somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টাকা টাকা আর টাকা - বাঙালীর বড়াই

১৮ ই নভেম্বর, ২০২০ রাত ২:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একদিন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই মেজাজ বিগড়ে ছিলো। রুমমেট বেশ জোরে জোরে স্পিকারফোনে কথা বলছিলো। তাকে অনুরোধ করা হলো স্পিকারফোনে কথা না বলে নিজ রুমে গিয়ে কথা বলার জন্য। "স্যরি ভাই" বলে লোকটা চলে গেল ঠিকই কিন্তু ঘন্টাখানেক পর আবার একই কাজ।

তারও বেশ কিছুক্ষণ পরে লোকটা আবার রুমের কাছে এসে বললো, "ভাই, একটা উপকার করেন"।

আমি বললাম, "কিভাবে?"

সে বললো,"কিছুদিন আগে বাবা-মা'র জন্য এ্যাপ্লাই করেছিলাম, তাদের কাগজ মনে হয় হয়ে যাচ্ছে। আমাকে একটা স্পন্সরশিপ দেন আপনারতো ভালো ইনকাম আছে।"

মেজাজ আগে থেকেই কিছুটা খারাপ ছিলো। এবার সত্যি সত্যি খারাপ হবার জোগাড় হলো।

বললাম,"গত বছরতো আপনি বেশ ইনকাম দেখিয়েছেন ট্যাক্স ফাইলে, তো স্পন্সরশিপ কেন লাগবে?"।

সে বললো,"ওটাতো স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে আসার জন্য দেখাতে হয়েছে, ওতোতো ইনকাম হয় নি।"

আমি বললাম, "তাহলে সরকারকে মিথ্যে বলার কি দরকার ছিলো? আর আপনার যদি ইনকাম না'ই থেকে থাকে তাহলে স্ত্রী-সন্তান আসার আগেই আপনি আবার আপনার মা-বাবার জন্যে এ্যাপ্লাই করলেন কেন?"

সে বললো,"সে বললো সেটা আমার চিন্তা, আপনার সমস্যা কি?"

আমি বললাম,"আমার পারতপক্ষে সমস্যা নেই, কিন্তু আপনি দু'দিন আগেও আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে আপনার পরিবারের জন্য মাসিক খরচের টাকা পাঠিয়েছেন। আর আজ বলছেন স্পন্সরশিপ দেয়ার জন্য?"।

সে চলে যাওয়ার আগে মুখ বাঁকা করে বললো,"না দিলে না দিবেন এত কথার দরকার কি? টাকা হলে কত স্পন্সরশিপ কেনা যায়!"

আমি আর কথা বাড়াই নি। মনে মনে ভাবলাম, দু'শো ডলার যে দিতে পারছে না সে আবার স্পন্সরশিপ কেনার গরম দেখাচ্ছে কি ভাবে? বসে বসে ভাবছি কথাগুলো আর মনে হচ্ছে বাঙালীর পেটে ভাত না থাকলেও ফুটানি কম দেখাতে অপারগ। এই ধরনের মানুষগুলোই মূলত আমেরিকাতে এসে চৌদ্দগুষ্ঠি দেশ থেকে নিয়ে এসে সরকারের কাছে হাতপাতে, সাহায্য চায়। পরিবারের খাবারের জন্য ফুড স্ট্যাম্প, চিকিৎসার জন্য হেল্থ ইনসুরেন্স নেয়, মিথ্যে তথ্য দিয়ে অনেক টাকা ইনকাম দেখায়। সমস্যা সেখানে নয়, সমস্যা অযাচিত ফুটানিতে।

করোনার কারনে অনেকের চাকুরি নেই। আমার বলতে দ্বিধা নেই আমিও সমস্যার মধ্যেই আছি। আমারও পরিবার আছে, খরচ আছে। কিন্তু মিথ্যে তথ্য দিয়ে ইনকাম ট্যাক্স ফাইল আমার কখনো করা হয় নি, ইচ্ছেও নেই।

সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকায় বাঙালীদের নতুন অসুখ দেখা দিয়েছে। কিছু দেশী লোকজন কিছু ভুঁইফোড় বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানে ট্রেনিং এর নামে ক'দিন টুকটাক কাজ করে নিজেদের "আইটি প্রফেশনাল" হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। এদের বেশীরভাগেরই আমেরিকার কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। মিথ্যে তথ্য দিয়ে এরা কাজের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, বাস্তবে এদের কোন কর্মাভিজ্ঞতাও নেই। আর থাকলেও তা অত্যন্ত সীমিত। সার্টিফিকেট এর নাম দিয়ে কিছু কাগজ প্রিন্ট করেই গলায় ঝুলিয়ে নিজেদের "সফট্ওয়্যার টেস্টার", "সফট্ওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার", "সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার" ইত্যাদি দাবী করছে।

যারা দেশে বা প্রবাসে আছেন। তাদের ছেলে-মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব কোন তথাকথিত উল্লেখিত চাকুরীর পদবীধারী লোকজন হলে অবশ্যই জিজ্ঞেস করুণ কোন ইউনিভার্সিটি বা কোন কলেজ থেকে সে পড়াশোনা করেছেন। তার ব্যক্তিগত ইউনিভার্সিটির ইমেইল এ্যাড্রেস জিজ্ঞেস করুন। প্রয়োজনে মেইল পাঠান ঐ ঠিকানায়। বিশ্বাবিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট দেখতে চাইতে পারেন, কমন্সেমেন্ট প্রোগ্রাম কত সালে আর কোথায় হয়েছে জিজ্ঞেস করুণ। দেয়া তথ্য যাচাই করুণ। গ্রাজুয়েশন গাউন পরিহিত কমেন্সমন্টে ডে'র ছবি দেখতে চাইতে পারেন। এগুলো খুব সহজেই অনলাইনে যাচাই করা সম্ভব।

করোনার পর থেকেই বেশ কিছু বাঙালী লোকজনের এ্যাড রিকোয়েস্ট পাচ্ছি লিঙ্কডইনে। এদের বেশীরভাগ লোকেরই একই ধরনের পদবী। বুঝতে বাকি থাকে না যে এরা লিঙ্কডইনকেও ফেইসবুক মনে করছে। বাঙালী মনে হলেই তাকে এ্যাড করছে এটা প্রমাণ করার জন্য যে তাদের প্রফেশনাল নেটওয়ার্ক অনেক বড়। আদতে এদের বেশীরভাগ লোকই আমার অপরিচিত। এমনকি যে লোকটা আমার কাছে স্পন্সরশিপ চেয়েছে, সেও একই পন্থায় ক'দিন আগেই আমাকে এ্যাড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে। ওটা এবার আজীবন পেনডিং-ই থাকছে।

লিখার সারমর্ম হচ্ছে। সত্যবাদী হওয়ার চেষ্টা থাকা উচিত, কাজে-কর্মে সৎ আর ব্যক্তিগতভাবে বিনম্র বা হাম্বল হওয়ার চেষ্টা করা উচিত সবার। তাতে হয়তো কারো স্পন্সরশিপ পাওয়াটা সহজ হলেও হয়ে যাতে পারে। ঠাঁট দেখানো আচরণ আর যাই করুক মানুষকে প্রকৃত মানুষ হতে শেখায় না। ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই নভেম্বর, ২০২০ ভোর ৪:৫৯
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জন্ম থেকেই আমরা ৩য় বিশ্বে আছি, আর কত সময় থাকতে হবে?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ১০:১৪



পাকিস্তান আমলে আমরা ৩য় বিশ্বে ছিলাম; বাংলাদেশ জন্ম নিয়ে নিজকে আবিস্কার করেছে ৩য় বিশ্বে; ৫০ বছর পরেও সেই ৩য় বিশ্বে আছে; আরো কত বছর থাকবে, কোন ধারণা?

আমরা ৩য়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শীত বিলাস ২০২০

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৩৬



শীত আসে শীত যায়, আমরা শহুরে মানুষেরা টেরই পাই না। গ্রামীণ শীত উপভোগ করার জন্য আমরা গত কয়েক বছর যাবত ঢাকার খুব কাছেই নাগরীতে ধানি জমির মাঝে আমাদের আশ্রমের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়ের চরণ

লিখেছেন বিএম বরকতউল্লাহ, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:৫৫


একলা ঘরে আপন মনে কেঁদে ভাসায় বুক
খুঁজে বেড়ায় শূন্য ঘরে হারিয়ে যাওয়া সুখ
সুখ আসে না দুঃখ এসে নিত্য করে খেলা
কী অপরাধ কেন যে তাঁর এমন অবহেলা!


মা...
জগতের যতো সুখটুকু আছে
এনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাভ জিহাদ

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩৪


‘লাভ জিহাদ’ সংক্রান্ত এক মামলায় ঐতিহাসিক রায় দিল দিল্লি হাইকোর্ট। ২০ বছরের এক মহিলাকে তাঁর স্বামীর কাছে ফিরিয়ে দিয়ে আদালত জানিয়েছে, এক জন সাবালক মহিলা যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ম্যারাডোনার জন্য কেহই বেহেশত চাচ্ছেেন না আল্লাহের কাছে!

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২১



আজকের এই মহুর্তে, বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় মানুষ হচ্ছেন, দিয়েগো ম্যারাডোনা; আমি নিজেও উনার খেলার ভক্ত; উনার অকাল মৃত্যুতে মনটা খারাপ হয়েছে। উনার মৃত্যু সংবাদ আমি অনেকটা সাথে সাথেই পেয়েছি;... ...বাকিটুকু পড়ুন

×