somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ThEn ShAlL wE......?

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১০:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

-নিল!!!!আর কতক্ষন পড়বে!!!!!?
-এই তো।এই চাপ্টারটা হয়ে গেলেই উঠছি।
-বাসায় পড়বে।এখন উঠো
মেয়েটা একরকম জোর করেই আমাকে উঠালো।উফ!!!!!এখন সারাদিন টো টো কম্পানির মত এর সাথে ঘুরতে হবে।কতগুলা পড়া মিস হয়ে যাবে।
-কি ভাবছ!!!!?
-কিছু না।এখন কি করব আমরা!!!!?
-কেন...ঘুরব।
-সেটা তো সবসময়ই করি,আজকে না হয়!!!!!
মেয়েটার মুখটা মুহুতেই কালো হয়ে গেল।মুড ভাল করার জন্য বল্লাম
-মানে বলতে চাইলাম,আজকে না হয় সারাদিন ইচ্ছা মত ঘুরি!!!!!?
-যাও...বুঝতে পারছি।তোমার পড়াশোনার ক্ষতি হবে।
-আরে না রে বাবা।আচ্ছা চল
মেয়েটির সাথে আমার রিলেশন ৫ বছর হয়ে গেল।ওর জায়গায় অন্যকেউ হলে এতদিনে ব্রেকাপ করে আরেকটার সাথে রিলেশন করে বিয়ে করে ২ বাচ্চার জননী হয়ে যেত।কিন্তু এই মেয়েটা তা করেনি।আমি যে চরম বোরিং তাতেও ব্রেকাপ করার কথা বলেনি।হয়তোবা ভালবাসার পরিমানটা একটু বেশি বলে।
আমি সবসময় মেয়ে থেকে দুরে থাকতাম।কারন মেয়েজাতির প্রতি আমার আল্যারজি আছে।আমার জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে বইয়ের পিছনে।তাই তেমন কোন বন্ধুবান্ধব নাই আমার।
মেয়েটির সাথে পরিচিত হয়েছিলাম এস.এস.সি পরীক্ষার সময়।আমার সাথের সিটে বসেছিল।তো আমার মোটামুটি সব কমন পড়তো।তাই নাক মুখ বন্ধ করে লেখতেই থাকতাম
তো আড়চোখে দেখতাম মেয়েটা করুন চোখে আমার খাতার দিকে তাকিয়ে আছে।
-আপনার কমন পড়েনি!!!"?
মেয়েটি মাথা এপাশ ওপাশ করল।তাই আমি মেয়েটিকে সাহায্য করলাম।
পরীক্ষা শেষ হতেই আমার সাথে দেখা করল আর এইভাবেই আমাদের ফ্রেন্ডশিপটাও হয়ে গেল
-কি ভাবছ এত.....?
ওর ডাকে বাস্তবে ফিরে আসলাম।সেই শান্ত মেয়েটি আজ কতই চঞ্চল,বাট আমি সেই আতেল,আতেলই রয়ে গেলাম
-চল ফুসকা খাই"!!?
আমার কথায় অবাক হল....
-ঘটনা কি মি.!!!!!!আজকে ফুসকা খাওয়ার অফার করছেন!!"?
-কেন!!!!আমি কখনো করি নি!!!!
-আমার জানামতে এই ৫ বছরের একদিন ও বলেননি!!!
আসলেই কোনোদিন বলিনি....তাই ভাবলাম আজকে ওকে একটু সারপ্রাইজ দেই।
ইন্টারেও আমরা একসাথে ভরতি হই এক কলেজে।আস্তে আস্তে অনেক ঘনিষ্ঠ হয়ে যাই।এক পযায় মেয়েটি আমাকে প্রপোজ করে... সেদিনের কথা এখনো ভুলতে পারি না
-নিল....তুমি এইখানে!!!!?আমি সারা ক্লাসরুম খুজে বেরাচ্ছি!!!!!!
-তুমি জান না এই টাইমে আমি কোথায় থাকি!!!!
ক্লাস শেষ করার পর আমি লাইব্রেরি তে বই পড়ি।
-তাই বলে আজকেও!!!"?
-কেন!!!!আজকে কি!!!!!
-আজকে কয় তারিখ!!!!?
-১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২।আজকে ফাস্ট ইয়ারদের এক্সাম হওয়ার কথা ছিল।
-মাথায় কি পরীক্ষার ডেট ছাড়া আর কিছু আসে না!!!!
আমি মাথা চুলকালাম!!!
-আর কি আসবে!!!!
-উফ!!!!!চল এখান থেকে।
মেয়েটির শাসন ভালই লাগত আমার কাছে।সব সময় আমার প্রতি একটা জোর খাটাত
রিক্সা এসে থামল লেকের সামনে।এইখানে বেশিরভাগ কাপলরা আসে
-এইখানে আসলা কেন!!!!এই জায়গাটা ভাল না
-কেন ভাল না(মুচকি হেসে)
-এইখানে ইয়ে হয় আর কি....
-কিয়ে!!!!?
-দেখ....ভাল লাগছে না।চল
-এইটার কথা বলছো.....?
বলেই আমাকে.......... থাক বলার দরকার নাই।
আমি হতভম্বের মত ওর দিকে তাকালাম।মেয়েটাও খানিকটা লজ্জা পেল
-সব সময় ছেলেরা আগে প্রপোজ করে,কিন্তু তোমার দ্বারা এটা কখনোই হবে না।তাই আমি তোমাকে প্রপোজ করছি.......
আমি অবাক হয়ে ওর কথা শুনছি।মেয়েটা চোখ বন্ধ করে
-আই......লাভ.... উ.........উইল উ লাভ মি!!!?
আমি তখনো ওর দিকে তাকিয়ে আছি।এই রকম কোনো ঘটনা ঘটবে তা কল্পনাই করতে পারি নাই।
-ওকে.. টেক ইউর টাইম।আমি আসি
বলেই মেয়েটি চলে গেল।হয়তোবা লজ্জার পরিমানটা বেশি হয়ে গেছে

-আজকে তোমার হয়েছে টা কি!!!!কতক্ষন পর পর কি ভাব!!!!?
আমি আবারো আগের কথা মনে করছিলাম।ধ্যাত!!!!!
-আজকে তোমাকে একটা সারপ্রাইজ দেব...
-সারপ্রাইজ!!!!?(ওর চোখ মুখে আনন্দের ঝিলিক)
-হুম।তাও একটা না,কয়েকটা।
-মানে কি!!!!!(চরম এক্সাইটেড)
-দেখ তাহলে।
বলেই লাল গোলাপ টা বের করে ওর সামনে হাটু গেড়ে বসলাম
-আমি কবিতার মত কিন্তু প্রপোজ করতে পারি না।আমি খুব সাধারন ছেলে,তাই সব সাধারন ভাবেই সব কাজ করি।
ভালবাসি......অনেক ভালবাসি......যতটুকু একটা মানুষকে ভালবাসা যায় তার থেকেও বেশি।এই মানুষটার পাশে আজীবন থাকবে!!!!!?
মেয়েটি হয়তো বিশ্বাস করতে পারছে না।
-কি থাকবেনা!!!?
আমার হাত থেকে গোলাপটি নিয়ে বল্ল
-অনন্তকাল
বলেই শক্তকরে জড়িয়ে ধরল।

সেদিন ওর প্রপোজের পর আমার অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল।কি করব,বা কি করা উচিত কিছুই মাথায় আসেনা।ওর সামনে পরলে অসস্থি লাগত।কিন্তু মেয়েটা দেখি দিব্যি ভাল
তাই ভাবলাম ওর প্রস্তাবে রাজি হয়ে যাই।
-ইয়ে মানে,তোমাকে কিছু বলার ছিল...
ও আগেই বুঝতে পেরেছে।তাই হেসে বল্ল
-কি বলবা!!!!আমাকে ভালবাসো এটাই তো...?
-না মানে....
-একটা কন্ডিশন আছে...?
-কি!!!
-আমাকে এখন জড়িয়ে ধরতে হবে....
-কি বল!!!?এই ক্যাম্পাসে!!!?মাথা খারাপ!!?
-না হলে কিন্তু রিজেক্ট খাবা....
মেয়েটি মনে করেছে আমার সাহস নেই।আমি যদি ওকে জড়িয়ে নাও ধরি তবুও সে রিজেক্ট করবে না।কিন্তু আমার কোথা থেকে যেন অনেক সাহস চলে আসল।তাই চোখ কান বন্ধ করেই জড়িয়ে ধরলাম।
মেয়েটা হয়তো বিশ্বাস করতে চায় নাই।তাই শুধু এতটুকু বল্ল
-প্রপোজাল এক্সসেপ্টেড....

-সারপ্রাইজ তা কিন্তু ভাল লাগলো।
-তাই!"?
-হুম
-আরো একটা বিগ সারপ্রাইজ আছে....
-আরো!!!.....?
-হুম।
-কখন দেবে....?
-ওয়েট কর।

ওইদিনের পর থেকে মেয়েটি আমার উপর পুরোদমে জোর খাটানো শুরু করল।বেশি রাত করে পড়তে দিত না,সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠতে বলত,সকাল আর রাতে ভালবাসি বলতে হত আরো কত কি!!!!!!!
ভাসিটিতেও একসাথে এডমিশন করি এবং ভাগ্য ভাল যে আমরা একই সাবজেক্ট পাই।কিন্তু আমি সবসময় বই নিয়ে পড়ে থাকতাম।আমার পাশে যে মেয়েটি বসে আছে খেয়ালও করতাম না।এই নিয়ে মাঝে মাঝে আমাদের ঝগড়া হতো আর বরাবরের মত ও জয়ী হত আর আমি পরাজিত।
তাই ভাবলাম মেয়েটাকে আর অবহেলা নয়।একদম নিজের কাছে রেখে দিব।এই মেয়ে ছাড়া আমার একদিনও চলবে না।তাই ভাবলাম আজকেই ওকে বিয়ে করব
-রিক্সা করে কোথায় যাচ্ছি আমরা....!!!?
-বলে দিলে সারপ্রাইজ থাকল কি!!!!!!
-তাই তো...?
-আচ্ছা,তুমি আমাকে ভালবাসো তো....?
মেয়েটা একটুকরো হাসি দিয়ে বল্ল
-এমনে এমনেই কি প্রপোজ করেছি.....?
-আর তোমার কি ধারনা আমার সম্পকে....!!!?মানে আমি তোমাকে কতটুকু ভালবাসি...?
-আমার থেকেও বেশি
রিক্সা এসে থামল কাজি অফিসের সামনে।মেয়েটা দেখলাম এবার নড়েচড়ে উঠল।একবার সাইনবোর্ড এর দিকে তাকায় আরেকবার আমার দিকে
-বিশ্বাস কর তো....?
-হুম।
-Then shall we...?
নতুন জীবনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।আশা করা যায় ভুল কোন সিদ্ধান্ত নিচ্ছি না।
যাহ!!!!মেয়েটার নামই তো বলা হয়নি!!!!!...
থাক,কিছু নাম প্রকাশ করতে নেই
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১০:০৫
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্যাটারিচালিত রিকশা , তিন-চাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাব।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের নায়িকা যিনি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২



একদিন যে বিয়েকে ঘিরে ছিল পাঁচতারকা হোটেলের ঝলমলে আলো, ক্যামেরার অসংখ্য ফ্ল্যাশ আর শত মানুষের করতালি, সেই সংসারের আকাশেই কয়েক বছরের মধ্যে জমেছিল বিচ্ছেদের মেঘ। ১৯৮৭ সালের মে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×