সত্যবচন ঐ চৌধুরী, একজন লেখক। অনন্ত তিনি নিজেকে ঐ পরিচয়েই ভাবতে ভালবাসেন। ঐ যে একটা কথা আছেনা , গায়ে মানেনা আপনে মোড়ল কথাটা তার জন্যে সত্য হলেও হতে পারত, কিন্তু আবার নাও পারত। কারণ আসলেই তিনি লেখেন। যিনি লেখেন তিনিই লেখক ধরে নেয়া ছাড়া লেখক বিচারের আর সত্য কোন মাপকাঠি আমার অন্তত জানা নেই এই মুহূর্তে সমসাময়িক পরিবেশ পরিস্থিতির আলোকে। আর যেহেতু ঐ সত্যবচন চৌধুরীর কোন লেখা পড়ার সৌভাগ্য হয় নাই , তাই তার লেখনি বিচার করা আমার সাজেনা।
ঐ আলোচনা এখানে মুখ্য নয়। তবে মুখ্য বিষয় বিবৃত করার পূর্বে একটু খানি তার লেখক হিসেবে স্বঘোষনার ছোট্ট বক্তব্য টানা যেতে পারে।
একদা সত্যবচন ঐ চৌধুরী তার লেখা দুটো উপন্যাসের পান্ডুলিপি নিয়ে হাজির হলেন এক সম্পাদকের কাছে। সম্পাদক মহাশয় যথারীতি জিজ্ঞেস করলেন উনার পরিচয় । সত্যবচন চৌধুরী খুবই স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে জবাব দিলেন তিনি একজন লেখক। সম্পাদক তাকে আরোও স্পষ্ট করে জিজ্ঞেস করলো উনি আর কি করেন। ওনার সেই একই উত্তর , উনি একজন লেখক, উনি লেখেন। সম্পাদক বললেন, লেখেন মানে, ভার্সিটির টিচার, পত্রিকার সম্পাদক , উর্ধ্বতন সচীব, মন্ত্রী বা নায়ক নায়িকারাই তো কেবল লিখবে , লেখার জন্যে তো এসব পরিচয় লাগে। সম্পাদক তার পরিচয় হীন লেখার তাই মূল্য দিতে অস্বীকার করলেন। তিনি পান্ডুলিপি অবশ্য শেষ মেষ আরেকটু প্যাচ ঘোচ কথায় তার রাখার জন্য রাজী হলেও বলে দিলেন যে কথাটি তাতে সত্যবচন ঐ চৌধুরী ভীষন ক্ষিপ্ত হলেন। সম্পাদক কেনো টাকা চাইবে তিনি বুঝতে পারছিলেন না। লেখা পড়ে পছন্দ হলে ছাপবেন নাইলে না , বলে তিনি উঠে গেলেন।
এতো প্রথম সম্পাদক এর ঘটনা। একে একে আরোও কয়েকখানা প্রকাশনীতে উনার শিক্ষা একই হবার পর উনি প্রচন্ড ক্ষুব্ধতায় ও পথ ত্যাগ করে ঘরে ফিরে আপন লেখার কর্ম নিরবে চালাতে লাগলেন।
ইতোমধ্যে যে করে হোক উনি অনেক অর্থবৃত্তের মালিক হলেন এবং ফলশ্রূতিতে নিজেই একখান বেশ ব্যয়বহুল পত্রিকা বার করলেন । একটা সাহিত্য ম্যাগাজিন ছিল সেটা। প্রচার ও করলেন যথাযথ সর্বোত্তম উপায়ে।
এখন উনি নিজ পত্রিকায় কেবল লেখেন আর লেখেন, বেশীর ভাগই সম্পাদকের কথা আর আলোচনা। মানুষ পড়েও। উনি তাতেই খুশি হতে লাগলেন। টাকার আমদানী বলে কথা। লেখকের চেয়ে সম্পাদক হিসেবে তার পরিচিতি শুরু হলো এবং সেটাই মানুষ মনে রাখতে শুরু করেছিল।
এত কথা বলার দরকার ছিলনা। তবুও বলতে হলো । সিনেমার শুরুতে একটু ব্যগ্রাউন্ড থাকতেই হয়। তারপর শুরু হয় চমক।
সেই চমকের শুরুটা হয়েছিল যখন ঐ রাষ্ট্র মানে যে রাষ্টের অধিবাসী এ কাহিনীর সত্যবচন চৌধুরী , নানা জটিলতায় তার শাসন ভার ন্যস্ত হলো একদা ঐ দেশের লেখক কূলের সমন্বয়ে একদল উপদেষ্টার হাতে। তাতে কি? লেখক কূল যেহেতু সম্পাদক মন্ডলিদের কাছে সর্বদাই মুখাপেক্ষী ছিলেন, তাই সম্পাদকদের একটা কলকাঠি নাড়ান ধরনের প্রভাব প্রদেয় ছিল আড়ালে।
সত্যবচন চৌধুরী সর্বাধীক প্রচলিত সাহিত্য ম্যাগাজিনের সম্পাদক তখন। তিনি তার অভিজ্ঞতার আলোকে বুঝে গেলেন এই মক্ষম সময়। সরকারের উপর তার প্রভাব সর্বাধিক।
তিনি পুরোনো বস্তা খুলে সব উপন্যাসের পান্ডুলিটি বের করে ধুলো ঝেড়ে ঝুড়ে লাইম লাইটে আনলেন। সরকার নিজ খরচে তার সব উপন্যাস ছেপে দিতে লাগল। অবশেষে এক আড়ম্বর অনুষ্ঠানে লেখক কূলের সমন্বয়ে গড়া উপদেষ্টা পরিষদ তাকে দেশের সর্বকালের সেরা লেখকের খেতাব দিয়ে দিলেন। তিনি তারপর থেকে সর্বত্র লিখে যেতে লাগলেন নিজের নাম--- রাইটার অব জেনারেল সত্যবচন চৌধুরী।
উল্লেখ্য এর পূর্বে ঐ রাষ্ট্রে এই খেতাব কেবল পেয়েছিল একজন মাত্র লেখক এবং যে কিনা নোবেল লরিয়েটও ছিল।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মে, ২০০৭ রাত ২:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



