somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ডেড ম্যান ওয়াকিং
আমার সম্পর্কে আমি আর কি বলবো! আমার পরিচয় দেওয়ার মত তেমন কিছু নেই। আসলে নিজের সম্পর্কে কিছু বলা/লিখা অনেক কঠিন একটা কাজ, আমি মনে করি যে, পৃথিবীতে কোন মানুষই তার নিজের সম্পর্কে ১০০% সঠিক তথ্য দিতে পারবে না।

I Finally Did It

১৯ শে জুলাই, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম,
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

যারা সিগারেট খায়, তারা সবাই জানে যে সিগারেট খাওয়া একটা খারাপ অভ্যাস। যা মাসের পর মাস, বছরের পর বছর আপনি এতে অভ্যস্ত হতে থাকবেন। তাই সিগারেট ছাড়া সত্যিই সহজ নয়। আসলে অনেকেই বলেন "বউ-কে ছেড়ে দিব মাগার সিগারেট ছাড়তে পারব না" এরকম কথা শুনলে এখন আমার হাসি পায়, কিন্তু আমি বলব আপনি চাইলে কী না পারেন....?

হ্যা আমি পেরেছি, আমার মালিকের (আল্লাহ) জন্য আমি সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। আমি একজন চেইন স্মোকার ছিলাম। আমি বলব আপনি আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন এবং নিজের মানসিক শক্তিকে শক্ত করুন দেখবেন আপনিও সিগারেট খাওয়া ছাড়তে পারবেন ইনশাআল্লাহ৷ জানিনা আপনাদের বিশ্বাস হবে কি না, আমি ১১ বছরের সিগারেটের নেশা মাত্র ২ মিনিটের সিদ্ধান্তে ছেড়ে দিয়েছি আর আজ ৩ মাস হল একবারের জন্য একটি সিগারেট ছুঁইনি।

এখন যাওয়া যাক মূল বিষয়ে, কিভাবে আমি সিগারেট ছাড়লাম...?
বছর খানেক আগের কথা বলি, আমার ভাই আমার বন্ধু জিয়াউল করিম – তার বাসা এবং আমার বাসা পাশাপাশি এবং ছোট থেকে এক সঙ্গেই বড় হয়েছি৷ সে একজন ৫ ওয়াক্ত নামাজি, তখন আমি বে-নামজি ছিলাম৷ তখন দেখা যেত, সে প্রায়ই আজান হওয়ার সাথে সাথেই সে আমাকে কল দিত এবং বলত আজান হয়ে গেছে চল নামাজে!! এরকম রেগুলারই কল দিত বা সরাসরি এসে আমাকে নামাজে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করত৷ আমার এখনও মনে আছে একদিন সে আমাকে প্রায় ১ ঘন্টা বুঝিয়েছে যে ইসলাম কি? দ্বীন কি? নামাজ কেন পড়ব ইত্যাদি ইত্যাদি৷ তারপর শুরু করলাম তার সাথে নামাজ পড়া কিন্তু তখন আমি সিগারেট ঠিকই খাই৷ যেদিন থেকে নামাজ পড়া শুরু করলাম সেদিন থেকে ইসলামের আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জানা শুরু করলাম, ধীরে ধীরে অনেক কিছুই জানলাম৷

বিশেষ যে কথাটি জানলাম তা হল “আল্লাহ পৃথিবীর সকল কিছুই দুই ভাগে ভাগ করেছেন, হালাল বা হারাম এখানে তৃতীয় কোন প্রকার নেই৷

আল্লাহ বলেনঃ তাদের জন্য যাবতীয় পবিত্র বস্তু হালাল ঘোষনা করেন ও নিষিদ্ধ করেন হারাম বস্তুসমূহ (সূরা আরাফ :১৫৭)
সুতরাং ধূমপান হয় হালাল হবে নতুবা হারাম হবে। অন্য আর যে যা বলে তা গ্রহনযোগ্য হবে না।

এবার আসুন ধূমপান এর ব্যাপারে বর্তমানে বিজ্ঞানী এবং ডাক্তাররা একমত যে স্বাস্থ্যের জন্য ধুপমান মারাত্মক ক্ষতিকর। ফুসফুসের ক্যান্সারসহ আরো মারাত্মক রোগের মূল কারন ধূমপান। ধূমপায়ী মায়েদের সন্তান বিকলাঙ্গ হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি। স্কুল কলেজে ধূমপান এর অপকারিতা নিয়ে অনেক রচনা অনেকেই লিখেছেন। আর এটা তো জানাই যে ধূমপান মৃত্যুর একটা বড় কারন। CDC (Center for Disease Control) এর হিসাবে প্রতি বছর বার্ধক্যজনিত কারন, দূর্ঘটনা, HIV তে যত মানুষ মারা যায় তার মোট সংখ্যার চেয়ে শুধুমাত্র ধূমপানে বেশি মানুষ মারা যায়। লেখার শেষে লিঙ্ক দেয়া আছে, আরো বিস্তারিত আছে সেই ব্যাপারে। American Cancer Society এর হিসাবে ২০১৩ সালেই ২২৮১৯০ জন ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে তামাকের কারনে। আর ১৫৯৪৮০ জন মারা গেছেন একই কারনে। সুতরাং ধূমপান যে কতটা ভয়াবহ তা বুঝতে পারার কথা। খুব স্বাভাবিকভাবেই বলা যায় ধূমপান হচ্ছে বিষপান, আত্মহত্যার একটা দীর্ঘ উপায়। আর আল্লাহ বলেছেন, তোমরা নিজেদের কাউকে হত্যা করো না। (কোরআন নিসা :২৯)

এছাড়াও নবী মুহাম্মদ(সা) বলেছেন, এখানে (ইসলামে ) এমন কিছুই নেই যা খারাপ বা খারাপ করতে পারে। (Arabic "laa darar wa laa diraar") তিনি আরো বলেন, “তোমার শরীরের তোমার উপর অধিকার আছে।” একটু আগেই দেখিয়েছি কিভাবে ধূমপান মানুষকে শেষ করে দেয়। ধূমপান করা মানে হচ্ছে শরীরের উপর অত্যাচার করা। সুতরাং ধূমপানের মধ্য দিয়ে আমরা শরীরের অধিকার নষ্ট করছি, বিচারের দিনে এর হিসাব আমাদের দিতে হবে। আর যেখানে সেখানে ধূমপান যে অধূমপায়ীদের অনেক সমস্যার সৃষ্টি করে তা না বললেই চলে। সিগারেটের বাজে গন্ধ অনেকের সহ্য হয় না আবার অনেকের অ্যাজমা থাকলে তাদেরও সমস্যা হয়। আর সিগারেটের বাজে গন্ধ ফেরেশতাদেরও সমস্যা করে। আর এই ব্যাপারে আল্লাহ বলেছেন, যারা বিনা অপরাধে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে। (সূরা আহযাব :৫৮)

আর CDC এর হিসেবে প্রতি বছর গড়ে ৪৯৪০০ অধূমপায়ী মারা যায় ধুমপায়ীদের ধোঁয়ার কারনে আক্রান্ত হয়ে। এই মানুষগুলোকে আসলে হত্যা করে ধুমপায়ীরা বিনা কারনে। আর বিনা কারনে কাউকে হত্যার ব্যাপারে আল্লাহ বলেছেন- যে কেউ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করা ছাড়া কাউকে হত্যা করে সে যেন সব মানুষকেই হত্যা করে। (সূরা মায়িদা :৩২)

যে জিনিস এতো সমস্যার সৃষ্টি করে তা না বললেও চলে। সুতরাং এই পথে অর্থ ব্যায় অপব্যায় হিসেবেই গন্য হবে। আর এটা তো জানাই যে নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। শয়তান স্বীয় পালনকর্তার প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ। (সূরা বনী ইসরাইল:২৭)

# আর মুহাম্মদ(সা) বলছেন, “শেষ বিচারের দিন একজন মানুষকেও অগ্রসর হতে দেয়া হবে না যতক্ষন না সে হিসাব দেবে সে তার অর্জিত অর্থ কিভাবে খরচ করেছে”।

# হযরত নুমান ইবনে বাশীর (রা) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: হালাল বা বৈধ সুস্পষ্ট এবং হারাম বা অবৈধও স্পষ্ট, আর এ দু’এর মধ্যবর্তী বিষয়গুলো হলো সন্দেহজনক। আর বেশীরভাগ লোকই সেগুলো (সম্পর্কে সঠিক পরিচয়) জানে না। অতএব যে ব্যক্তি ঐ সন্দেহজনক জিনিসিগুলোকে পরিহার করলো সে তার দ্বীন ও মান-সম্মানকে পবিত্র রাখলো। আর যে ব্যক্তি সন্দেহজনক জিনিসে জড়িয়ে পড়লো সে হারামের মধ্যে পড়ে গেল। (মুত্তাফিক আলাইহি)

উপরের আলোচনা থেকে আশা করি বুঝে যাবার কথা সিগারেট হারাম নাকি হালাল। আর যেদিন থেকে এগুলো বুজতে পারলাম সেদিন থেকেই আমি সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। আপনিও চাইলে ধূমপান ছেড়ে দিতে পারবেন সারা জীবনের জন্য। একবার চেষ্টা করে দেখুন!

অনেকেই আছে নিজেদের সুবিধায় বলে যে সিগারেট মাকরুহ কিন্তু আগেই বলে দিয়েছি হয় হালাল না হয় হারাম। মাঝামাঝি কিছু নাই। হালালের বিভিন্ন শ্রেণীই হচ্ছে মুস্তাহাব, মুবাহ , মাকরূহ । তাই যারা ধূমপান করে তাদের উচিৎ যত দ্রুত সম্ভব ধূমপান ছেড়ে দেয়া। কাজটা অনেক কঠিন কিন্তু একেবারেই অসম্ভব না। ।

আল্লাহ আমাদের সকল হারাম থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুক ।





সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুলাই, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫৬
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আদর্শের মুখোশ, নাকি অনলাইন প্রোপাগান্ডা: 'ন্যায়পরায়ণ' সাজার আড়ালে আসল রূপ কোনটা?

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:২২



ধর্ম, নৈতিকতা আর আদর্শের মুখোশ পরে যখন ভেতরে ভেতরে চরম অবক্ষয় চলে, তখন সাধারণ মানুষ হিসেবে মুখ বুজে মেনে নেওয়া কঠিন!
ধর্ষণের অভিযোগ এআই (AI) দাবি করা কিংবা অনৈতিক ঘটনাকে ‘দ্বিতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুখী শিক্ষার্থীরাই ভালো শিক্ষার্থী, ওরাই সবচেয়ে মেধাবী

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৩৮

​আজকের প্রতিযোগিতাপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থায় আমরা ‘মেধা’ শব্দটিকে জিপিএ-৫, গোল্ডেন মেডেল কিংবা পরীক্ষার খাতার নম্বরের ফ্রেমে বন্দি করে ফেলেছি। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কোচিং, প্রাইভেট আর মুখস্থ বিদ্যার যাঁতাকলে পিষ্ট হওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মওলা

লিখেছেন আরমান আরজু, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:১৪

মাহরাম নয়, এমন পুরুষকে কি একজন স্ত্রীলোক নিজের স্তনের দুধ পান করাতে পারবেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:২১

আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সাহলা বিনতে সুহাইল নবী করীম ﷺ-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার নিকট সালেমের আসাটা আবু হুযাইফা ভালো মনে করছেন না। নবী বললেন:... ...বাকিটুকু পড়ুন

লুচ্চামি আর যৌন হতাশা এক বিষয় না।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২


সম্প্রতি জামায়াতের এক লুচ্চা এমপি-র অন্তত দুইজন তরুণী নিয়ে কট খাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তিনি তরুণী নিয়ে হোটেল, কোচিং সেন্টারে রুম ডেট করতেন। নেটিজেনরা তার এই লুচ্চামি এমনভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×