
শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
নিস্তব্ধ নিঝুম রাত
ফুটপাতের দেয়াল ঘেষে ছেঁড়া ন্যাকড়ায় পেঁচানো
ছোট্ট শিশু ঘুমে বিভোর।
দেয়ালের ওপাশে জন্মদাত্রী মা,
নরপশুদের দৈহিক ক্ষুধা মেটাতে আবদ্ধ,
প্রাণপণ মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ।
বিনিময়ে পাচ্ছে
চ্যাপেটাঘাত, পদাঘাত, মৃত্যুর হুমকি
অথবা নিরান্ন পেটে অন্নের আংশিকতা।
রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে ছোট্ট শিশুটি
চিৎকার দিলো–
“কে বঞ্চিত করেছো আমাকে?
শীতার্ত রাতে বুকের উষ্ণতা
ক্ষুধার্ত অবস্থায় অমূল্য জননীর দু’টি মাই
যা আমার জন্মগত অধিকার।”
বিক্ষুব্ধ শিশুর ছোট্ট দু’টি পা
পদাঘাতের পর পদাঘাত করছে এ পৃথিবীকে
মুষ্টিবদ্ধ হাত
প্রাণপণে ছুঁড়ছে উর্ধ্বে
অধিকার আদায়ের সর্ব শক্তি প্রয়োগ
যেন ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেবে এ বিশ্ব ব্রমান্ডকে।
প্রতিবাদী কণ্ঠ তীব্র থেকে তীব্রতর হলো
দৌড়ে এলো ফুটপাতের ককুর
একত্মতা ঘোষণা করল তারা
শুরু হলো বজ্র কন্ঠে দলীয় স্লোগান
কানফাটা আওয়াজে কেঁপে উঠল নগর
জড়ো হলো নাইটগার্ড, বাড়ীর দারোয়ান,
কুঁকড়ে থাকা ছিন্নমুল
সুতীব্র চিৎকারে সুনিদ্রা ভঙ্গ হলো বাড়ীওয়ালাদের
রক্ষা পেল জন্মদাত্রী মা
অবশেষে শিশুটি ফিরে পেল তার অধিকার।
হে প্রতিবাদী শিশু!
আমরা যা পারিনি তুমি তা পেরেছো,
তোমার প্রতিবাদী কন্ঠ
ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্ব ব্রমান্ডে
নেতৃত্ব তোমার হাতে তুলে দিলাম
অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতি দূর করার
অধিকার আদায়ের সমস্ত অধিকার
উপর থেকে তৃণমূল পর্যন্ত।
হে শিশু!
আমি আশাবাদী
তুমি নিশ্চয়ই পারবে
আগামীর নেতৃত্ব তোমার হাতে
তোমার প্রতি রইল আমার অসামাপ্ত আশীর্বাদ।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই আগস্ট, ২০১৫ দুপুর ১২:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




