somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাইটার অব জেনারেল সত্যবচন ঐ চৌধুরী

২৮ শে মে, ২০০৭ রাত ১:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

( এটা নিছক একটা কল্প গল্প ; বাস্তবতার সাথে মিলালে লাভ নেই)

সত্যবচন ঐ চৌধুরী, একজন লেখক। অনন্ত তিনি নিজেকে ঐ পরিচয়েই ভাবতে ভালবাসেন। ঐ যে একটা কথা আছেনা , গায়ে মানেনা আপনে মোড়ল কথাটা তার জন্যে সত্য হলেও হতে পারত, কিন্তু আবার নাও পারত। কারণ আসলেই তিনি লেখেন। যিনি লেখেন তিনিই লেখক ধরে নেয়া ছাড়া লেখক বিচারের আর সত্য কোন মাপকাঠি আমার অন্তত জানা নেই এই মুহূর্তে সমসাময়িক পরিবেশ পরিস্থিতির আলোকে। আর যেহেতু ঐ সত্যবচন চৌধুরীর কোন লেখা পড়ার সৌভাগ্য হয় নাই , তাই তার লেখনি বিচার করা আমার সাজেনা।

ঐ আলোচনা এখানে মুখ্য নয়। তবে মুখ্য বিষয় বিবৃত করার পূর্বে একটু খানি তার লেখক হিসেবে স্বঘোষনার ছোট্ট বক্তব্য টানা যেতে পারে।
একদা সত্যবচন ঐ চৌধুরী তার লেখা দুটো উপন্যাসের পান্ডুলিপি নিয়ে হাজির হলেন এক সম্পাদকের কাছে। সম্পাদক মহাশয় যথারীতি জিজ্ঞেস করলেন উনার পরিচয় । সত্যবচন চৌধুরী খুবই স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে জবাব দিলেন তিনি একজন লেখক। সম্পাদক তাকে আরোও স্পষ্ট করে জিজ্ঞেস করলো উনি আর কি করেন। ওনার সেই একই উত্তর , উনি একজন লেখক, উনি লেখেন। সম্পাদক বললেন, লেখেন মানে, ভার্সিটির টিচার, পত্রিকার সম্পাদক , উর্ধ্বতন সচীব, মন্ত্রী বা নায়ক নায়িকারাই তো কেবল লিখবে , লেখার জন্যে তো এসব পরিচয় লাগে। সম্পাদক তার পরিচয় হীন লেখার তাই মূল্য দিতে অস্বীকার করলেন। তিনি পান্ডুলিপি অবশ্য শেষ মেষ আরেকটু প্যাচ ঘোচ কথায় তার রাখার জন্য রাজী হলেও বলে দিলেন যে কথাটি তাতে সত্যবচন ঐ চৌধুরী ভীষন ক্ষিপ্ত হলেন। সম্পাদক কেনো টাকা চাইবে তিনি বুঝতে পারছিলেন না। লেখা পড়ে পছন্দ হলে ছাপবেন নাইলে না , বলে তিনি উঠে গেলেন।
এতো প্রথম সম্পাদক এর ঘটনা। একে একে আরোও কয়েকখানা প্রকাশনীতে উনার শিক্ষা একই হবার পর উনি প্রচন্ড ক্ষুব্ধতায় ও পথ ত্যাগ করে ঘরে ফিরে আপন লেখার কর্ম নিরবে চালাতে লাগলেন।

ইতোমধ্যে যে করে হোক উনি অনেক অর্থবৃত্তের মালিক হলেন এবং ফলশ্রূতিতে নিজেই একখান বেশ ব্যয়বহুল পত্রিকা বার করলেন । একটা সাহিত্য ম্যাগাজিন ছিল সেটা। প্রচার ও করলেন যথাযথ সর্বোত্তম উপায়ে।
এখন উনি নিজ পত্রিকায় কেবল লেখেন আর লেখেন, বেশীর ভাগই সম্পাদকের কথা আর আলোচনা। মানুষ পড়েও। উনি তাতেই খুশি হতে লাগলেন। টাকার আমদানী বলে কথা। লেখকের চেয়ে সম্পাদক হিসেবে তার পরিচিতি শুরু হলো এবং সেটাই মানুষ মনে রাখতে শুরু করেছিল।

এত কথা বলার দরকার ছিলনা। তবুও বলতে হলো । সিনেমার শুরুতে একটু ব্যগ্রাউন্ড থাকতেই হয়। তারপর শুরু হয় চমক।

সেই চমকের শুরুটা হয়েছিল যখন ঐ রাষ্ট্র মানে যে রাষ্টের অধিবাসী এ কাহিনীর সত্যবচন চৌধুরী , নানা জটিলতায় তার শাসন ভার ন্যস্ত হলো একদা ঐ দেশের লেখক কূলের সমন্বয়ে একদল উপদেষ্টার হাতে। তাতে কি? লেখক কূল যেহেতু সম্পাদক মন্ডলিদের কাছে সর্বদাই মুখাপেক্ষী ছিলেন, তাই সম্পাদকদের একটা কলকাঠি নাড়ান ধরনের প্রভাব প্রদেয় ছিল আড়ালে।

সত্যবচন চৌধুরী সর্বাধীক প্রচলিত সাহিত্য ম্যাগাজিনের সম্পাদক তখন। তিনি তার অভিজ্ঞতার আলোকে বুঝে গেলেন এই মক্ষম সময়। সরকারের উপর তার প্রভাব সর্বাধিক।
তিনি পুরোনো বস্তা খুলে সব উপন্যাসের পান্ডুলিটি বের করে ধুলো ঝেড়ে ঝুড়ে লাইম লাইটে আনলেন। সরকার নিজ খরচে তার সব উপন্যাস ছেপে দিতে লাগল। অবশেষে এক আড়ম্বর অনুষ্ঠানে লেখক কূলের সমন্বয়ে গড়া উপদেষ্টা পরিষদ তাকে দেশের সর্বকালের সেরা লেখকের খেতাব দিয়ে দিলেন। তিনি তারপর থেকে সর্বত্র লিখে যেতে লাগলেন নিজের নাম--- রাইটার অব জেনারেল সত্যবচন চৌধুরী।
উল্লেখ্য এর পূর্বে ঐ রাষ্ট্রে এই খেতাব কেবল পেয়েছিল একজন মাত্র লেখক এবং যে কিনা নোবেল লরিয়েটও ছিল।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মে, ২০০৭ রাত ২:৫৪
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩



মেট্রোরেল পুরো বাংলাদেশের জন্য শান্তির বিষয়।
শুধু মেট্রোরেল না পদ্মাসেতুও। দারুণ এক কাজ হয়েছে। আগে মতিঝিল থেকে মিরপুর বা উত্তরা যেতে খবর হয়ে যেতো। তিন ঘন্টার বেশি সময় লাগতো। এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারণে অকারণে ছবি

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬

আমি ছবি তুলি। পরে সেগুলো দেখি। বেশ ভালো লাগে। ফোনের স্টোরেজ এ আজ দেখলাম মোট ছবি ৬৮৯৩ টি। ব্লগে কখনোই ছবি দিয়ে লেখা হয়নি। আজ মাইদুল ভাইয়ের লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারখানা তো রাজনীতি করে না !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ২:৪১


৫ই আগস্ট ২০২৪ তারিখটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনেকদিন মনে থাকবে। কিন্তু ইতিহাসের বড় বাঁকগুলোর মতো এই পরিবর্তনেরও একটা দাম ছিল, যেটার হিসাব আমরা এখনও পুরোপুরি মেলাতে পারিনি। ক্ষমতার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ বাবার প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন সামিয়া, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:০৩



একটা মাস হয়ে গেল।
ইউনাইটেড হাসপাতালের সিসিইউর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে সময়ের হিসাব হারিয়ে ফেলেছে রিপা। দেয়ালে ঝোলানো ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে, নার্সরা ডিউটি বদলাচ্ছে, ডাক্তাররা আসছেন, যাচ্ছেন। শুধু একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আনন্দ ও শোকে কবিতা সংকলন - অক্টোবর ২০২৫

লিখেছেন বিজন রয়, ২৯ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:২৫



আনন্দ বিশ্বকাপ ফুটবল!
শোক ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্প!!


এই আনন্দ ও শোকে কবিতা সংকলন পোস্ট অক্টোবর ২০২৫! অনেক দেরি হয়ে গেল! হ্যাঁ অক্টোবর ২০২৫ এর সব কবিতা সংরক্ষিত ছিল, কিন্ত সময়ের অভাবে সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×