নীতিমালা লঙ্ঘন করে জনবল নিয়োগের পাঁয়তারা
নিয়মের ব্যত্যয় হবে না :ট্রেজারার
শেকৃবি প্রতিনিধি
নিয়োগ নীতিমালা উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ দলীয় বিবেচনায় রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীর নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা নিয়োগের জন্য ছাত্রলীগ কর্মীদের তালিকা করে উপাচার্যের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। সেই তালিকা ধরেই চলছে নিয়োগ। যোগ্যতা অভিজ্ঞতা না থাকায় এসব ছাত্রলীগ কর্মীদের নিয়োগের জন্য মানা যাচ্ছে না কোন নীতিমালা। আবার এসব তালিকার বাইরেও একটি তালিকা হচ্ছে যা নিয়ন্ত্রণ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চক্র । পছন্দের লোকদের নিয়োগ দিতে শেকৃবি আইনের তোয়াক্কা না করে বাছাই বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্যও পরিবর্তন করা হয়েছে। উপাচার্য কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
শিক্ষকরা অভিযোগ করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নের প্রতি কোন নজর নেই। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, জনবল নিয়োগই বর্তমান উপাচার্যের যেন একমাত্র দায়িত্ব। আর এ জনবল নিয়োগ দিতে গিয়ে তিনি নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েছেন।
যেসব অনিয়ম করছে কর্তৃপক্ষ :নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী, সেকশন অফিসার পদে নিয়োগের জন্য সর্বোচ্চ বয়স হতে হয় ৩০ বছর, কিন্তু যাদের বয়স ৩০ এর বেশি তাদের নামেও মৌখিক পরীক্ষার কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। নীতিমালায় অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে বলা হয়, সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা আবেদন করতে পারবেন, অথচ বেসরকারি অখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট ব্যবহার করা আবেদনগুলোও নিয়োগের জন্য বিবেচনায় আনা হয়েছে। অভিযোগ, পছন্দের লোকদের নিয়োগ দিতেই এ প্রক্রিয়া।
শেকৃবি নিয়োগ পাচ্ছে বিএনপি-জামাত পরিবারের সন্তানেরা
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ( শেকৃবি ) নিয়োগ দেয়ার হচ্ছে বিএনপি-জামাত পরিবারের সন্তানদের । বিশ্ববিদ্যালয় কতৃর্পক্ষের ছত্রছায়ায় এ নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে । ছাত্রলীগ নামধারি এসব প্রার্থীরা বিএনপি পন্থি শিক্ষক- কর্মকর্তার যোগ সাজজে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চাচ্ছে ।
অনুসন্ধানে জানা যায় , গত বিএনপি-জামাত সরকারের সময় যারা ক্ষমতাসিন দলেরছাত্র রাজনিতি করেছে । তারাই এখন ছাত্রলীগের নাম ধারন করে । আর এখন তারা শিক্ষক বা কর্মকর্তা হতে জোর তদবির চালাচ্ছে । বতৃমান বিশ্ববিদ্যালয় কতৃর্পক্ষ বিএনপি-জামাত পন্থি হওয়ায় তা সহজ হচ্ছে । বিশ্ববিদ্যালয় কতৃর্পক্ষ তরিঘরি করে এদের নিয়োগ সম্পন্ন করার জন্য শুন্য পদে নিয়োগের বিঞ্জপ্তি দেয় । যাতে তাদের পছন্দ মত প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে পারে । নাম প্রকেিশ অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের এক বর্তমান কমিটির নেতা জানান, বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিএনপি-জামাত পন্থি । তানা হলে আগে যারা ছাত্রদল করত তাদের নিয়োগ দেয়ার পাইতারা করত না । কিন্তু ছাত্রলীগের র্নিযাতিত নেতাদের খোজ খবরও নেয় না । তিনি আরো বলেন , এ নিয়োগে কৃষি সম্পসারন বিভাগে দুই জনের পদের কথা বলা হয়েছে । এর মধ্যে জাভেদ আজাদ মিশাদ ছত্রদলের এক সময়কার বড় মাপের নেতা ছিল । সে সাবেক বিশ্ববিদ্যাল শাখা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মারার তালিকা ভুক্ত আসামি । যা এখনো আদালতে বিচারাধীন রয়েছে । আর মিশাদের পিতা চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানার বিএনপির একজন সম্পাদক পদধারী নেতা । আর এই বিএনপি পরিবারের সন্তানকে নিয়োগ দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃর্পক্ষ। এর অন্য একজন বায়োকেমিষ্ট্রিতে এম. এস করলেও এখানে নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে । মারজিয়া ইসলাম সপ্না নামে একজন বিভিন্ন বিভাগে প্রার্থী হয়েছেন । সপ্নার পিতা ময়মনসিহের একজন স্থানীয় ইউনিয়নের জামাতের সক্রিয কর্মী এবং ইউনিট সভাপতি । কিন্তু সপ্না উপরের সকলকে ম্যানেজ করেছে বরে সকলের মুখে মুখে । জামাত ঘরের সন্তান জেনেও অনেকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে তাকে নিয়োগ দিতে মরিয়া । বিশেষ করে এ নিয়োগের বেশির ভাগ প্রার্থী বিএনপি-জামাত পন্থি ।তারা অনেকে বলে নিয়োগ পেলে আমরা আবার বিএনপি-জামাত হয়ে যাবো । এমনকি গত বিএনপি-জামাত সরকারের সময় যে ৪৮ জন শিক্ষক -কর্মকর্তার অবৈধ নিয়োগ ও পদন্নতি দেয়া হয় । তার সুরাহা এখনো হয়নি । এখন তা ফাইল বন্দিই আছে । এ বিষয়ে বতর্মান কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির জানান, আমরা ছত্রলীগের পক্ষথেকে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃর্পক্ষকে জানানোর পরও কোন কাজ হচ্ছে না । তারা তরিঘরি করে এদের নিয়োগ দিতে প্রস্তুত । র্বতমান বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের আহবায়োগ মিলন জানান , এই বিএনপি-জামাত পন্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় তথা ছাত্রলীগের দূনাম করছে । আর এরাতো চিহ্নিত বিএনপি-জামাত পন্থী । যেখানে গোটা জাতি রাজাকারদের বিচার দিতে আগ্রহি তখন বিশ্ববিদ্যালয় কতৃর্পক্ষ এদের পূর্নবাসন করতে চাচ্ছে । আর এরাই বানিজ্য মেলায় চাদাবাজী করে ছাত্রলীগের স¤œানহানি করেছে । এমন কি এরা ৫ টি দোকানে আগুন পর্যন্ত দিয়েছে । আর এসবের নেতৃত্ব দিয়েছে সাবেগ ছাত্রদলের নেতা মিশাদ, সরোয়ার , দেবাশিষ , আওলাদ , আনারুল , আলামিন , মির্জা সহ আরো অনেকে । আর নিযোগের ব্যাপারে আমি বলেছি প্রয়োজনে আবার বলব । অবৈধ নিয়োগের ৪৮ জনের ব্রাপারে কথা বলব ।এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপার্চায অধ্যাপক সাহাদাত উল্লার সাথে যোগাযোহের চেষ্টা করা হলে তিনি প্রথমে মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি এবং পরবর্তীতে তা বন্ধ পাওয়া যায় ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, যে সব শিক্ষক কর্মকর্তা এ অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলছেন তাদের নানা কৌশলে হুমকি দেয়া হচ্ছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যাতে কোন বাধা সৃষ্টি না হয় এ কারণে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বাছাই বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্যও পরিবর্তন করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিকালচার বোটানি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক এ এম এম শামসুজ্জামান রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন।
নিয়োগ বিধিতে কৃষিবিদ নিয়োগের কোন সুযোগ না থাকার পরও বিজ্ঞাপনে হিসাব রক্ষক পদে নিয়োগের জন্য কৃষিবিদদের সুযোগ প্রদান করা হয়েছে। বিশেষ কাউকে নিয়োগ দেয়ার জন্যই এমন বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন একাধিক শিক্ষক কর্মকর্তা।
সহকারী পরিচালক (বাজেট) পদে নিয়োগের জন্য মৌখিক পরীক্ষার ২মে পূর্ব নির্ধারিত ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ঐ পরীক্ষা দুইদিন পূর্বে ৩০ এপ্রিল নেয়া হয় বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে কোন নোটিস করা হয়নি। অনেকে পরীক্ষার তথ্য না জানার কারণে আসেননি। পছন্দের ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়ার জন্যই এমনটি করা হয়েছে বলে শিক্ষকরা জানিয়েছেন। গাড়ির ড্রাইভার পদের জন্য দু'বার বিজ্ঞাপনে দুই রকমের যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো: হযরত আলী জানান, বিভিন্ন কারণে সবাইকে মৌখিক পরীক্ষার কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। তবে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এসব বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে। যা হবে নিয়ম অনুযায়ীই হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



