somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ; গণতন্ত্রের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কা

১৮ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ৯:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে মিল রেখেই যেন সবকিছু অগ্রসর হচ্ছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার অবিসংবাদিত নেতার হাত দিয়ে হয়তো সুনিপন সিদ্ধান্ত বেরিয়ে আসেনি। তবে কন্যা হিসেবে বাবার ভুলগুলো মাথায় রেখে যেন অগ্রসর হচ্ছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের বর্জনের মধ্য দিয়ে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর টানা দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতা গ্রহণ করে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। এরপর ধারাবাহিক কিছু সিদ্ধান্ত জাতি হিসেবে প্রকৃত গণতন্ত্রের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কিত না করে পারে না। যেমন:
(১) প্রথমে বিরোধী দলের আন্দোলন দমনে কঠোর মনোভাব নিয়ে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অভিযান চলে। সেই অভিযানে সাফল্যও আসে বেশ। বিরোধী দল মাঠ ছেড়ে গর্তে ঢুকে পড়ে। সেই সুযোগে এমন একটি নির্বাচনের পরও পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার কথা ভাবতে থাকে সরকার। তবে সেটি একদলীয় ব্যানারে নয়, বহুদলীয় গণতন্ত্রের মোড়কেই।
(২)আগের মতো গণমাধ্যম একবারে বন্ধ না করে নিয়ন্ত্রণ করার নীতি গ্রহণ করা হয়। তাই সেসব দিক মাথঅয় রেখেই একে একে সম্প্রচার, অনলাইন ও সংবাদপত্রের জন্য পৃথক নিয়ন্ত্রণমূলক নীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় সরকার।
(৩) এবার পালা বিচার বিভাগ। ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতির অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাত থেকে রাষ্ট্রপতির হাতে দেয়া হয়। এবার সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাত থেকে বিচারপতির অপসারণের (ইমপিচম্যান্ট) ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে সংসদের হাতে। কাগজে-কলমে জনগণের প্রতিনিধিদের হাতে বিচারপতির জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। যে সংসদে অধিকাংস সদস্য নির্বাচন ছাড়াই হয়ে যান সেই সংসদের হাতে বিচারপতির অপসারণের ক্ষমতা দেয়া নিয়ণ্ত্রিত সংসদের নিয়ন্ত্রকের হাতেই ক্ষমতা দেয়ার নামান্তর।
সব মিলিয়ে অনেকটা গুছিয়ে পরিপাটি আকারে ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিই ফিরে আসছে। সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীতে বহুদলের স্বীকৃতি ছিল না। কিন্তু এবার বহুদলের স্বীকৃতি থাকবে। থাকবে গণতান্ত্রিক সব প্রতিষ্ঠান, শুধু থাকবে না গণতন্ত্র। সব মিলিয়ে গণতন্ত্রের আড়ালে দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার পথই প্রশস্ত করছে ক্ষমতাসীনরা। এখন সেই পথ কতটা দীর্ঘ হয় তাই দেখার বিষয়।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×