somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার ছেলেবেলা

০২ রা মে, ২০১০ রাত ১২:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ হঠাৎ ছেলেবেলার একটি স্মৃতি প্রচন্ডভাবে আমায় তাড়িত করল। সেই স্মৃতিটি আপনাদের সাথে আজ শেয়ার করব। তখন আমার বয়স ১০ কি ১১ হবে, ১৯৯৯ এর ঘটনা। নিয়মিত মসজিদে জুমআ নামাজ আদায় শুরু করেছি। আমার জীবনে তখন জুমআর অভিজ্ঞতাগুলো ছিল খুবই কটু। ছোট হওয়ার দরুন অন্যরা নামাজের কাতার থেকে আমাকে পিছে পাঠিয়ে দিত। আমি ছিলাম খুবই সেন্সিটিভ, এটা আমার মোটেও পছন্দ হত না। একটা লোক পরে এসে আরেকটা লোককে স্থানচ্যুত করবে এটা কেমন বিচার, অবশ্য একটু আদর করে বললেও হত যে বাবু একটু পিছে যাও...কিন্তু বয়সে বড় হওয়ায় এযেন তাদের অধিকার। এতে আমার মনোযোগ ভীষনভাবে ব্যহত হত। দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে পিছনে চলে যেতাম, মন ভীষন খারাপ হয়ে যেত। এভাবেই চলছিল। প্রতি জুমায় ভয়ে থাকতাম কখন চলে যেতে হয়, হতোও তাই সবাই পিছে পাঠিয়ে দিত। আমার মনে দুঃখগুলো জমা হতে লাগল। কাওকে বলতেও পারলাম না সে কথা। হঠাৎ একদিন একটা বুদ্ধি বের করলাম। নামাজের পূর্বে যখন কাতার সোজা হত তখন নিজেকে লম্বা দেখা্নোর জন্য পায়ের পাতায় ভর দিয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতাম যাতে লম্বা দেখা যায়। দেখলাম এই বুদ্ধি ভালই কাজ করে, চালিয়ে যেতে থাকলাম এভাবেই। এরপরও পিছে পাঠিয়ে দেয়া হত আমায়। দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে পিছনে চলে যেতাম। একদিনের ঘটনা কাতার সোজা হচ্ছে হঠাৎ ২৮-২৯ বছরের একজন আমায় বলল পিছে যেতে। কি জানি কি হল আমার মধ্যে আমার মনে জমান দুখঃগুলো প্রতিবাদে রূপান্তরিত হলো আমি বলে উঠলাম আপনিও আল্লাহর বান্দা আমিও আল্লাহর বান্দা আমরা সবাই মুসলমান আমি কেন পিছে যাব? লোকটি আমার কথা শুনে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলো। সে কল্পনাও করতে পারেনি এইটুকুন একটি ছেলের মুখ দি‌যে একথা বেরুতে পারে সে আর কিছু বলল না। শুরু হলো নামাজ, আমি তাতে মনোনিবেশ করলাম। এই ঘটনার পর আল্লাহর রহমতে আমাকে আর কোনদিন কেউ বলে নাই পিছে যাও। তারপরতো লম্বাই হয়ে গেলাম আর পিছে যাওয়ার প্রয়োজনও হয় নাই। ঘটনাটি এখানেই শেষ হতে পারত কিন্তু সেদিনের এক ঘটনায় স্মৃতিটি আবার মনে দোলা দিয়ে গেলো। কিছুদিন আগের ঘটনা এশার নামাজ পড়তে গেছি মসজিদে কাতারে দাঁড়াতে যাব এইসময় দেখি এক বড়ভাই কাতারে নামাজরত একটা বাচ্চাকে সরিয়ে তিনি নিজেই দাঁড়িয়ে গেলেন। বাচ্চাটি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল । এটাও কি একপ্রকার অবহেলা বা অবমূল্যায়ন না? কারন আমরা জানি ইসলামের চোখে সবাই সমান।
মানুষকে মানসিকভাবে কষ্ট দেয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হচ্ছে তাকে অবহেলা করা। আমি আগে মসজিদে আসবনা , আরেকজনকে (হোক সে ছোট) তার জায়গা থেকে উঠিয়ে নিজে দাঁড়িয়ে যাব এটা তো কোন বিবেক সমৃদ্ধ মুমীনের কাজ হতে পারেনা। এটা কি ঐ শিশু বা কিশোরের মনে যথেষ্ট নেগেটভ ইমপ্যাক্ট সৃষ্টি করে না? এর দায়ভার কার উপর বর্তায়? শিশুরা আমাদের কাছ থেকে শিখে, ওরা কি শিখছে আমাদের থেকে বা আমরাই কি শিখাচ্ছি বা দিচ্ছি ওদের অবহেলা ছাড়া ।
ভালবাসা ও শুভকামনা সেই সকল শিশু ও কিশোরের প্রতি যারা প্রতিনিয়ত এর স্বীকার।
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান- ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১০ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:০৪



অসুস্থ মানুষের সেবা করা, অবশ্যই মহৎ একটি কাজ।
বয়স হয়ে গেলে মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। আসলে মানুষ অসুস্থ হয়ে গেলেই অসহায় হয়ে যায়। অবচেতন মন বারবার বলে- এবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভয়ের সংস্কৃতি নয়, চাই জবাবদিহিমূলক রাজনীতির বাংলাদেশ

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১০ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৫

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি সরকারের পতন ছিল না, এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান। পনের বছরের দীর্ঘ আওয়ামী দুঃশাসন যেভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী বা দীর্ঘস্থায়ী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু অনুভূতি

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১০ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৪

" কিছু অনুভূতি "

অনেক দিন থেকেই অসুস্থ ছিলাম , তারপরও এখন সবার দোয়ায় আস্তে আস্তে ভালো হয়ে উঠছি আলহামদুলিল্লাহ। মাঝেমধ্যে ব্লগে এসে সবার সুন্দর সুন্দর লেখাগুলো পড়ে আমার মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

পারমাণবিক বিস্ফোরণের আগে সন্তানের সাথে আমি যে কথাগুলো বলবো

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১১ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১০


যদি শুনি আজ রাত আটটায় পারমাণবিক বোমা হামলা হবে আমাদের এই শহরে, যেমন ইরানে সভ্যতা মুছে ফেলা হবে বলে ঘোষণা দিলেন পৃথিবীর সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী মহামান্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, তাহলে আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রান্সজেন্ডাদের উপর কারা হামলা করলো ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:৫৩


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ গত সপ্তাহে সংসদে দাঁড়িয়ে একটি কথা বললেন যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এর আগে কেউ সরকারিভাবে বলেননি। মানবাধিকার কমিশন নিয়ে আলোচনার মাঝখানে তিনি বললেন, বাংলাদেশে LGBT ইস্যু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×