somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সরকার বিরোধী চলমান আন্দোলন নিয়ে ১৭ ডিসেম্বর একটি পোস্ট দিয়েছিলাম বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই পোস্টটি পুনরায় দিলাম

০৮ ই জানুয়ারি, ২০১৪ রাত ৯:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় চলমান আন্দোলন ব্যর্থ হবে
১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ৯:৩৪ |
শেয়ারঃ
0 0

কোনো একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়ার জন্য যেসব শর্ত পূরণ করতে হয় তার কোনোটিই বিরোধী দলের চলমান আন্দোলনে নেই। তাই এই আন্দোলন ব্যর্থ হতে বাধ্য। তবে বিদেশী শক্তির হস্তক্ষেপ অথবা সামরিক হস্তক্ষেপ হলে ভিন্ন কথা।
যেসব কারণে ব্যর্থ হবে:
১. সহিংসতা:
একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়টা হতে হবে শান্তিপূর্ণ ধরনের। কয়েকটি ককটেল ফুটিয়ে আর গাড়িতে আগুন দিয়ে কোনো সময় সরকারেরর পতন হয় না। গণ-অভুত্থান চুড়ান্ত পর্যায়ে যাওয়ার আগে শাসক গোষ্ঠীর নির্যাতনে কিছু প্রাণহানি হতে পারে। তারপরও জনগণের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন হবে।
২. বৃহত্তর প্লাটফর্ম না থাকা:
অনেকেই প্রহসনের গণতন্ত্র চান না। এর মধ্যে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও রয়েছে। কিন্তু চলমান আন্দোলনে নির্বাচন বর্জনকারী সব রাজনৈতিক দল এক প্লাটফর্মে নেই। সুশীল সমাজতো আরও দূরেরর কথা। এর মধ্যে অনেক রাজনৈতিক দল বিরোধী দলেরও বিরুদ্ধে। তাই ক্ষমতাসীনরা বিচ্ছিন্নভাবে প্রত্যেককে দমন করছে। কেউ কাউকে রক্ষায় এগিয়ে আসছে না।
৩. যুদ্ধাপরাধ প্রশ্ন:
বিরোধী দলের চলমান আন্দোলনে একটি কারণে সবার সমন্বয় হচ্ছে না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রশ্নে বিরোধী দলের অবস্থান পরিস্কার নয়। তারা ক্ষমতায় গেলে এই বিচার চালিয়ে যাবে না বন্ধ করে দেবে কিছুই বলছে না। গণতান্ত্রিক শক্তি এই ব্যাপারে প্রধান বিরোধী দলের সুষ্পষ্ট অবস্থান চাইছে।
৪. তরুণ সমাজের অংশগ্রহণ নেই:
গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাধারণত তরুণ সমাজ ভুমিকা রাখে। যাদের কোনো পিছুটান নেই। কিন্তু চলমান আন্দোলনে ছাত্র ও তরুণ সমাজের অংশগ্রহণের বিশেষ কোনো প্লাটফর্ম নেই। সরকার বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোর স্বতন্ত্র কোনো কর্মসূচিও নেই।
৫. নেপখ্যে নেতৃত্বে পুরনো রাজনৈতিক শক্তি:
বর্তমানে যারা রাজনীতি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্যক্তি ও দল হিসেবে তারা সবাই ক্ষমতায় ছিলেন। কিন্তু জনগণের সামনে ইতিবাচক কোনো ভাবমূর্তি তুলে ধরতে পারেনি।তাই বড় কোনো ঝুকি নিয়ে পুরনো বোতলে নতুন মদ নিতে কেউ রাজি হচ্ছেন না।
৬. আন্দোলনে বিশেষত্ব না থাকা:
সরকার বিরোধী আন্দোলনে তেমন কোনো বিশেষত্ব নেই। একই ধরনের কর্মসূচি দীর্ঘদিন পালন করতে থাকায় জনগণের মধ্যে বিরক্তির ভাব এসে যায়। তাই ক্রমেই এসব কর্মসূচির প্রতি জনসমর্থন কমতে থাকে।
৭. প্রবাসে আন্দোলন তীব্র না হওয়া:
দেশের ভিতরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর হলেও বিদেশে তেমন অবস্থা না। তাই প্রবাসে জনমত তৈরির জন্য বিশেষ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে না। তাই বাইরে থেকে মানুষ আন্দোলনের গুরুত্ব বুঝতে পারছে না।
৮. আন্দোলন সফল করতে নেতৃত্বের নিষ্ক্রিয়তা:
চলমান আন্দোলন সফল করা বাদ দিয়ে দলের নেতারা গাঁ বাচিয়ে চলছেন। অনেকে সরকারের সঙ্গে গোপন সম্পর্কও রাখছেন। অথচ মাঠে কর্মীদের মনোবল ধরে রাখতে নেতাদের পাশে থাকাটা জরুরি। চলমান আন্দোলনে এ পর্যন্ত মাঠে কোনো নেতা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানা যায় না। মাঠ পর্যায়ে নেতাদের উপস্থিতি থাকলেও রাজধানীতে তেমনটা চোখে পড়ে না।

এই আন্দোলনকে সফল করতে যেভাবে এগুনো যেতে পারে
১. গতানুগতিক হরতাল-অবরোধ কর্মসূচির পরিবর্তে জনগণকে সম্পৃক্ত করা যায় এমন কর্মসূচি গ্রহণ।
২. সব গণতান্ত্রিক শক্তির সঙ্গে মতবিনিময় করে সবাইকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করতে হবে।
৩. এমন প্লাটফর্ম গড়তে হবে যেখানে নির্বাচন বর্জনকারী সব রাজনৈতিক দল সম্পৃক্ত হবে।
৪. ছাত্র ও যুব সমাজের নেতৃত্বে বিকল্প কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে হবে।
৫. আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর হলে প্রয়োজনে স্বেচ্ছায় কারাবরণ বা স্বেচ্ছায় জীবন দেয়ার মতো কর্মসূচি দিতে হবে।
৬. যে কোনো মূল্যে কোনো একটি জায়গাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন জমানোর চেষ্টা করতে হবে। রাজধানীতে না পারলে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী কোনো জেলা বা কোনো বিভাগীয় শহর থেকেও শুরু করা যেতে পারে।
৭. যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রশ্নে প্রধান বিরোধী দলকে যে কোনো একটি সুষ্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে।
৯. প্রবাসী শাখাগুলোকে আরও সক্রিয় হতে হবে।
১০. প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জনগণকে রাজধানীতে জমায়েত করার উদ্যোগ নিতে হবে। কাজটি কঠিন হলেও এর কোনো বিকল্প নেই।

এ ধরনের আন্দোলন গড়তে না পারার ফল যা হবে?
১. তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকতে চাইবে।
২. সরকার বিরোধী একেকটি পক্ষকে একেক ইস্যুতে দমন করে ফেলবে।
৩. জনগণ বেঁচে থাকার তাগিদে বের হবে। সহিংসতা হলে দায় নিতে হবে বিরোধী দলকে। সহিংসতা না হলে ধীরে ধীরে জনজীবনে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে।
৪. সরকার যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক বাকিদের রায় কার্যকর করার মাধ্যেমে নির্বাচন থেকে মানুষের দৃষ্টি সেদিকে ফিরিয়ে দেবে।
৫. রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলবাজদের প্রভাব আরও বেড়ে যাবে।
৬. ক্রমেই এলাকাভিত্তিক আন্দোলনও দুর্বল হয়ে পড়বে।
৭. কর্মীরা নিষ্ফল আন্দোলনের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়বে।
৮. বিরোধী জোট ছাড়া বাকিরা সরকারের সঙ্গে গোপন আতাত করে ফেলবে।
১০. সুশীল সমাজ ও মিডিয়া নতুন করে নির্বাচন বাদ দিয়ে সুশাসনের দিকে মনযোগ দিতেতশুরুকরবে।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×