
সরকারের কোনো সুযোগ সুবিধা পান না। তবে ভোটার (!?)
স্বাধীনতার প্রায় চার দশক পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার পায় মানতা সম্প্রদায়। কিন্তু দেশের নাগরিক হিসেবে অন্যান্য মৌলিক অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত।
এদের ভাগ্যে শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্হানসহ মৌলিক চাহিদার অধিকার জুটেনি। তাদের স্যানিটেশন ব্যবস্হা, পুষ্টিকর খাদ্যের যোগান কিংবা বিশুদ্ধ পানির সুবিধা নেই।
প্রশাসন যা বলে -(মানতা সম্প্রদায় প্রসঙ্গে)
উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা - পার্থ সারথী দেউড়ী বলেন, মানতা নামে কাউকে সেবা প্রদানের কোনো নির্দেশনা আমাদের নেই। জেলে সম্প্রদায় যারা আছেন তাদেরকে সেবা দিচ্ছি।
উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা - মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, যারা জেলে পরিবার তাদের সরকার বিভিন্ন সেবা দিচ্ছে। মানতা সম্প্রদায় নামে এদের কোনো সেবা দেওয়ার সুযোগ নেই। সরকারি নির্দেশনা আসলে অবহেলিত এ সম্প্রদায়কে আমরা সেবা দিতে পারব।
স্বাধীনতার প্রায় চার দশক পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার পায় মানতা সম্প্রদায়। কিন্তু দেশের নাগরিক হিসেবে অন্যান্য মৌলিক অধিকারগুলো কি ঠিকভাবে পাচ্ছে তারা?জানা গেছে, সম্প্রতি তাদের রেজিস্ট্রির মাধ্যমে বিয়ে হচ্ছে।
মানতা সম্প্রদায় (উইকিতেও কিছু পেলাম না )
মানতা সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ গোষ্ঠির ভাসমান জীবনের সূচনা দেড়শো থেকে দুশো বছর পূর্বে। কোনো কোনো গোষ্ঠি আরো প্রাচীন। এতগুলো বছর পরও তারা পায়নি কোনো স্থায়ী ঠিকানা, এক টুকরো স্থলভূমি। স্থায়ী বাসস্থান তাই ওদের কাছে আজও দুঃস্বপ্ন হয়ে ধরা দেয়।
এ ছাড়াও বাড়তি হিসাবে তারা পায় -
পুলিশের নানা হয়রানি।জলদস্যুর আক্রমন। নদীতে যখন মাছ থাকে না, মহাজন তাদের কিনে দেন চাল, ডাল আর লবণ।বিপদের সময় বন্ধু সেজে মহাজন সওদার নামে ওই জেলেদের দাদন দিয়ে থাকেন। আর ওই দাদনের বিনিময়ে নিজেকে জিম্মি করেন জেলেরা। কিংবা নৌকা বা জালের প্রয়োজনে মানতারা হাত পাতেন মহাজনের কাছে। আর তাতে আজীবনের জন্য বাঁধা পড়েন সুদের কঠিন শিকলে। দিনান্তে যেটুকু মাছ ধরতে পারেন তার সবটুকু মহাজনের আড়তে দিলেও সে দায় থেকে মুক্তি মেলে না।
তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বিষয়ে বলেন, অনেকে আসেন কথা বলেন কিন্তু ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। আমরা যেমন নৌকাতে থাকি, তেমনিই আছি।

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জানুয়ারি, ২০২২ সকাল ১১:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


