somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুঠোয় ভরা আলো

১৯ শে জুন, ২০০৬ বিকাল ৩:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"আমার কাছে সমগ্র দেশটাকেই পরীর দেশ বলিয়া মনে হইতো "।

উচ্চমাধ্যমিকের কোন এক শ্রেণীতে প্রথম পড়েছিলাম বিভূতিভূষন বন্দোপাধ্যায়ের লেখা "আরণ্যক"-এর একটা অংশ। সেই থেকে তাঁর জাদুময় লেখনীর ভক্ত হয়ে যাওয়া। বিভূতিভূষনের আশ্চর্য সুন্দর বর্ণনা কেমন যেন আলৌকিক একটা জগতে নিয়ে যায়। তাঁর লেখা পড়তে পড়তেই সব সময় প্রার্থনা করতাম- রূপকথার পরীর দেশ নয়, বাস্তবে যদি কখনও এমন সৌন্দর্যের সামনে দাঁড়াতে পারতাম !

সব সময় ভেবেছি এই চাওয়াটুকু কেবল চাওয়াই হয়ে থাকবে হয়তো, বা তাঁর মত দৃষ্টিশক্তির অভাবে দেখেও বুঝব না। ঈশ্বরের পরম কৃপা, আমার এই দুর্ভাবনা সত্যি হয় নি। আমার দেশের খুব ছোট্ট একটা গন্ডিতে ঘোরাফেরা করা এই আমি একদিন সত্যি হাজির হলাম পরীর রাজ্যে ! ময়মনসিংহ এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির আমাবাগানে ।

বন্ধুর বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলাম আরো অনেক বন্ধু মিলে। সারাদিন জার্নি আর খাওয়াদাওয়াতেই কেটে গিয়েছিল সময়, জানতামই না আমার এতদিনের কাংখিত বিস্ময় চুপচাপ বসে আছে সন্ধেবেলার আশায়! অন্য কথায় যাবো না, সেইটুকুই কেবল বলি।

.......অন্ধকার চারপাশ।রিক্সা পুরো ইউনিভার্সিটি চককর দিয়ে চারপাশের হলগুলোর মাঝের একটা রাস্তায় চলতে শুরু করলো। চলতে চলতেই অন্ধকার আরো গাঢ় হলো।এত অন্ধকারে একটু কেমন যেন গা ছমছম করছিলো। আর ঠিক তখনি অন্যরকম এক আলো একটু একটু করে এগিয়ে আসতে লাগলো আমাদের দিকে। একটু পরে দেখা দৃশ্যটা আমার কাছে এখনও যেন বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না...জোনাকি! শত শত জোনাকি...না না বেশির পরিমাপ বুঝাতে শত বলাটা অভ্যাস হয়ে গিয়েছে,আসলে বোধহয় কোটি কোটি জোনাকি। নাহ, একটুও বাড়িয়ে বলছি না! আমরা যখন পূর্ণ অন্ধকারে ওখানটায় পৌঁছলাম, রাস্তার চারপাশের জলাশয়ে (জলাশয় শব্দটা অনেক ভারী হয়ে গেল,কিন্তু খাল বলতে ইচ্ছা করছে না একেবারেই) আর তার পাশের ঝোপঝাড় থেকে এমন করে জোনাকি বের হয়ে এলো যে আমার মনে হলো এ বুঝি ওদেরই জগৎ...ওরা দলবেঁধে এসে স্বাগত জানালো অতিথিদের।দৃশ্যটা এমন - আমাদের ডানে,বামে,মাথার ওপরে কেবল জোনাকি আর জোনাকি! বোকার মত হতবুদ্ধি হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম অনেকখন। তারপর ঘোর ভেংগে দুই হাত প্রসারিত করে এক ছুট লাগালাম অন্ধকার ঘোঁচানো জোনাকির আলোতে।চোখ বন্ধ করে হাত মুঠো করে আবার খুলতেই দেখি জোনাকি ভর্তি সেখানে! মুঠো ভর্তি জোনাকি চালান করে দিলাম বন্ধুর পকেটে।হাতের তেলোয় জোনাকি, পকেট ভর্তি জোনাকি, চারপাশটা জুড়ে কেবল জোনাকি আর জোনাকির রহস্যময় আলো....!

একটা সময় গা ছমছম করে আমার মনে হতে লাগলো জোনাকির আড়ালে এই বুঝি আমার সেই পরীর দেশ !
নয়?


************************************

উদ্ধৃত লাইনটা কিছুটা এদিক ওদিক হতে পারে,স্মৃতি থেকে লিখা।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৩


দীর্ঘদিন আগে আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটের কোন এক পোস্টে ঘটা করে জানান দিয়ে ফেইসবুক থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। কারণ ছিলো খুব সাধারন বিষয়, সময় অপচয়। স্ক্রল করে করে মানুষের আদ্য-পান্ত জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×