আপনারা ইতিমধ্যেই ইন্টারভ্যু সম্পর্কে অনেক পোষ্ট পড়েছেন। তাও কিছু জিনিস আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।
প্রথমেই আসবে সময়ের ব্যাপারটা। ধরুন আপনি ইন্টারভিউতে সময়মতো হাজির হতে পারলেন না,দেরী করলেন।মনে রাখুন এই ছোট্ট একটি ভূল আপনার সপ্নকে দু:সপ্নে পরিণত করবে।
আপনার চাকরিদাতা মনে করবেন, আপনি চাকরিটাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন না। যে ব্যক্তির ইন্টারভিউর মত গুরুত্বপূর্ণ কাজে লেট হয়, সে চাকরিতে যোগ দেয়ার পরও বিভিন্ন অজুহাতে দেরী করবে।
এক্ষেত্রে দেরী হওয়ার বিষয়টি যদি আপনি আগেই জানিয়ে রাখেন তবে এটি বিবচনা করা হতে পারে।
একজন সুদর্শন ও প্রাণবন্ত যুবককে দেখে কোম্পানির কর্মকর্তারা তাকে নিয়োগ দেয়ার কথা ভাবলেন। ইন্টারভিউ শেষে যুবকটি চলে গেলে রিসিপসনিষ্ট কোম্পানিকর্তাকে একটি ছিরকু্ট দিলেন ,যাতে লেখা ছিল "চাকরিপ্রার্থী যুবকটি অস্হির স্বভাব ,রুঢ়,ও উদ্দ্বত প্রকৃতির
মন্তব্য হচ্ছে, সামান্য বিলম্বে যে ব্যাক্তি রিসিপসনিষ্টের সাথে এমন রুক্ষ ববহার করতে পারে, সে কিভাবে গ্রাহক সামাল দিবে??
সবজান্তা ভাব দেখানোর পরিণাম ক্ষতিকর হতে পারে। যে কোম্পানিতে আপনি ইন্টারভিউ দিতে গেছেন তার নাড়ি-নক্ষত্র সব আপনি জানেন এমন ভাবা ঠিক হবে না।বিনয়ের সাথে প্রশ্ন করে জেনে নিন,আপনার কাজ কি হবে,কোন পদ্দ্বতিতে কাজ করতে হবে।সব জানেন, আপনি ভাবলেও কোম্পানির বহু কিছু আপনার অজানা থাকতে পারে।
ইন্টারভিউতে প্রায়ই জানতে চাওয়া হয়,এর আগে আপনি কোথায় কোন কাজে ছিলেন। বহু চাকরিপ্রার্থী তার নিজের সাফল্যের এমন উজ্জ্বল চিত্র তুলে ধরেন,যাতে মনে হতে পারে তিনি ছিলেন বলেই কোম্পানিটি সচল ছিল।নিজেকে যোগ্যতম দেখানোর এই প্রচেষ্টায় যে বিষয়টি দৃষ্টিকটু হয়ে উঠে তা হলো, কোম্পানির সাফল্যে অন্যের অবদানকে আপনি অস্বীকার করলেন। অথচ কোম্পানি সাফল্য পেয়ে থাকে টিম ওয়ার্কের জোরে,একক কোন ব্যক্তির কৃতিত্বে নয়। এক্ষেত্রে আপনার বক্তব্য অতিকথন হিসেবে অগ্রাহ্য হতে পারে।
চাকরীদাতা জিগগেস করতে পারেন,কত বেতন দিলে আপনি কাজ করবেন।আপনি জবাব দিলেন,এত বা অত না হলে আপনি কাজ করবেন না চাকরিদাতা বললেন আপনি যে বেতন চাইলেন,আমাদের নির্ধারিত বেতন কাঠামোতে অত বেশী অংকের ব্যবস্হা নেই। আপনি উঠে দাড়ালেন এবং বেরিয়ে পড়লেন। ভুল করলেন। বেতনের প্রশ্ন তোলায় আপনার চাকরিদাতা ভাবতে বাধ্য হবেন,আপনি চাকরিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে পূর্ববর্তী চাকরিদাতার সমালোচনা করলেন,চরম ভূল করলেন। নতুন নিয়োগদাতার মনে ধারণা জন্ম মিতে বাধ্য চাকরি ছেড়ে দেয়ার পর আপনি নতুন নিয়োগদাতার সমালোচনায় মুখর হবেন। আপনার চরিত্রের মন্দ একটি দিক কটু ভাবে প্রকাশিত হলো।
ব্যক্তিগত দু:খ-কষ্টের গল্প শুনিয়ে বক্তব্য শেষ করবেন না। ভূলে যাবেন না আপনি এসেছেন চাকরির ইন্টারভিউ দিতে। কাজের কথা বলুন। কাজের প্রকৃতি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হোন। দু:খ-যন্ত্রণার কথা তুলে প্রার্থিত কাজের গুরুত্তকে গৌণ করে দিবেন না। চাকরিদাতা আপনাকে পরখ করে দেখতে চান, কাজের দায়িত্বের প্রশ্নে আপনার আগ্রহের দিকটি।
চাকরিপ্রার্থীকে জিগগেস করা হলো,আপনার স্বভাবের দুর্বল দিকগুলো কি কি?? চাকরিপ্রার্থীর জবাব,আমার জানা নেই। সব কাজ আমি ভালমতো করতে পারি।ইন্টারভিউ গ্রহীতার মন্তব্য "কোন মানুষ পূর্ণাঙ্গ নয়।আমি এই কোম্পানির প্রধান নির্বাহী।নিজের দুবর্লতার একটি তালিকা আমি করে রেখেছি।আপনার সামনে আমি এটা তুলে ধরতে পারি। আপনার স্বভাবের সবচেয়ে মন্দ দিকটি সম্পর্কে আমাকে জানতে দিন।"
নিজেকে সমস্ত দুর্বলতার উর্ধ্বে তুলে ধরতে গিয়ে আপনি নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারলেন।বুঝিয়ে দিলেন ভূল করলে আপনি স্বীকার করবেন না।
ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে চাকরির নিশ্চয়তা পাবার জন্য অস্হির হয়ে উঠবেন না। এতে চাকরিদাতা মনে করতে পারেন,আপনি চাকরিটির উপযুক্ত ব্যক্তি নন।
বিশ্বের বেশ কয়েকটি বিখ্যাত কর্মসংস্হান সংস্হা দীর্ঘদিন জরিপ চালিয়ে এই নির্দেশনা গুলো প্রস্তুত করেছেন।
আপনাদের ইন্টারভিউ সুন্দর হোক।আপনাদের সাফল্য কামনায় শেষ করছি।
উতসর্গ:সকল বেকার ব্লগার ভাইয়া-আপুদের উদ্দেশ্যে
সূত্র: দৈনিক পত্রিকা
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মে, ২০১১ রাত ১১:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



