somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

(আমার প্রথম কপি পেস্ট) দৈনিক আপ্যায়ন খরচ ২ লাখ ১৩ হাজার ৬৯৮ টাকা।

১০ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ৮:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৈনিক আপ্যায়ন খরচ ২ লাখ ১৩ হাজার ৬৯৮ টাকা। এ খাতে তিনি ২০১১-১২ অর্থবছরে ব্যয় করেছেন ৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যা আগের সরকারগুলোর চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি। বিগত সরকারগুলোর সময় এ খাতে ব্যয় হতো বছরে ৮০ লাখ টাকা। আর এখন এক মাসেই হচ্ছে ৬৫ লাখ টাকা।
চমকে উঠার মতো এসব তথ্য জানা গেছে গত কয়েক বছরের বাজেট ঘেঁটে। অর্থ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত বার্ষিক বাজেট ২০১২-১৩-এ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পার্টে দেখা যায়, আগের বছর অর্থাত্ ২০১১-১২ অর্থবছরে আপ্যায়ন খাতে ব্যয় করা হয়েছে ৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এটি সংশোধিত বাজেট। ওই বছর এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। বরাদ্দের চেয়ে ৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয় বেশি হওয়ায় অর্থবছরের শেষপ্রান্তে এসে এ খাতে বাজেট সংশোধন করতে হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা গতকাল আমার দেশকে বলেন, ২০১১-১২ অর্থবছর শেষে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আপ্যায়ন খরচের ফিগার দেখে আমরাও চমকে উঠি। তিনি জানান, স্বয়ং অর্থমন্ত্রীও এতবড় ফিগার দেখে থমকে যান।
গত ক’বছরের বাজেটে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, খালেদা জিয়া সরকারের সময় ২০০৪-০৫ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রীর আপ্যায়ন খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ৮৫ লাখ টাকা। ওই বছর এ খাতে খরচ হয় ৮০ লাখ টাকা। বরাদ্দের চেয়ে খরচ কম হওয়ায় অর্থবছর শেষে ৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরেও প্রধানমন্ত্রীর আপ্যায়ন খরচ ছিল ৮০ লাখ টাকা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও প্রধান উপদেষ্টা আপ্যায়ন বাবদ সমপরিমাণ অর্থাত্ ৮০ লাখ টাকাই খরচ করেছেন।
বাজেট ও সংশোধিত বাজেটে দেখা যায়, ২০০৬-০৭ ও ২০০৭-০৮ অর্থবছরে আপ্যায়ন খাতে খরচ হয়েছে ওই ৮০ লাখই।
২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর মৃগ লাফের মতো লাফিয়ে বেড়ে যায় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আপ্যায়ন খরচ। আগের বছরগুলোর মতো ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেটেও প্রধানমন্ত্রীর আপ্যায়ন খাতে বরাদ্দ ছিল ৮০ লাখ টাকা। ওই অর্থবছরের শেষপ্রান্তে এসে দেখা যায় খরচ করা হয়েছে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা আগের বছরগুলোর চেয়ে দেড় কোটি টাকা বেশি। ফলে ওই বছরের বাজেটে এ খাতে বড় ধরনের সংশোধনী আনতে হয়। পরের অর্থবছরের (২০১০-১১) বাজেটে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও খরচ হয় তিনগুণেরও বেশি। ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেটে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আপ্যায়ন খাতে বরাদ্দ দেয়া হয় ৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এ ব্যয় বিদ্যুত্গতিতে বেড়ে ঠেকে ৭ কোটি ৮০ লাখ টাকায়। সে হিসাবে গত অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রী আপ্যায়ন বাবদ দৈনিক খরচ করেছেন ২ লাখ ১৩ হাজার ৬৯৮ টাকা ৬৩ পয়সা। বিগত সরকারগুলোর সময় এ ব্যয় ছিল দৈনিক ২১ হাজার ৯১৭ টাকা ৮১ পয়সা। আর মাসে খরচ হতো ৬ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৬ টাকা ৬৭ পয়সা। এখন এক মাসে প্রধানমন্ত্রীর আপ্যায়ন খরচ হচ্ছে ৬৫ লাখ টাকা।
চলতি অর্থবছরে (২০১২-১৩) এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আরও দুই মাস আগেই বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয় হয়ে গেছে। এ বছর প্রধানমন্ত্রীর আপ্যায়ন খরচ ৮ কোটি ছাড়িয়ে যাবে।
এ ব্যাপারে সাবেক সচিব আসাফ্উদ্দৌলাহ্ আমার দেশকে বলেন, এটি রাষ্ট্রের অর্থের নির্লজ্জ অপচয় বলে আমি মনে করি। প্রধানমন্ত্রীর আপ্যায়ন খাতে বছরে ৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় স্বাভাবিক খরচের হিসাবে মিলে না। আগে যখন কেউ এতো ব্যয় করেননি এখন কেন বেড়ে গেল তা আমাদের জিজ্ঞাস্য রয়ে গেল।
সাবেক কেবিনেট সেক্রেটারি আবদুল হালিম বলেন, আগের বছরগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে এ খাতে ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। এতে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেটে প্রধানমন্ত্রীর আপ্যায়ন বাবদ বরাদ্দ ছিল ৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। কিন্তু খরচ করা হয়েছে ৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যা বরাদ্দের দ্বিগুণেরও বেশি। এতে বোঝা যাচ্ছে রাষ্ট্রের অর্থের প্রচণ্ড অপচয় হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো গরিব দেশে এ ধরনের অপচয় মোটেও যুক্তিসঙ্গত নয়।
সাবেক কেবিনেট সেক্রেটারি ড. আকবর আলি খান বলেন, আপ্যায়ন খাতে এ ব্যয় দেখে আমার কাছে মনে হচ্ছে এটা অস্বাভাবিক। তবে এ ব্যয় কেন এতো বেড়ে গেল তার ব্যাখ্যা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে জানতে গতকাল প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব শেখ ওয়াহিদুজ্জামান ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব মোল্লা ওয়াহেদুজ্জামানকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়। মোবাইলে রিং হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

(আমারদেশ হতে কপি পেস্ট কৃত)
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×