somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ইফতেখার ভূইয়া
সাধারণ একজন মানুষ। বলার মতো বিশেষ কিছু নেই। মনের ভাবনাগুলো তুলে ধরতে চাই। ভালো লাগে কবিতা, লিখা-লিখি আর ছবি তোলা, এইতো! https://prokashoni.net

বাংলাদেশ VS অস্ট্রেলিয়া টেস্ট ক্রিকেট ও কিছু পুরোনো ব্যাথা

১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বাংলাদেশ ক্রিকেট দল অস্ট্রেলিয়া সফর করছে। প্রথম টেস্ট ম্যাচে বেশ বড় জয়ও পেয়েছে। ক্রিকেট টিম তথা পুরো জাতির জন্য এটা নিঃসন্দেহে একটা গর্বের বিষয়। বিভিন্ন দিক থেকেই এই জয় অনেকভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। এখনো পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সর্বমোট টেস্ট ম্যাচ খেলেছে সাতটি। অস্ট্রেলিয়া জয় পেয়েছে পাঁচবার আর এটা বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। বাংলাদেশ প্রথমবার জয় পেয়েছিলো ২০১৭ সালের এই আগস্ট মাসেই মানে প্রায় ৯ বছর আগে।

২০০৩ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছিলো টেস্ট ম্যাচ খেলার জন্য। প্রথম ম্যাচটি হয়েছিলো এই ডারউইনে আর দ্বিতীয়টি ছিলো কেয়ার্নজ-এ। জঘন্যরকম হার হেরেছিলাম আমরা। তবে তখন বাংলাদেশ ক্রিকেট আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে অনেকটাই নতুন। কেউই এর ফলাফল আহামরি ব্যতিক্রম কিছু আশা করেছিলো বলে আমার মনে হয় না। সে দুঃখটা ভোলা বেশ সহজ ছিলো।

এরপর ২০০৬ -এ অস্ট্রেলিয়ার টিম যখন প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট ম্যাচ খেলতে আসে তখন প্রথম ম্যাচটি খেলা হচ্ছিলো ফতুল্লা স্টেডিয়ামে। আমি তখন ঢাকা সিটি কলেজে পড়ছি, ক্লাস ফাঁকি দিয়ে এক বন্ধুকে নিয়ে খেলা দেখতে বাইক নিয়ে চলে গিয়েছিলাম ফতুল্লায়। যতটা উৎসাহ নিয়ে খেলা দেখতে গিয়েছি ঠিক ততটা মন খারাপ করেই খেলা দেখে ফিরে এসেছি। ব্যাটিং করছিলো বাংলাদেশ দল, যা দেখেছি সে দুঃখ বলে বোঝানো বেশ কঠিন। পরে ম্যাচটি ছিলো চট্টগ্রামে, সেখানেও ভালো কিছু ঘটেনি।

প্রথম অঘটন ঘটলো ২০১৭ তে যখন অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশে এলো টেস্ট ম্যাচ খেলার জন্য। আমি অবশ্য তখন বাংলাদেশে ছিলাম না। তবুও মিরপুরের যে মাঠে বাংলাদেশ প্রথম অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচে জয় পেল সে মাঠ আমার বেশ পরিচিত ছিলো। ঐ মাঠে আমার নিজস্ব স্মৃতিও আছে বেশ। ক্রিকেটের মাঠ হওয়ার আগে ওখানকার ফিল্ড ঘিরে স্প্রিন্ট ট্র্যাক ছিলো। তাছাড়া কমার্স কলেজে পড়ার সুবাদে ওদিকটায় বেশ যাতায়াতও ছিলো অনেক আগে থেকেই। দুঃখের বিষয় হলো পরের ম্যাচেই চট্টগ্রামে সেই পুরেনো হারের স্মৃতি ফিরে এলো।

বাংলাদেশ ক্রিকটে দল ২৩ বছর পর আবারও অস্ট্রেলিয়ার সফর করছে। মাঝে বেশ দীর্ঘ একটা সময় চলে গেছে। আজকের বাংলাদেশ টিম যে জয় পেল তা নিঃসন্দেহে আশার বানী শোনাচ্ছে আমাদের। তবে আমার মন অজানা শঙ্কায় আর কালো মেঘে ঢেকে আছে পরবর্তী ম্যাচে সম্ভাব্য হারের বেদনায়। মন থেকেই চাইছি বাংলাদেশ জিতুক। গত ম্যাচের মতোই ডমিনেট করে জিতুক। কিন্তু আমাদেরও ভুলে গেলে চলবে না, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দল এর মতো "কামব্যাক কিং" আর কেউ নেই। হারতে হারতে ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাস এদের বেশ পুরোনো। আর ওদের মাঠেই ওদের হারানো কোন ছেলে খেলা নয়। ওদের মাঠে টেস্ট ম্যাচে আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার কোন ক্রিকেট টিমই আহামরি কিছু করতে পারেনি। সেটা বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান কিংবা ভারত যে দলই হোক না কেন। শ্রীলঙ্কাতো অস্ট্রেলিয়াকে কখনো ওদের নিজ মাঠে হারাতেই পারেনি আজ পর্যন্ত। ভারত ১২ তম টেস্ট ম্যাচে ওদের সাথে ওদেরই মাঠে প্রথম জয় পেয়েছিলো আর পাকিস্তান পেয়েছিলো ৭ম ম্যাচে। সেদিক থেকে বাংলাদেশ দল অবশ্য ৩য় ম্যাচেই ওদের মাঠে জয় পেল।

মিডিয়াতে নানা ধরনের কথা চলছে তবে, আমি মনে করি এত বছর পর বাংলাদেশের এখন উচিত ওদের মাঠেই পরবর্তী টেস্ট ম্যাচ জিতে সিরিজটা জিতে নেয়া। কেবল সেটাকেই আমি বড় অর্জন ভাবতে চাই। একটা টেস্ট ম্যাচ জেতা দিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার কিংবা আত্মতুষ্টির ঢেকুর তোলার খুব একটা মানে দেখি না।

মোটাদাগে বাংলাদেশের আর দশজনের মতোই আমিও ক্রিকেট খেলা পছন্দ করি। তবে সত্যি বলতে কি বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে আমি কখনোই ততটা আশাবাদী হতে পারিনি। বলতে পারেন যতবারই আশায় বুক বেঁধেছি, তত বারই এরা হতাশ করেছে। আমি মোটামুটি ধরেই নিয়েছি যে বাঙালীদের মানে বাংলাদেশীদের দিয়ে আর্ন্তজাতিক এরিনায় খেলাধুলায় তেমন কোন বড় সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়েতো নয়ই। এরা অনেক আশা দেখিয়ে হতাশ করাবে। এদের দিয়ে বড় কিছু আশা করাটা অনেকটা প্রেমে ছ্যাঁকা খাওয়ার প্রথম ধাঁপের মত। এদের দিয়ে ঝরে বক পড়ে আর ফকিরের কেরামতি বাড়ে টাইপ দূর্ঘটনা অতীতে ঘটলেও গত ম্যাচ জয়টা কোনভাবেই ফকিরের কেরামতি ছিলোনা সেটাও বুঝি।

১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ যখন আই.সি.সি. ট্রফি জয় করলো সেদিনও তরুন ছাত্র হিসেবে ক্লাস বাদ দিয়ে আনন্দ মিছিলে যোগ দিয়েছিলাম। এরপর বাংলাদেশের ক্রিকেট সম্পর্কিত আর কোন আনন্দ মিছিলে যাওয়ার সৌভাগ্য হয় নি। বেঁচে থাকতে থাকতে বিশ্ব জয়টা দেখে যেতে চাই। যদিও ঐ ফকির সে আশার কথাও শুনিয়েছিলো বহুদনি আগেই। আমিও সে আশাতেই থাকছি। শুভ কামনা থাকছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য। ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৫৮
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×