somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লেখালেখি কার জন্যে ?

২২ শে মার্চ, ২০০৭ দুপুর ২:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যখন প্রশ্ন করে কেউ হঠাৎ-
কেনো লিখি এই এত এত গল্প , কবিতা; কেউ তো পড়ে না তোমার লেখা?
একটু দ্বন্দে তো পড়েই যাই। তবুও আত্মপক্ষ সমর্থনে বলতেই তো হয়-- লিখি তো নিজের জন্যেই, ভালো লাগে তাই লিখি। কে পড়ল আর কে পড়ল না তাতে কি আসে যায়।
আসলেই কি কিছু আসে যায় যদি কেউ ই না পড়ে একটি সৃষ্টি , কোন কবিতা বা গল্প বা অন্য কোন রূপই শিল্প সাহিত্যের যা আপন সৃজন?
ভাবনার বিষয়। নিজের জন্যেই যদি কেবল লেখা তবে আর তারা লেখ্য রূপের কি দরকার , মনের মধ্যেই থাকলেই তো হয়। তাই কি? মনের মধ্যে থাকলে তো দ্রুতই স্মৃতি হতে মুছে যাবে। অদূর কালে আর জাবর কাটা সম্ভব হবে না পুরানো ভাব সম্বল করে। তাইতো লেখ্য রূপ।
কিন্তু , কিন্তু ...একজন লেখক , বা একজন ভাবের লেখ্যরূপের স্রষ্টা অবশ্যই চাইবে তার সৃষ্টি , তার ভাব, তার চিন্তার সূতো ছেড়া অক্ষরগুলো পড়ুক অগনিত পাঠক। এই চাওয়াটাই তো স্বাভাবিক মনে হয়। কেউ কি পূর্ণ নিরপেক্ষ হয়ে বলতে পারবেন এই কথাটির বিপরীত। মনে হয় না। সবাই, সবাই ই চায় কম বেশী তার লেখা পড়ুক অন্য জন।

পাঠক পিয়াস ব্যাপারটি লেখক মাত্রই সার্বজনীন। আমি তাই বিশ্বাস করি।

তর্ক করলে অনেক করা যাবে।দূর্বল তার্কিক ও তর্ক করতে পারবে। তর্কে জিতবে হয়তো বলিষ্ঠ তার্কিক। তাতে কি , তর্ক সবাই করতে পারে।

এই যে ব্লগে আজ আমি একটি গদ্য লেখা ( অনু গল্প, [লিংক=যঃঃঢ়://িি.িংড়সবযিবৎবরহনষড়ম.হবঃ/ঢ়ড়ঃযবথঢ়ড়ঃযবনষড়ম/ঢ়ড়ংঃ/28703133]'দুজনেই পেয়েছি পরাবর্তে '[/লিংক] শিরোণামে) পোষ্ট করেছি। পূর্বাভিজ্ঞতা বলে উহা খুব কম পাঠক ই পড়বে। পাঠকের পছন্দ না হলে সে কেনো পড়বে সেটাও মানতেই হবে। কিন্তু তারপরও লিখেছি। আজসন্ধ্যাতেই লিখেছি। কষ্ট করে ই লিখেছি। মন খারাপ লাগছিল। গল্প লিখে সময়ের যাতনা মুক্ত হয়েছি। সে বিচারে অবশ্যই নিজের জন্যেই লেখা। তারপরও কিন্তু মন চায় পাঠক পড়ুক। তা নাহলে কেনো কষ্ট করে ব্লগে পোষ্ট ?

যারা 100% ফরমায়েশ লেখক তারা হয়তো প্রকাশকের জন্যে লেখে। প্রকাশক প্রকাশ করে পাঠকের জন্যে। সেই ফরমায়েশি লেখক কিন্ত সেখানেও নিজের জন্যেই লেখে প্রকারান্তে।কারন নিজের নাম পাঠকের সামনে তুলে ধরার জন্যে তার মতে ওটাই সহজ সবল পন্থা।
পত্র পত্রিকায় লেখে অনেক অনেক লেখক। উদ্দেশ্যে সেই একই , পাঠক পড়বে। তার নাম পাঠক সামনে উন্মোচিত হবে। পাঠক জানবে তার মনন , তার মনের ভাব তার চিন্তা চেতনা।

পত্র পত্রিকায় স্থান দখল কারী লেখক কবি হতে গেলে হয়তো অনেক অনেক অজ্ঞাত জ্ঞাত পন্থা আছে কিন্তু সবচেয়ে সরল পনহা মনে হয় আগে লেখক হিসেবে নিজেকে তুলে ধরা তারপর সহজেই প্রকাশকের দৃষ্টি আকর্ষন। কিন্তু আগে লেখক হিসেবে তুলে ধরবে কি করে সেই বিষয় দুর্বোধ্য।

এদিকে থেকে ব্লগে ইচ্ছে হলেই লেখা যায়। অন্যের মন্তব্য জানা যায়। আর এই সহজলভ্যতাই আরও লোভী করে তোলে একজন ব্লগার লেখককে মন্তব্যর প্রতি। ব্লগ লেখক চায় পাঠকের অবারিত সাড়া।
কিন্তু যখন সেই পাঠক সাড়া না দেয় তখন তাকে ভেবে নিতেই হয় দুটো ধরন, হয় তার লেখা পাঠকের পছন্দ অনুকূল নয় অথবা ব্যক্তি হিসেবে সে পাঠকের প্রিয় পাত্র নয়।

আর তখনই সে ভাবতে থাকে আর কতক্ষণ....
নিজের জন্যেই যদি হয় কেবল লেখালেখি , তবে কাগজেই থাকুক অথবা সিডিতে।...

কি সব হাবিজাবি লিখি , তার জন্যে আবার চাই পাঠক, পাঠকের কি মতি ভ্রম হয়েছে, আমার মতো ফালতু স্বঘোষিত লেখকের লেখা পড়ে সময় নষ্ট করবে।

বামন হয়ে চাঁদে হাত ...
একদিন পথিক তুমি,
পথেই হবে কুপাকাত
অনেক চাপাবাজি করে ফেললাম , তাইনা। ভয় নেই , এটা নিজের জন্যেই লেখা। তেমন বেশী কেউ পড়বেই না। বেশী একটা নিন্দাবাণী শুনতে হবেনা নিশ্চিত।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মার্চ, ২০০৭ দুপুর ২:২৭
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোর্টাল – ২ গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৭


তখন বেশ ঠান্ডা পড়ে গেছে। সেপ্টেম্বরের রাত।
বরফ পড়া শুরু হয়নি। মন্ট্রিয়লের রাস্তা জনাকীর্ণ। বাড়ি থেকে বের হলে কো-দ্যেনিশ রাস্তার শেষ প্রান্তে একটা লাইব্রেরি আছে। তার পরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×