somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার হুমায়ূন আহমেদ, পর্ব-১

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ দুপুর ২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খেলতে না গেলে আমার বিকেল কাটতো বাবার বইয়ের দোকানে। দুনিয়ার সব ভুলে রহস্য গল্পে ডুব দিতাম। কখনো কখনো দস্যু বনহুর আর তিন গোয়েন্দাও টানতো। তাই স্বাধীনতার পরে জন্মানো আর দশটা বাঙালি কিশোরের মতো হুমায়ূন আহমেদের বই পড়ে আমি পাঠক হইনি। এজন্য কিছু দু:খবোধ আছে আমার। এখন মনে হয়, হুমায়ূন আহমেদ পড়ে পাঠক হয়ে উঠলে মন আরও জোছনাভেজা হতো। বৃষ্টির মতো তরল হতো গভীর দু:খগুলো। কেন? সে কথায় একটু পর আসছি।

পাঠ্য বইয়ের বাইরে বেশি বিক্রি হতো হুমায়ূন আহমেদের বই। মেয়ে ক্রেতাই থাকতো বেশি। তাঁর লেখা পড়ার আগেই পরিচয় হয় বাকের ভাইয়ের সঙ্গে। আমার তখনো নাটক বোঝার বয়স হয় নি। আমাদের বাড়িতে সতের ইঞ্চি সাদাকালো একটা টেলিভিশন এসেছে তখন। সারা গ্রামের মানুষ ছুটে আসতো বাকের ভাইয়ের নাটক দেখার জন্য। বাকের ভাইয়ের ফাঁসি হবে কীনা, এ নিয়ে কী তুমুল উত্তেজনা! আমাদের বইয়ের দোকানের আড্ডায় চায়ের পেয়ালায় চুমুক দিতে দিতে বাবার বন্ধুদের আলোচনার ঝড়। বাকের ভাইয়ের ফাঁসি হলে বিচারকের বিরুদ্ধে মিছিল হতেও দেখেছি। তাই বাকের ভাই ছিলেন আমার শৈশবের নায়ক। সেই বাকের ভাই যে কোনো রক্ত-মাংসের মানুষ নয়, তা এখনো বিশ্বাস হয় না আমার!

বছর দুই পরে আম্মা আমাকে নিয়ে ময়মনসিংহের ছায়াবাণী হলে ’শঙ্ক্ষনীল কারাগার’ ছবি দেখতে গিয়েছিলেন। হলে গিয়ে আম্মার সঙ্গে ওটাই ছিলো আমার প্রথম ছবি দেখা। সেই ছবিতে কারা অভিনয় করেছিলো, কী গল্প ছিলো তেমন মনে নেই। কিন্তু চোখ মুছতে মুছতে আম্মার সিনেমা হল থেকে বের হওয়ার মহাকাব্যিক দৃশ্যটা এখনো ভুলতে পারি নি। আম্মা কেঁদেছিলেন, তাই কেঁদেছিলাম আমিও। তখনও জানতাম না 'শঙ্ক্ষনীল কারাগার' হুমায়ূন স্যারের উপন্যাস।

একটু বড় হয়ে দেখেছি স্যারের নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ’আগুনের পরশমনি।’ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জানার আগ্রহ এই ছবি দেখেই তৈরি হয়েছে আমার। তারপর যেখানেই মুক্তিযুদ্ধের বই দেখেছি, পড়েছি। পাকিস্তানি হানাদার আর রাজাকারদের প্রতি তীব্র ঘৃণা জন্মে তখনই। আমার ভেতর দেশপ্রেম জাগিয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। আজ রবিবার নাটকটি দেখার জন্য সারা সপ্তাহ অপেক্ষা করতাম পরিবারের সবাই। তারপর সবুজ ছায়া নাটকটি যে আনন্দ দিয়েছে, তার তুল্য কিছু নেই।

এরপরও হুমায়ূন আহমেদ পড়ায় ভাটা পড়ে। তখন আমি ক্লাস নাইনে। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় সুন্দর হাতের লেখা ও উপস্থিত বক্তৃতায় দ্বিতীয় হয়ে বেশ ক’টি বই পেয়েছিলাম। এর ভেতর ছিল হুমায়ূন স্যারের ’তোমাদের এই নগরে’ ও ’অপেক্ষা’ বই দুটিও। তোমাদের এই নগরে পড়ে খুব ভালো লাগে নি। এর মধ্যে এক বড় ভাই একদিন বললেন, ”কী পড়ো মিয়া! আখতারুজ্জামান ইলিয়াস পড়েছো? সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ?” আমি ওনার দিকে হা করে তাকিয়ে থাকায় যা বোঝার বুঝে নিয়ে আবার বলেন, ”তাও পড়ো নাই? এই দুজনকে পড়ো। আর মজা পাইতে চাইলে সৈয়দ মুজতবা আলী পড়বা।” এই বলে হুমায়ূন আহমেদের বই দুটি সঙ্গে নিয়ে যান তিনি।!
ওনার কথামত হুমায়ূন আহমেদ পড়া বাদ দেই। এর মাঝে তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়ের কবি, সপ্তপদী আর বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের অরণ্যের দিনরাত্রি পড়ে এতোটাই মুগ্ধ হয়েছিলাম যে, পশ্চিম বাঙলার কথাসাহিত্যের প্রতি বিশেষ দুর্বলতা তৈরি হয়। এর আগেই পড়ে ফেলেছিলাম সমরেশ মজুমদারের 'মনের মতো মন।' ওই ঘোর কাটার আগেই হুমায়ূন স্যার শাওনকে বিয়ে করেন। স্যারের সাহিত্যের সঙ্গে দূরত্ব আরও বেড়ে যায় আমার।

আমি হুমায়ূন আহমেদ পড়া শুরু করি ২০০৭ সালে, হুমায়ূন স্যারের সঙ্গে দেখা হবার পর। তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। স্যারের সঙ্গে চারবার দেখা হয়েছে আমার। তাঁর বাসা দখিন হাওয়ায় প্রায় দুই ঘণ্টার আড্ডা হয়েছে একবার। সেসব রোমাঞ্চকর গল্প থাকবে দ্বিতীয় পর্বে।
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০০১ থেকে ২০০৬ / ২০২৬শে এসে আবারও দেশ ফিরে গেলো খাম্বার খপ্পরে ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৪

তারেক জিয়া “ ২০০১ থেকে

২০০৬ পর্যন্ত যা করে গিয়েছিলেন। তিনি ঠিক সেখান থেকেই ২০২৬ শুরু করলেন। অনেকেই তার অনেক ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা বলছেন। ছোট ছোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে AI, গণমাধ্যম, এবং জনস্বার্থের প্রশ্ন

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৩২

বাংলাদেশে AI নিয়ে আলোচনা এখন আর শুধু “নতুন প্রযুক্তি” নিয়ে উত্তেজনা বা ভয় নয়। এখন বিষয়টা অনেক বড়। AI ধীরে ধীরে গণমাধ্যম, সরকারি কাজ, জনবিশ্বাস, ভাষা, এবং নীতিনির্ধারণের অংশ হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাল্যবিবাহে আমারও আপত্তি নেই, তবে…(একটু প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য)

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৩০



১. প্রথমেই সেসব ফেসবুক যোদ্ধাদের কাছে প্রশ্ন, যারা লুবাবা‘র বাল্যবিবাহ নিয়ে খুব উৎসাহ দিচ্ছেন, তেনারা নিজেদের ১৪/১৫ বছরের কন্যা সন্তানকে বিয়ে দিবেন কিনা। বিয়ে মানে কিন্তু শুধু জীবনসঙ্গীর সাথে এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন ওরফে সংবিধান সালাহউদ্দিন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০


ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন যিনি দীর্ঘসময় ভারতের তত্ত্বাবধানে শিলংয়ে সংবিধানের ওপর পিএইচডি করেছেন ফলে উনি এখন সংবিধান সালাহউদ্দিন যার সুফল এখন আমরা পেতে চলেছি। ইতোমধ্যেই আপনারা লক্ষ্য করেছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের জন্য কি জাপানের পরিণতি অপেক্ষা করছে?

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ০৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:২৮


ইরানের মোল্লাতন্ত্র নিয়ে অনেক সমালোচনা থাকলেও একটা বিষয় কিন্তু ঠিক, ওরা ভাঙে, তবে মচকায় না৷পৃথিবীর কত কত দেশের সরকার ও সেনাবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে কাপড় নষ্ট করে ফেলে, অথচ ইরান সগর্বে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×