৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধ দেখার ভাগ্য আমার হয়নি। সৌভাগ্য বললাম না, আবার দুর্ভাগ্যও বললাম না। কারণ মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ করতে দেখাটা হত আমার জন্য সৌভাগ্যের। আবার পাকিস্তানি কুকুরের বাচ্চা আর তাদের দোসর রাজাকারদের পৈশাচিক নির্যাতন দেখাটা হত দুর্ভাগ্যের।
দেশ এখন স্বাধীন। ৩০ লাখ মানুষের রক্ত আর আমার হাজার হাজার মা আর বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এসেছে আমাদের স্বাধীনতা। আমরা আর কারো শোসনের উপলক্ষ নই। নই কারো মুষ্টির পুতুল।
আমার এই লেখার কারণ রাজাকার। যুদ্ধাপরাধী। এখন আমরা রাজাকার বলতে বুঝি জামায়াত ইসলামীর কতিপয় নেতাকে। তারা ৭১ এ সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে সমর্থন দেয় পাকিস্তানকে।
তারা এখন চিহ্নিত হয়েছে। বেশিরভাগকেই করা হয়েছে গ্রেফতার। হয়ত বিচারও করা হবে।
কি মজা তাই না? আমাদের দায়িত্ব শেষ। এবার আরাম করে ঘুমাই, না?
জি না ভাই। জাগুন। জামাতী কিছু নেতাকে জেলে পুরেই আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়নি। দেশের কোনে কোনে এখনও নাম না জানা, পরিচয় না জানা হাজার হাজার রাজাকার ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা মুখে বাঙালি বললেও অন্তরে পালে অন্য দেশের প্রতি অঘাধ মমতা।
স্পেসিফাই করে দি? অন্য দুটি দেশ হল পাকিস্তান আর ভারত। দেশে এখনও প্রচুর শুকরের জাতক আছে, যারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটা কথাও সহ্য করতে পারেনা। বেজন্মাগুলো দাঁত কেলিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সামনে বলে – “আমরা এক সময় তো পাকিস্তান ছিলাম”!!!
এরা কি? বাঙালি? দেশপ্রেমিক? চিন্তার বিষয়। কিন্ত আমি যদি বলি রাজাকার??
ডাইভারসিটি নামে একটা বিষয় আছে। বর্তমান যুগে সবকিছুরই হাজারটা ভার্সন দেখা যায়। এই ভার্সন সেই ভার্সন। কিন্ত মূল জিনিস একই।
আজকের এই সব পাবলিক, যাদের আমি রাজাকার বললাম, তারাও হল ৭১ এ কুকুরের জাত রাজাকারগুলোর আধুনিক ভার্সন। এরা দেশটাকে পাকিস্তান বানাতে কিছু করতে না পারলেও পাকিস্তানের প্রতি প্রেমে মশগুল। এদের রাজাকার বলে কি কোন ভুল করলাম?
এবার আসি ভারত প্রসঙ্গে। আমাদের বাঙ্গালিদের একটি সমস্যা হল, আমরা হুজুগে। আমরা মনে করি কেউ পাকিস্তান প্রেম করলে তাকে গালি দেয়া যাবে, কারণ তারা আমাদের অনেক অত্যাচার করেছে। কিন্ত অন্য কোন দেশের প্রেমে পড়লে তা তেমন কটু দৃষ্টিতে দেখা হয়না। এড়িয়ে যাই।
এই এড়িয়ে যাওয়ার ফলেই আধুনিক রাজাকারদের নতুন আরেকটি মডেলের আবির্ভাব ঘটেছে। এরা হল ভারতের মহাব্বতে দেওয়ানা। ভারতকে নিয়ে একটা শব্দ উচ্চারণ করলে তাদের চামড়া ঝলসে যায়। ফেসবুক ও ব্লগে বিচরনের ফলে গত কিছুদিন ধরে একটা বিষয় খেয়াল করলাম। যেখানেই কেউ ইন্ডিয়া ইংল্যান্ড এর কাছে ধবল ধোলাই খেয়েছে – এই টাইপের পোস্ট দিয়েছে, সেখানে কিছু বাঙ্গালির ভারত প্রেম প্রকট হয়ে ধরা পড়েছে। ভালোবাসার টানে তারা উলটো বলতে লাগলো, “বাংলাদেশ তো জিম্বাবুয়ে থেকে খাইসে।”
অবাক হই। ব্রাজিল আর্জেন্টিনা নিয়ে বন্ধুদের সাথে তর্ক করি, তখন এই ধরনের কথা প্রচুর ওঠে। কারণ একদল আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করে, আরেক দল ব্রাজিল।
এবার ঐ কমেন্টটা মিলিয়ে দেখুন তো? মনে হবে তিনি ভারতের সমর্থক আর পোস্টদাতা বাংলাদেশের।
এরা কথায় কথায় বলে ভারত বাংলাদেশের সাথে খেলতে চায়নাই ভালোই করসে। এক মহিলার কমেণ্ট দেখলাম অনেকটা এরকম – “বাংলাদেশ খেলতে পারে নাকি? ভারতের সাথে খেললে দেখায় দিবে ভারত।”
পাকিস্তানপ্রেমীগুলা তো হানাদার বাহিনীর বীর্য থেকে সৃষ্ট। কিন্তু এই নতুন মডেলের রাজাকার গুলো কার বীর্য থেকে এল? দেশের খেয়ে দেশের পরে বেজন্মা Bustard এর মত কি করে তারা ভারতের পক্ষে আর বাংলাদেশকে হেয় করে কথা বলে?
এই দুই শ্রেণীর রাজাকার কিন্তু আমাদের দেশেরই মানুষ। আমাদের আশেপাশেরই মানুষ। আপনার আমার আশেপাশেই একটু চোখ মেললেই দেখতে পারবেন এদের। এদের কাছে আমাদের ৩০ লাখ শহীদ, হাজার হাজার মা বোনের ইজ্জত অথবা কাটাতারে ঝুলন্ত ফেলানী, ফারাক্কা বাধের কারনে নিঃস্ব হওয়া বাঙালি, জৈন্তাপুরের বেদখল হওয়া দেশের মাটির কোন মূল্য নেই। তাদের কাছে “জয় বাংলা” – আমাদের রক্ত গরম করা সেই শ্লোগানটি “পাকিস্তান জিন্দাবাদ” আর “বন্দে মাতরম” এর তুলনায় অতি তুচ্ছ।
যদি অতিমানবীয় ক্ষমতার অধিকারী হতাম, রাজাকারদের এক ভার্সন কে লাত্থি মেরে পাকিস্তান আর অন্য ভার্সনকে ইন্ডিয়া পাঠিয়ে দিতাম।
আফসোস, আমি শুধুই মানব। নরমাল মানব।
মূল রচনাটি লিখেছেন-নাজমুস সাকিব
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০১১ বিকাল ৩:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



