ছন্ন হুমকি গুলো অনেকটা তারই প্রমাণ)।
কোন কোন অদৃশ্য হাতের ছোঁয়ায় বা আশীর্বাদে অথবা শুভ বুদ্ধির উপলব্ধিতেই কারও সামরিক কু না হলেও সামরিক শক্তির ছত্র ছায়ায় জরুরী অবস্থার নানা শক্তির সুবিধা নিয়ে নতুন অন্তবর্তীকালীন সরকার বা তত্তাবধায়ক সরকার দেশে বিপুল আলোড়ন এবং কঠোরতা নিয়ে জনগণের আশা পূরণের স্বপ্ন দেখাতে ও বাস্তবায়নে ব্রতী হয়ে এলেন। এরই মধ্যে বিশিষ্ঠ ব্যক্তি স্বাধীনতা উত্তর একমাত্র বাংলাদেশী নোবেল জয়ী বিতর্কিত ডঃ ইউনূস এলেন স্ক্রীনের সামনে। নতন দল গঠনের এক ধূয়ো তুলে জনগনকে আবারও রাজনীতির তরঙ্গে আন্দোলিত করলেন।
এসবই সবার জানা। নিজেকই একটু ঝালিয়ে নিলাম। কারন আছে। আজকে সন্ধ্যতেই এক বন্ধুর প্রশ্নে কিছুটা ভ্যাবাছ্যাকা খেতে হয়েছে। ..........( পরে আসছি সে কথায়)
বর্তমানের টক অফ দা কান্ট্রি নিসন্দেহে ডঃ ইউনূসের রাজনৈতিক দল গঠন। আজকে দেখলাম দলের নামও উনি উচ্চারিত করলেন আপন কণ্ঠে। নাগরিক শক্তি।
যে কেউ রাজনীতিতে নামতেই পারে। যে কোন সময় পারে। গনতন্ত , সমাজ তন্ত্র , ধর্ম তন্্র --যেকোন আকারেই পারে। তাই জানি।
কিন্তু ডঃ ইউনূসের ব্যাপারটাতে জনগণের বেশী ইন্টারেস্ট। কেন...
উনি তো আগে পরেও দল গঠন করতে পারতেন। জরুরী অবস্থাতেই কেনো?
এর আগে দেশের দুটি বড় দল ও বিশেষ অবস্তায় দল গঠন করে। একটি বি্এনপি আরএকটি জাতীয়পার্টি। এ নিয়ে বিশিষ্ট রাজনীতিবীদরা প্রশ্ন তুলেছেন দেখলাম টিভিতে। যে সব দলের ব্যাক্তিস্বার্থ ছিল ব্যপাক। যা আমরা তাদের সরকারের আমলে দেখেছিও ব্যপকভাবে।
ডঃ ইউনূসের সাথে পাশ্চাত্যের একটা সু সম্পর্ক বিদ্যমান বলেই হয়তো তার এই দল গঠনে ব্যাক্তি স্বার্থ ছাড়িয়ে সেই দেশের স্বার্থও দেখার প্রয়াস পাওয়া যায়।
ডঃ ইউনূসের গ্রামীন ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবস্থায় হত দরিদ্র মানুষদের ঋন প্রদানের মধ্যে যে বৃহৎতর মহৎ ভাবনা খুঁজে পাওয়া যায় তেমনি সেই দরিদ্রজনের অসফল অংশের কাছ থেকে কঠোরতার সাথে ঋণ আদায়ের নৃশংস প্রচেষ্টাও শুনতে পারা যায়। যদি তার এই ডবল স্টান্ডার্ট বুদ্ধি তাকে নোবেল এনে দিতে পারে তবে রাজনীতির মাঠে সফলতা এনে দিতেও পারে। বস্তুত তিনি যে বুদ্ধিমান এবং উচ্চ শিক্ষিত তাতেতো কোন সন্দেহ নেই।
এখন প্রশ্ন হতে পারে রাজনৈতিক সফলতা আসলে কি জিনিস? আজ থেকে চারমাস আগের প্রেক্ষাপট চিন্তা করলে দেখা যাবে। কখনও আওয়ামীলীগ কখনও বি এনপি আবর কখনও জামায়াত ইসলাম অথবা কখনও জাতীয়পার্টি রাজনীতিতে সফলতা ভোগ করেছে ব্যপক। তাতে জনগণের বা দেশের সফলতা ভুলুন্ঠিতও হয়েছে ব্যাপক। সে কারনইে সফলতা শব্দটারও দিক বৈচিত্র্য মানে দেখার উপর দ্ব্যর্থক ভাব ফ্থটে ওঠে।
আমার সদ্য প্রয়াত বাবা একটি কথা বলতেন, " বেশী ভালো ভালো না।" কথাটি বিবেচনায় এনে বর্তমান টক অফ দা কান্ট্রি কে নানা বিবেচনায় ফেলা যায় হয়তো।
বর্তমান তত্তাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের অনেকেরই আমেরিকাতে বহুদিন চাকুরীকাল , বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের অবাধ দৌড়াদৌড়ি এবং ইউনূস সাহেবের আমেরিকা প্রীতীর সন্দেহ--- এসব থেকে নেতিবাচক ধারনা আসতেই পারে ইউনূস সাহেবের দল গঠনের ব্যাপারে।
আমার মধ্যেও আসে।
বন্ধু সেইজন বলেছিল ---কেনো? বলেছিল, বিগত সরকার গুলোর কু শাসন ভোগের শাসন তো দেখা হয়েছে নতুন ডাইমেনশন সে দেখতে চায়। আর আমেরকিার আধিপত্য এই বর্তশান যুগে সর্বত্রই। অস্বীকার করার নেই। বিগত সরকার গুলো কি আমেরকিার কথা শোনেনি। তবে ইউনুস সাহেবের কেনো দোষ? আর উনি তো যে ওমন করবেন সেটার তো নিশ্চয়তা নেই। বিজ্ঞ মানুষ। নিশ্চয় নতুন কিছূ করে দেখাবেন। সুযোগ দিতে দোষ কি? পুরাতন রা তো পরিক্ষিত বিফল।
আর দেশে তো এখন বেশ পরিবর্তন। আইন বিভাগ আলাদা। আগের মতো কিছু করতে চাইলেও তার জন্যে অত সহজ হবেনা। বিরোধী দল গুলো স্ট্রং হেতু চোখে চোখে রাখবে।
বলেছিল এমন আরও অনেক কিছূ। আর সুধায়েছিল , কেনো আমরা নেতিবাচক টাই বারবার ভাবছি? অল্টার নেটিভ কাউকে তাইলে দেখাই না কেনো? কাউকে তো দিতে হবে ক্ষমতার ভার। আওয়ামীলগি বি এনপি বাদে সেটা কে?
উত্তর দেয়া অত সহজ ছিলনা আমার পক্ষে। আসলেই তো অল্টারনেটিভ কি সমাধান দেবো , কাকে দেখাবো যে বসতে পারে মসনদে।
মূলত দেশে ইউনূস সাহেবের দল গঠনের বিষয়ে চার ধরন দেখতে পাচ্ছি আমি
1) যারা তাকে অন্ধভাবে সুশীল আর বিজ্ঞ ভেবে সমর্থন করছেন।
2) যারা ভাবছেন উনি এলে হয়তো মন্দের ভালো হবে।
3) যারা ভাবছেন ইউনূস বিদেশি দালাল , মানে পূর্ণ নেতিবাচক ভাবনা
4) যারা কিছুই ভাবছেন না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
