somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পেয়েছি দুজনেই পরাবর্তে...

২২ শে মার্চ, ২০০৭ সকাল ১১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


যখন কিছুই ভাল লাগেনা, ভাল লাগেনা একাকীত্বও।
অথচ এই একাকীত্বের প্রেমে পড়েই সেই সেবার বসন্তের বাতাসে একা দাঁড়িয়ে ছিলাম বেড়ি বাঁধের সেই কোনাটাতে। হিমেল বাতাসে উড়ছিল লাল ওড়না । তাকিয়ে ছিলাম। চোখে ঝরছিল তার সদ্য বেদনার জল। সে চলে যাচ্ছিল আমার কাছে চূড়ান্ত প্রত্যাখিত হয়ে। একাকীত্ব আমাকে সেদিন এতই উদ্বেল করেছিল , তার চোখের সে বিরহ কান্নার জল একটুও আলোড়িত করেনি। মনেই পড়েনি এই এখানেই এই বাঁধের উপর দাড়িয়ে আরও মাস ছয়েক আগে এক মেঘলা বিকেলে ও নারীই আমাকে বলেছিল ভালবাসার অমোঘ বাণী। তারপর দ্বৈত মুহূর্ত কত কেটে গেছে এখানেই এই নির্জনে। সরল বিশ্বাসে হাতে হাত সমর্পন তার কখন যে ঠোঁটের সমর্পনে পৌঁছেছিল ভাবার সময়ই ছিলনা কারও।

ওর বিয়েটা ভাঙার সাহস হয়নি, যদিও ও সাহসে কোমল হৃদয় ভরিয়েই এসেছিল আমার কাছে। কেঁদেছিল মনের সরোবর উজাড় করে। বেশী কিছু বলতে হয়নি। কেবল বলেছিলাম, এখনও মনে পড়ে স্পষ্ট, আমি ভালবাসি একাকীত্ব, বিয়ে দূর সেতা ভাবিইনি। বন্ধু হলে থাক। চলে গিয়েছিল। একাকী বাতাসে সুখ খুঁজে নিয়েছিলাম।

আজ কিছুই ভাল লাগেনা। ঢাকায় সকাল থেকে দুপুর চাকুরী করে কেটে যায় দিনের পর দিন। ছুটির দুদিনে ছুটে যাই চিরচেনা সেই বেড়ি বাঁধের ধারের আপন নিবাসে আমার চেনা মফস্বলে যখন আজকাল , বিস্তর একাকীত্ব আমাকে তুষ্ট করতে ছুটে আসে। ভাল লাগেনা। মনে হয় এ একাকীত্ব যেন আমার নয় , এ যেন কারও চোখ হতে ঝরে পড়া কান্নার দান। দানের একাকীত্ব কি আর আপন হয়। সে তো প্রভুর গুনকীর্তনই করে বারংবার। সেতো দৃষ্টিতে ফুটিয়ে তোলে কেবলই লাল ওড়না উড়তে থাকা এক দৃশ্য। এক নারীর অবনমতি মাথায় হেঁটে চলেছে কাঁদতে কাঁদতে।

স্মৃতিতে আজকাল কেবলই ভেসে ওঠে সেই নারীর মুখ। সেই নারী আমার একাকীত্ব চুরি করে নিয়েছে আমৃতু্য। মনের সাগরে আজকাল স্পষ্ট ঠাওর করি এক ভালবাসার বিলম্ব আলোড়ন ।

দেখা হয়ে যায় কদিন আগে এক শুক্রবারে। দাঁড়িয়েছিলাম সেই কোনায় বেড়ি বাঁধের। একাকীত্ব খুঁজছিলাম বরবারের মতো। আর বিফল হচ্ছিলাম। ওর সাথে ছিল এক বয়স্ক যুবক। আমার চেয়ে অন্তত দশ বছর বেশী তো হবেই। দামী পজেরোটা পার্ক করেছিল বাঁধের নিচে পাকা রাস্তার ধারে। নীল শাড়ি পরে ছিল। হেঁটে আসছিল বাঁধের উপর নদীর কিনারে। জোড়ার মাঝে কোন মানানসই মিল খুঁজে পায়নি আমার দৃষ্টি। কেতাদূরস্ত পোষাক আর দামী গাড়ি বলে দিচ্ছিল ওর অপরূপ সৌন্দর্যের যথার্থ মূল্য দেয়ার যথেষ্ট ক্ষমতা আছে ঐ বয়স্ক যুবার।

পাশ দিয়ে যাবার সময় চোখে চোখ পড়েই গিয়েছিল। সে চোখে ঘৃণা ছিল নাকি ভালবাসা বোঝার মতো যোগ্যতা আমার ছিলনা। তবে একাকীত্ব হননের ছাপ দেখেছিলাম স্পষ্ট। লতায় পাতায় সম্পর্কের ভাই পরিচয়টা করিয়েই দিয়েছিল ভদ্রতায় বড়োলোক স্বামীর সাথে। অনেক ক্ষণ কথা হলো । জানলাম অর্থ চিন্তায় ভরপুর হৃদয়ের একজনের বানিজ্য প্রসারের নানা কথা। জানালাম আমার তুচ্ছ চাকুরী। কথা সীমানা পাল্টেই নি। উনি তো অর্থ ছাড়া কিছু বোঝেই না।

অবাক হয়েছিলাম। এমন একজন কাঠ খোট্টা মানুষের সাথে ভালবাসয় ভরপুর হৃদয় নিয়ে কি করে বসবাস করছে ও। তাও একই ছাদের নিচে। ভাবছিলাম কতক্ষণ আর সময় দিতে পারে দ্বিগুন বয়সী ব্যবসায়ী মানুষটা তাকে।

ফোন আসছিল বারবার । এঙ্কিউজ মি বলে দূরে গিয়েছিল একটু উনি কোন গোপন ব্যবসায়ীক আলোচনায়। নিরব দাঁড়িয়ে একাকীত্বের বাতাস গায়ে মাখছিলাম দুজন। মনে হচ্ছিল এই তো সেই একাকীত্ব । কিছুক্ষণের জন্যে হলেও যেন আজ এসছে কাছে। নিরবতা ভেঙে এক ফাঁকে জিজ্ঞেস ও করে ফেলেছিলাম বোকার মতো , ' অনেক সুখে আছ না?' বলেছিল, ' দেখছোনা সোনা দানায় মুড়ে আছি, সুখে থাকবোনা কেনো?'

প্রশ্নের উত্তরে পাল্টা প্রশ্ন ভাবিত করেছিল। বুঝেছিলাম এ সুখ নয়। আর কোন কথা হয়নি। উনি ফিরে আসার আগ মুহূর্তটুকু আমি একাকীত্বের মাঝে ডুবে গেলাম এবং সম্ভাবত সেও ডুবে গেলো তার কাঙ্খিত দ্বৈত বোধে। কিন্তু তারপর চলে যেতেই , হাত নাড়া শেষ হতেই , সেই পুরানো ধরণ জীবনের।

কেউ একাকীত্ব খুঁজে খুঁজে আজ একাকীত্বের কাছেই পরাজিত, একাকীত্বই জাগায় কষ্টকর দ্বৈত বোধ। আর কেউ দ্বৈত মিলন, দ্বৈত বোধ খুঁজতে খুঁজতে আজ কত একা , কি ভীষন একাকীত্বে ডুবন্ত। সবই আমার জন্যে , আমার ভুলে।

কিছুই ভাল লাগেনা আজকাল আর। আমার তাকেই যেন প্রয়োজন , প্রয়োজন তার অযাচিত একাকীত্ব।

----------

ছবিঃ আমার তোলা , মহেশখালিতে
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মার্চ, ২০০৭ দুপুর ১২:০৬
১৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×