দেখতে দেখতে আরো একটি বছর পেরিয়ে গেল। সময়ের সাথে সাথে বয়সের পাল্লাটাও ভারী হচ্ছে বৈকি! কৈশরের দাঁড়ি-গোঁফের অনেকটাই বদলে ফেলেছে তার আপন রং। শরীরের মাংশপেশী, চামড়া ক্রমশই হারাচ্ছে তার স্বাভাবিক মসৃনতা। কপালের ভাঁজ, দ্বিতীয় থুতনির আনাগোনা সবকিছুই ধীরে ধীরে জানান দিচ্ছে তাদের অবসাদের কথা।
জীবনের এই প্রান্তে এসে কেন যেন নতুন বছর আর আগেরও মতো উৎসবমুখর মনে হয়না। উৎসব করারও তেমন কিছু দেখিনা। তবুও সময়তো বয়ে যাচ্ছেই তার আপন নিয়মে। বিগত বছর হারিয়ে ফেলা অনেক চেনা মুখ ভেসে আসছে স্মৃতিপটে, হয়তো বার্তা দিয়ে যাচ্ছে নতুন কাউকে হারিয়ে ফেলার আগমনী বার্তা। সবকিছু ভেবে কিছুটা মুষড়ে পড়ি।
উল্টো দিকে তেমনি সহধর্মিনীর প্রথম পরশ, প্রথম সন্তানের আর্বিভাব, প্রথম বাবা হওয়ার অনুভূতি। ছোট্ট একটা মানুষকে ঘিরে পরিবারের সবার এই আনন্দ, ভালোবাসাও দিচ্ছে বেঁচে থাকার অদম্য ইচ্ছেকে নতুন প্রান। এ যেন এক মিশ্র অনুভূতি। জীবন নামের বহতা নদীর পাঁড়ে দাঁড়িয়ে আমি দেখছি এই আনন্দ-বেদনার খেলা। কিন্তু আমিতো সেই আমিই রয়ে গেছি। ছোট্ট শিশু থেকে, কিশোর, যুবক আর এখন পুরুষ হয়েছি এই পথের বাঁকে দাঁড়িয়েই।
দূরের কালো মেঘ ক্রমশঃই ঘনিয়ে কাছে চলে আসেছ। দূর থেকে অস্পষ্টভাবে বিদায়ের সাহনাইরে সুর শুনতে পাই। ভয় হচ্ছেনা এতটুকুও, তবুও মায়ময় এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে কার-ই বা ইচ্ছে করে? এই যে চিরচেনা মুখগুলো, পেছনে ফেলে একা একা অজানা গন্তব্যে কার-ই বা যেতে ইচ্ছে করে? কিন্তু কালের এই অমেঘ নিয়ম খন্ডানোর ক্ষমতাতো আমাদের নেই।
চলে যাবার আগে শুধু এই পৃথিবীকে আমার সন্তানের বাসযোগ্য করে যেতে চাই, যেখানে ওরা বড় হবে প্রকৃতির কোলে, নিঃশ্বাস নেবে বুক ভরে। সুন্দর একটা পৃথিবী, একটা দেশ, একটা সমাজ, যেখানে থাকবে না কোন মারামারি-হানাহানি, থাকবে না কোন লোভ-লালসা, অযাচিত রক্তপাত। যতদিন বেঁচে আছিঁ, আমি প্রাণপনে সরাবো সব জঞ্জাল। নতুনের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
নতুন বছর সবার জীবনে বয়ে আনুক, সুখ-শান্তি আর সমৃদ্ধির নতুন বারতা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


