somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইন্টারভিউ সমাচার-১!!! আসুন ইন্টারভ্যু দিই!!!! =p~ =p~ =p~ :-B :-B

১৭ ই মে, ২০১১ রাত ১০:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আপনারা ইতিমধ্যেই ইন্টারভ্যু সম্পর্কে অনেক পোষ্ট পড়েছেন। তাও কিছু জিনিস আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।

প্রথমেই আসবে সময়ের ব্যাপারটা। ধরুন আপনি ইন্টারভিউতে সময়মতো হাজির হতে পারলেন না,দেরী করলেন।মনে রাখুন এই ছোট্ট একটি ভূল আপনার সপ্নকে দু:সপ্নে পরিণত করবে।
আপনার চাকরিদাতা মনে করবেন, আপনি চাকরিটাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন না। যে ব্যক্তির ইন্টারভিউর মত গুরুত্বপূর্ণ কাজে লেট হয়, সে চাকরিতে যোগ দেয়ার পরও বিভিন্ন অজুহাতে দেরী করবে।
এক্ষেত্রে দেরী হওয়ার বিষয়টি যদি আপনি আগেই জানিয়ে রাখেন তবে এটি বিবচনা করা হতে পারে।


একজন সুদর্শন ও প্রাণবন্ত যুবককে দেখে কোম্পানির কর্মকর্তারা তাকে নিয়োগ দেয়ার কথা ভাবলেন। ইন্টারভিউ শেষে যুবকটি চলে গেলে রিসিপসনিষ্ট কোম্পানিকর্তাকে একটি ছিরকু্ট দিলেন ,যাতে লেখা ছিল "চাকরিপ্রার্থী যুবকটি অস্হির স্বভাব ,রুঢ়,ও উদ্দ্বত প্রকৃতিরX(X(
মন্তব্য হচ্ছে, সামান্য বিলম্বে যে ব্যাক্তি রিসিপসনিষ্টের সাথে এমন রুক্ষ ববহার করতে পারে, সে কিভাবে গ্রাহক সামাল দিবে??

সবজান্তা ভাব দেখানোর পরিণাম ক্ষতিকর হতে পারে। যে কোম্পানিতে আপনি ইন্টারভিউ দিতে গেছেন তার নাড়ি-নক্ষত্র সব আপনি জানেন এমন ভাবা ঠিক হবে না।বিনয়ের সাথে প্রশ্ন করে জেনে নিন,আপনার কাজ কি হবে,কোন পদ্দ্বতিতে কাজ করতে হবে।সব জানেন, আপনি ভাবলেও কোম্পানির বহু কিছু আপনার অজানা থাকতে পারে।

ইন্টারভিউতে প্রায়ই জানতে চাওয়া হয়,এর আগে আপনি কোথায় কোন কাজে ছিলেন। বহু চাকরিপ্রার্থী তার নিজের সাফল্যের এমন উজ্জ্বল চিত্র তুলে ধরেন,যাতে মনে হতে পারে তিনি ছিলেন বলেই কোম্পানিটি সচল ছিল।নিজেকে যোগ্যতম দেখানোর এই প্রচেষ্টায় যে বিষয়টি দৃষ্টিকটু হয়ে উঠে তা হলো, কোম্পানির সাফল্যে অন্যের অবদানকে আপনি অস্বীকার করলেন। অথচ কোম্পানি সাফল্য পেয়ে থাকে টিম ওয়ার্কের জোরে,একক কোন ব্যক্তির কৃতিত্বে নয়। এক্ষেত্রে আপনার বক্তব্য অতিকথন হিসেবে অগ্রাহ্য হতে পারে।

চাকরীদাতা জিগগেস করতে পারেন,কত বেতন দিলে আপনি কাজ করবেন।আপনি জবাব দিলেন,এত বা অত না হলে আপনি কাজ করবেন না চাকরিদাতা বললেন আপনি যে বেতন চাইলেন,আমাদের নির্ধারিত বেতন কাঠামোতে অত বেশী অংকের ব্যবস্হা নেই। আপনি উঠে দাড়ালেন এবং বেরিয়ে পড়লেন। ভুল করলেন। বেতনের প্রশ্ন তোলায় আপনার চাকরিদাতা ভাবতে বাধ্য হবেন,আপনি চাকরিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে পূর্ববর্তী চাকরিদাতার সমালোচনা করলেন,চরম ভূল করলেন। নতুন নিয়োগদাতার মনে ধারণা জন্ম মিতে বাধ্য চাকরি ছেড়ে দেয়ার পর আপনি নতুন নিয়োগদাতার সমালোচনায় মুখর হবেন। আপনার চরিত্রের মন্দ একটি দিক কটু ভাবে প্রকাশিত হলো।

ব্যক্তিগত দু:খ-কষ্টের গল্প শুনিয়ে বক্তব্য শেষ করবেন না। ভূলে যাবেন না আপনি এসেছেন চাকরির ইন্টারভিউ দিতে। কাজের কথা বলুন। কাজের প্রকৃতি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হোন। দু:খ-যন্ত্রণার কথা তুলে প্রার্থিত কাজের গুরুত্তকে গৌণ করে দিবেন না। চাকরিদাতা আপনাকে পরখ করে দেখতে চান, কাজের দায়িত্বের প্রশ্নে আপনার আগ্রহের দিকটি।

চাকরিপ্রার্থীকে জিগগেস করা হলো,আপনার স্বভাবের দুর্বল দিকগুলো কি কি?? চাকরিপ্রার্থীর জবাব,আমার জানা নেই। সব কাজ আমি ভালমতো করতে পারি।ইন্টারভিউ গ্রহীতার মন্তব্য "কোন মানুষ পূর্ণাঙ্গ নয়।আমি এই কোম্পানির প্রধান নির্বাহী।নিজের দুবর্লতার একটি তালিকা আমি করে রেখেছি।আপনার সামনে আমি এটা তুলে ধরতে পারি। আপনার স্বভাবের সবচেয়ে মন্দ দিকটি সম্পর্কে আমাকে জানতে দিন।"
নিজেকে সমস্ত দুর্বলতার উর্ধ্বে তুলে ধরতে গিয়ে আপনি নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারলেন।বুঝিয়ে দিলেন ভূল করলে আপনি স্বীকার করবেন না। X( X(

ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে চাকরির নিশ্চয়তা পাবার জন্য অস্হির হয়ে উঠবেন না। এতে চাকরিদাতা মনে করতে পারেন,আপনি চাকরিটির উপযুক্ত ব্যক্তি নন।

বিশ্বের বেশ কয়েকটি বিখ্যাত কর্মসংস্হান সংস্হা দীর্ঘদিন জরিপ চালিয়ে এই নির্দেশনা গুলো প্রস্তুত করেছেন।

আপনাদের ইন্টারভিউ সুন্দর হোক।আপনাদের সাফল্য কামনায় শেষ করছি। :#) :#)


উতসর্গ:সকল বেকার ব্লগার ভাইয়া-আপুদের উদ্দেশ্যে

সূত্র: দৈনিক পত্রিকা

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মে, ২০১১ রাত ১১:২৬
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডায়োজেনিস সিন্ড্রম

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১২:০১



ডায়োজেনিস সিন্ড্রমে আক্রান্ত মানুষের ঘর

আমার একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের কিছু অদ্ভুত আচরণ দেখে বুঝতে চাচ্ছিলাম যে তার এমন আচরণ কোনো মানসিক সমস্যা কিনা। তার আচরণের বর্ণনা দেই ইন্টারনেটে, আর তখন জানতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-৩০)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১:০৩



সূরাঃ ৩০ রূম, ৩২ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। যারা নিজেদের দীনে মতভেদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে।প্রত্যেক দল নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উৎফুল্ল।

সূরাঃ ৩০ রূম, ২৯ নং... ...বাকিটুকু পড়ুন

হামে শিশুদের মৃত্যুর দায় ডঃ ইউনুস গভার্নমেন্টের

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১:০৪

ইউনিসেফ হামের টিকা কেনার জন্যে গত তত্তবধায়ক সরকার প্রধান ড' ইউনুসকে বারবার অনুরোধ করেছিলো। আমরা এখনো ইউনুস স্যারের উত্তর পাই নাই। কিন্তু, প্রশ্ন হচ্ছে, ইউনিসেফকে প্রধান উপদেষ্টা পর্যন্ত যেতে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫

মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

ভূমিকা:

মানুষ যখন প্রথম আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছিল তখন সেই বিশাল নীলিমা তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুগে যুগে সারদা দেবী

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯



নদীর নাম রুপসা।
জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায়ও রূপসা নদীর কথা বলেছেন। এই নদীতে স্নান করেছেন- রবীন্দ্রনাথের মা এবং স্ত্রী। বর্ষাকালে রুপসা নদী যেন যৌবনে ফিরে যায়। কি তেজ! কি জলের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×