তার চোখে দেখেছি আকাশের বিস্তৃতি। কপালে ছিল গোল বড় টিপ। যেন সূর্য উঠেছে। ঠিক তথাকথিত বাংগালী সমােেজ অতি সামাজিক মানুষেরা যাকে সুন্দরী বলে তেমনটি সে ছিলনা। কিন্তু আমি হলফ করে বলতে পারি বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগীতার স্টেজে উঠলে আর সকল কে ছেড়ে তার দিকে তাকাতেই হবে । সে ছিল তেমনই। শ্যামলা গায়ের ত্বকও যেন তার হেসে উঠত যখন মুক্তের মতো থরে থরে সাজানো দন্ত গুলো উন্মোচন করে সে হাসতেই থাকত। থামাতেই পারতনা সে হাসি। তার ঠোঁটযুগল যদি বলি বড় ভালবাসি, তাতে ভুল বলা হবে। ভালবাসার জন্যে মনের যতটুকু সূতোতে টান পড়ে তার চেয়েও অনেক বেশী টান অনুভূত হয় শুধু একবার , মাত্র একবার তাকালে তার সেই অধরে। নিপুণ বাংগালী সাজ তার পছন্দ ছিল। এবং মানাতো ও তাকে । চুলের মাঝে সহজ সোজা শিঁথির দিকে তাকিয়ে তাকে নিয়ে অনেক ভাবনা আর সহজ থাকত না। মন সর্বোত্তম ভাবে উদাস হতো। তার চম্পক অঙ্গুলীর হাতদুটো ধরতে গেলে প্রথম বার ঠোঁট বেঁকিয়েছিল। তারপর হেসেছিল সেই মাদক হাসি। তখন হাত ধরে ছিলাম । হাত ছাড়তে মন চায়নি। থামেনি হাসিও।
সেই আমি তাকে বলেছিলাম-পারবনা। পারবনা তাকে চিরদিনের সঙ্গী বানাতে। কেনো পারবনা হয়তো বলেছিলাম। কিন্তু জানি কেবল বলার জন্যেই বলা। নিজেও জানিনা কেনো ? তার টানা টানা কুচকুচে কালো চোখে সেদিন জল এসেছিল , তাও আমি হ্যাঁ বলবনা , পণ করেছিলাম যেনো।
বেশিক্ষণ সে কাঁদেনি। আমার মুখে তার নরম পাঁচ আঙ্গুলের চড় ফিরিয়ে দিয়েছিল তার অকৃত্রিম হাসি।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০০৭ সকাল ৭:৩৯