somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আর কত ঘুমাবেন?????

৩০ শে আগস্ট, ২০১১ বিকাল ৩:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের দেশে বর্তমানে কতিপয় সুবিধাবাদির আবির্ভাব ঘটেছে। সোজা বাংলায় আমরা তাদের সুবিধাপার্টি বললেও, তারা নিজেদের গর্বের সাথে “নারীবাদি” রূপে পরিচয় দেন। তাদের মূল বক্তব্য হল, নারীকে যেভাবে খুশি চলতে দাও। কোনরূপ সাবধান করার অধিকার আমাদের কারো নেই।



কেউ যদি বলে নারীকে পণ্য বানানো বন্ধ করুন, তাহলে এই সব মহান “নারীবাদি”রা রব তুলে তাদের গরমা গরম মন্তব্যের তুবড়ি ছোটান। ছোটলোক, গেঁয়ো, গোঁড়া, সেকেলে ইত্যাদি বিশেষণে বক্তাকে বিশেষায়িত করে তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন। কিন্তু যখনই তাদের প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়া হয় – আপনি কি নিজে আপনার মা কিংবা বোনকে ঠিক এইভাবেই চলতে দেবেন? এই প্রশ্ন খুবই চাতুর্যের সাথে তারা এড়িয়ে যান।



আমাদের কতিপয় আধুনিকা নারীরা এইসব মুখোশধারী নারীবাদিদের “সাপোর্ট” পেয়ে আহ্লাদে আটখানা হন। কিন্তু তারা একটাবারও ভেবে দেখেন না, এই সব SO CALLED নারীবাদী দের এই নারীপ্রীতির রহস্য কি।



আমার মতে তারা FREAK. তারা চায় নারীকে নগ্ন দেখতে। কিন্তু তারা সরাসরি বলতে পারেনা। তাই তারা অবলম্বন করছেন অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত পদ্ধতি। “নারীর নগ্নতার পক্ষে কথা বল” । তারা নগ্নতা ও নারীর পণ্যে রূপান্তরকে আধুনিকতার অংশ দাবি করে নারীদের সামনে ব্যপক ভাবয নিয়ে হিরো সাজবার চেষ্টা করে। আর খাটো বুদ্ধির অধিকারী “আধুনিক” নারীরা সেই ফাঁদে হাসিমুখেই পা ফেলেন। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে। নারী আর নারী রইছেন না। হয়ে যাচ্ছেন পণ্য।



আপনি যদি একজন নারী হন, আপনার কাছে আমার একটি প্রশ্ন। আপনার শ্রেষ্ঠ সম্পদ কি?





আপনার সৌন্দর্য? আপনার দেহ? নাকি আপনার জ্ঞান, বুদ্ধি? আপনার উত্তর কি হবে তা আঁচ করতে আমার কি আইনস্টাইন হওয়া লাগবে? মনে হয়না। নিশ্চই আপনার উত্তর হবে আপনার জ্ঞান ও বুদ্ধি।



এবার আপনি একটু নজর দিন মিডিয়ার দিকে। মিডিয়ায় আমরা কি দেখছি? আসুন কিছু অ্যাড দেখি আমরা।



মেরিল স্প্ল্যাশ সোপঃ এক মহিলা মেরিল সাবানের ব্যবহারের পর বলছেন “এর পর অফিস থেকে এসে সে আমার হাতটা ধরল। ধরেই থাকলো, তারপর বলল, থাক বাসাতেই খাই। তখন আমি বুঝলাম, ITS WORKING”



পন্ডস ফেসওয়াশঃ এক মেয়ে ডেটিং এ যাবার আগে ভাবছেন – “আমি যদি আরেকটু ফর্শা হই, তাহলে ওর নজর আমার ওপর পড়বে”



ফেয়ার এন্ড লাভলীঃ
১. চেহারা কালো হবার কারনে একজন মেয়ে মডেল হান্টে রিজেক্ট হয়। কিন্তু ফেয়ার এন্ড লাভলী মেখে আবার এসে সে টিকে যায়।

২. এয়ার হোস্টেস হতে চান এক মেয়ে, কিন্তু চেহারা কালো তাই হবেনা। এরপর তিনি ব্যবহার করেন ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী। হয়ে যান তিনি এয়ার হোস্টেস।



আমি যদি উদাহরন দিতে থাকি, তবে আমার এই নোট একটি ধারাবাহিক উপন্যাসে পরিণত হবে। তাই থামলাম।

এদের সূক্ষ চালটা কি আপনি ধরতে পেরেছেন?



একটা মিনিট পুরুষের প্রতি ATTACKING MOOD না রেখে কথাগুলো ভেবে দেখুন তো, আমাদের মিডিয়া আপনাদের কোন জিনিসটা নিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে? আপনার জ্ঞান? আপনার বুদ্ধি? নাকি আপনার সৌন্দর্য, দেহ?



ইদানীং চলছে মডেল হান্ট। যেখানে মেয়েদের জেতার শুধু এবং একমাত্র উপায় হল দৈহিক সৌন্দর্য। যেখানে জ্ঞান ও বুদ্ধির চর্চা অনুপস্থিত। কি হচ্ছে এইসব মডেল হান্টে? মেয়েদের অর্ধনগ্ন করে তাদের “অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য” [তারা এটাই বলেন] বের করে আনাই নাকি তাদের লক্ষ্য। চমৎকার।



ভীট চ্যানেল আই হান্ট এ দেখলাম এক বিচারক প্রতিযোগীর উদ্দেশ্যে বললেন, “তোমকে আরো খোলামেলা হতে হবে।”



স্তব্ধ হব? তাও তো অনেক কম হয়ে যায়।



এ কে আপনি কি বলবেন? আধুনিকতা? বলুন তো আধুনিকতা বলতে আপনি কি বোঝেন? তার আগে আমাকে এটা বলুন - বেনজীর ভুট্টো, সোনিয়া গান্ধী, পাকিস্তানের প্রথম এবং একমাত্র নারী মন্ত্রী হীনা রাব্বানী খার, এরা কি আধুনিক নন? এদের পোশাকজ্ঞান কেমন? তারা কি তাদের জ্ঞান গরীমা দিয়ে আধুনিক হন নি? তাদের কি শরীর দেখাতে হয়েছে?



শরীর প্রদর্শনের পরিমাণের ওপর যদি আধুনিকতা নির্ভর করে, তবে তো পশু পাখিরা সবচাইতে বেশি আধুনিক।



একটা কটু কথা বলি। যখন কোন নারী বুদ্ধি, জ্ঞান আর পরিশ্রম দ্বারা চলতে পারেনা, তখনই পেটের দায়ে সে তার শরীরের ব্যবহার করে। আজকের নারীদের কি এতই জ্ঞানের অভাব?



আপনি যখন জ্ঞানে, বিজ্ঞানে, শিক্ষায় দীক্ষায়, আচার, আচরনে আধুনিক হবেন, তখনই আপনি আধুনিক। সচরাচর যা দেখা যায়না, তা প্রদর্শন করে আপনি বড়জোর রাস্তাঘাটের রোমিও টাইপের কুকুরদের চোখে ‘আইটেম’ হতে পারেন, আধুনিক কখনোই হতে পারবেন না।



কেউ জেগে জেগে ঘুমালে তাকে কখনো জাগানো যায়না। তাই আপনাদের কাছে আহ্বান, নারীবাদীর মুখোশ পরা “ভোগবাদীদের” মিথ্যে মধুর কথায় ভুলবেন না। নিজের DIGNITY দিয়ে নিজেকে সবার কাছে আকর্ষণীয় করে তুলুন। দেহ দিয়ে নয়।



মনে রাখবেন, নেপোলিয়ান একজন শিক্ষিত মা চেয়েছিলেন, সুন্দরী মা নয়।

মূল রচনাটি লিখেছেন-নাজমুস সাকিব
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডায়োজেনিস সিন্ড্রম

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১২:০১



ডায়োজেনিস সিন্ড্রমে আক্রান্ত মানুষের ঘর

আমার একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের কিছু অদ্ভুত আচরণ দেখে বুঝতে চাচ্ছিলাম যে তার এমন আচরণ কোনো মানসিক সমস্যা কিনা। তার আচরণের বর্ণনা দেই ইন্টারনেটে, আর তখন জানতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-৩০)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১:০৩



সূরাঃ ৩০ রূম, ৩২ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। যারা নিজেদের দীনে মতভেদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে।প্রত্যেক দল নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উৎফুল্ল।

সূরাঃ ৩০ রূম, ২৯ নং... ...বাকিটুকু পড়ুন

হামে শিশুদের মৃত্যুর দায় ডঃ ইউনুস গভার্নমেন্টের

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১:০৪

ইউনিসেফ হামের টিকা কেনার জন্যে গত তত্তবধায়ক সরকার প্রধান ড' ইউনুসকে বারবার অনুরোধ করেছিলো। আমরা এখনো ইউনুস স্যারের উত্তর পাই নাই। কিন্তু, প্রশ্ন হচ্ছে, ইউনিসেফকে প্রধান উপদেষ্টা পর্যন্ত যেতে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫

মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

ভূমিকা:

মানুষ যখন প্রথম আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছিল তখন সেই বিশাল নীলিমা তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুগে যুগে সারদা দেবী

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯



নদীর নাম রুপসা।
জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায়ও রূপসা নদীর কথা বলেছেন। এই নদীতে স্নান করেছেন- রবীন্দ্রনাথের মা এবং স্ত্রী। বর্ষাকালে রুপসা নদী যেন যৌবনে ফিরে যায়। কি তেজ! কি জলের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×