নিউজটা পড়ে অবাক হওয়া ছাড়া কোন পথই খোলা ছিল না । দশম শ্রেনীর ছাত্র তোরা ! এখনো নিশ্চয়ই শিশ্নের আগাতে পশম গজায়নি । আর এ বয়সেই পাহাড়ে নিয়ে লাড়কি ধর্ষন ? হায়রে উঠতি তারুন্য !
কারনগুলো খুজে বের করার ক্ষুদ্র চেষ্টা -
হবেই বা না কেন ? আগে ছেলেমেয়েদের হাতে মোবাইল উঠত কলেজে পা দিলে । আর এখন কচি কচি পোলাপাইন
মোবাইলে ফেইসবুকিং করে ,নেট চালায় । আর নেটের জালে যেমন
সম্ভাবনা আছে ,তেমনি আছে সমূহ বিপদ । আমাদের দেশের সরকার ব্লগ এবং সোশ্যাল সাইটগুলোতে নজরদারি বাড়িয়ে জনমতের গলা চেপে ধরতে চায় । অথচ ইন্টারনেটের এই অগনিত পর্নোসাইটগুলোকে ব্যান করতে পারেনা । বাজারে চটি বই এখন
সহজলভ্য । তার চেয়েও সহজলভ্য ইন্টারনেটের পর্নসাইটগুলো । মোবাইলে সংরক্ষিত রগরগে পর্নোমুভি আর রসময় গুপ্ত অধ্যয়ন করতে করতে কামুক হয়ে উঠা ছেলেটা শিশ্নের উত্তেজনা মৈথুনে মেটাতে না পেরে নজর দেয় সহপাঠিনীর বুকে । চটিগল্পের চরিত্রগুলোর মতই হয়ে উঠে বিভত্স ।
তাই দাবী এই যে ,পর্নোসাইটগুলো ব্যান করা হোক ।
দ্বিতীয়ত ,সহশিক্ষা । এটা বললেই জানি আমার অপর নাম হয়ে যাবে মৌলবাদি । অথচ সহশিক্ষার বিরোধীরা কখনোই নারীশিক্ষার বিরোধী নয় ,বরং নারীর নিরাপদ শিক্ষার সুযোগ করে দেয়ার পক্ষপাতি । আমাদের দেশে অনেক গার্লস স্কুল ,কলেজ ,মাদ্রাসা আছে । সংখ্যাটা আরো বাড়ানো হোক । অনেক শিক্ষক আলাদা আলাদা ব্যাচে ছেলে মেয়েদেরকে পড়ান
। সব শিক্ষকের উচিত এই ফর্মুলা ব্যাবহার করা । সহশিক্ষা বন্ধ
হয়ে গেলে ছেলেমেয়েদের অবাধ মেলামেশার সুযোগ অনেকটাই কমবে । সাথে সাথে কমবে এ সম্পর্কিত অপ্রিতীকর ঘটনাও ।
তৃতীয় কারন ,মিডিয়ার আচরন । কয়দিন আগে ইমরান হাশমি অভিনীত একটা হিন্দি মুভি মুক্তি পায় ,নাম Rush. মুভিটির ডায়ালগ প্রমোর একটা উক্তি আমার নজর কাড়ে । ভাবার্থটা এই ,আমরা এখন ক্রাইম নিউজকে খুব ইনজয় করা শুরু করেছি । ততক্ষন পর্যন্ত এইসব ব্রেকিং নিউজ আমাদের বিনোদিত করে যতক্ষন পর্যন্ত না আমরা নিজেরা একটা ব্রেকিং এ পরিনত না হই ।
বাংলাদেশে হিন্দি চ্যানেলগুলো নিষিদ্ধ নয় । এইসব চ্যানেলগুলো মানুষকে সচেতন করতে দুই ধরনের ক্রাইম সম্পর্কিত অনুষ্ঠান তৈরি করে - ১. ট্রু স্টোরী বেসড প্রোগ্রাম যেমন Crime petrol, Shabdan india etc. ২. স্ক্রিপ্টেড প্রোগ্রাম যেমন Arjun, CID. নির্মাতাদের মাথায় একটা চিন্তা থাকে এই যে ,ক্রাইমকে যতটা রোমহর্ষকভাবে উপস্থাপন করা যাবে কাটতি ততই বাড়বে । সাবধান করার উদ্দ্যেশ্য নিয়ে নির্মিত এই সোপ অপেরাগুলোর নির্মাতাদের উদ্দ্যেশ্য যতই মহত্হো ক না কেন একটা জিনিস মনে রাখতে হবে যে ,ক্লাসরুমে যেমন ফ্রন্টডোর থাকে তেমনি একটা ব্যাকডোরও থাকে যেটা পালানোর কাজে ব্যাবহৃত হয় । কি গ্যারেন্টি যে ,এইসব অনুষ্ঠান দেখে কিছু মানুষ ক্রাইম করার নিত্য নতুন উপায় শিখবে না ?
কেবল এই কারন নয় ,অন্য অনেক কারনেও সরকারের উচিত ভারতীয় চ্যানেলগুলো বাংলাদেশে বন্ধ করে দেয়া ।
চতুর্থত ধর্মচিন্তায় ঘাটতি । এই একটা কাজে রাজ্যের অনীহা বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের । এমনকি সুশিলদেরও ! দুনিয়ার আইনে ফাকঁ আছে । এই ফাকেঁর ব্যাসার্ধটা মোটেই ছোট নয় । আর তাই একমাত্র ধর্মচিন্তার প্রসার ঘটিয়ে সৃষ্টিকর্তার ভয় থাকলেই পাপ থেকে দূরে থাকা যাবে । নিশ্চয়ই জানেন এইসব ধর্ষনকান্ড কোন ধর্মেই আদরনীয় নয় ।
পরিশেষে অভিভাবকদের কেমন কেমন ভূমিকা । তারাই তাদের সন্তানদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে রংগীন দুনিয়ার সাথে ,বয়সের
আগেই হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে অশ্লীলতার পরোক্ষ উপকরন ,টাকার ধান্ধায় পড়ে ঠিকমত কেয়ার না নেয়া ,সন্তানের ব্যাপারে আজকালকার অনেক অভিভাবক দারুন অবচেতন ।তাদের সন্তানরাই ঐ রংগীন
দুনিয়াতে গিয়ে শিখে স্মার্টনেসের নতুন সংজ্ঞা । বাবা মায়ের সামনেই ছেলেমেয়েদের অবাধ মেলামেশা অথচ রা নেই তাদের মুখে । ফলাফল হয় ক্ষতিগ্রস্থের তালিকায় নাম উঠে নিজের সন্তানের অথবা নিজের চোখের সামনেই হাতকড়ি পড়তে দেখে এইসব বাবা মা ।
পারিবারিক বন্ধনের সুষ্ঠু প্রয়োগ ঘটিয়ে এইসব অন্যায়ের বিপক্ষে দাড়াবার সুযোগটা কিন্তু এখনো আছে ।
জানি ,হয়তোবা এসব করলেই শেষ নয় । কিন্তু যদি পথ ধরে না এগুই তবে সামনের চলার পথ
দেখব কি করে ? তাই ধর্ষনসন্ত্রাস ,কিশোর অপরাধ এবং সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে পথচলার শুরুটা হোক আজ থেকেই । আর কোন রেইপ কেইসের ফাইল দেখতে চাইনা পুলিশের অপরাধ তুলবার খাতায় ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


