তখনও সবকিছু ভালমত বুঝে উঠতে শিখিনি।এখন বুঝতে পারছি সেটা
১৯৯৭ সালের দিকে। একদিন দেখলাম বড় ভাই বাসায় আসছে,দুপুরের দিকে হবে।সারা শার্ট রং এ ভর্তি। জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে??বলল বাংলাদেশ নাকি আইসিসি ট্রফি চ্যাম্পিয়ন ।
তখনও ক্রিকেট টিম এর কথা জানতাম না।আইসিসি ট্রফি কি তাও বুঝতাম না।আকরাম খান,নান্নু,আমিনু,পাইলট কারও কথায় জানতাম না।দেখলাম বাসায় যারা আছে,সবাই নাচতেছে।
আমিও না বুঝেই তাদের দলে যোগ দিলাম।
আস্তে আস্তে শুরু হল ক্রিকেট প্রেম।সারাদিন খেলার মাঠে পড়ে থাকতাম।
সব প্লেয়ার দের চেনা শুরু হল।লোকাল হিরে হবার কারণে আকরাম আর নান্নু ছিল আমার ফেবারিট।
নান্নুকে যখন রাজনৈতিক কারণে টেষ্ট খেলা থেকে বঞ্চিত করল খুব কষ্ট পেয়েছিলাম।
বাহাতি পেস বোলার ছিলাম,তাই আকরাম খার খুব ফেবারিট ছিল।
এরপর আসল ৯৯-এ বিশ্বকাপ ক্রিকেট।
মজে গেলাম বিশ্বকাপে।এরপর স্কটল্যান্ডের সাথে বিশ্বকাপের ১ম ম্যাচ জয়।চরম স্নায়ুক্ষয়ী সেই ম্যাচে নান্নুর অর্ধশতকে মোটমুটি একটা ভালো স্কোর হয়ে গেলেও হ্যামিলটন যখন প্রায় ম্যাচটা বের করে নিয়ে যাচ্ছিল সেই নান্নু আবার উদ্ধারকর্তা।
অবশেষে বিশ্বকাপের ১ম জয়।।।।
এরপরে ত ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় অঘটনটাই ঘটিয়ে দিলাম পাকিস্তানকে হারিয়ে।
সেই দিনের আনন্দ কি আর অন্য কোন ম্যাচে পাওয়া যাবে???
এরপর ২০০৩ বিশ্বকাপ।
মিনোজের তকমা ঝেড়ে ফেলে ক্রিকেট বিশ্বে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন নিয়ে গেলেও হোচট খেয়ে যায় ১ম ম্যাচে কানাডার কাছে।
এই দু:সহ স্মৃতিটা এখনও তাড়িয়ে বেড়ায়।খুব কষ্ট পেয়েছিলাম,রাগ ও হয়েছিল প্রিয় দলের এমন হারে।
শেষ পর্যন্ত কেনিয়ার কাছে হেরে সব সন্মান খুইয়ে দেশে ফেরত এসেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।।
এরপর হোয়াটমোরের হাত ধরে শুধুই সামনে এগিয়ে যাওয়ার ইতিহাস।জয়ের অভ্যাস গড়ে উঠতে লাগল।
আসল ১ম টেষ্ট জয়।একে একে ভারত,অষ্ট্রেলিয়া,শ্রীলংকা পরাশক্তি বধ শুরু হল।কার্ডিফের সেই অবিশ্বাস্যরাত,আশরাফুলের সেঞ্চুরি সব এখনও চোখের সামনে ভেসে উঠে।
পেয়ে গেলাম সাকিব-তামিমদের মত বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন বিজ্ঞাপন।এরপর থেকে মুধুই সামনে চলা।
এরপর ২০০৭ বিশ্বকাপ।
তামিমের বিশাল বাউন্ডারি গুলো ১ম ম্যাচেই ভারতকে ছিটকে দিল টুর্ণামেন্ট থেকে।উঠে এলাম সুপার সিক্সে।
এবার ধরিয়ে দিলাম দক্ষিণ আফ্রিকাকে।
তবে আয়ারল্যান্ডের কাছে পরাজয়ের পর খুব খারাপ লেগেছিল।
এরপর এল সিডন্স যুগ।
আস্তে আস্তে জেতাটা আমাদের অভ্যাস হয়ে গেল।সাফল্য আসতে থাকল একের পর এক।কি ব্যাক্তিগত অর্জন,কি দলগত অর্জন-সবদিক দিয়ে আগের সবকিছুই ছাড়িয়ে গেলাম।
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ওদের মাটিতে হোয়াটওয়াস,নিউজল্যান্ডকে বাংলাওয়াস।।
সাকিবের বিম্বের এক নম্বর অল রাউন্ডার হওয়া,তামিমের উইজডেন বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটার হওয়া,লর্ডসের মাঠে সেঞ্চুরি।।
সিডন্স একটা জিনিস খারাপ লাগত,সে ক্রিকেটারদের ভূলগুলে মিডিয়ায় বলে বেড়াত।আমার মনে হয় এটা বিসিবির দুর্বল অব্যবস্হাপনার ফল।
এরপর এখন স্টুয়ার্ট ল।।
সে কথাবলে কম-কাজ করে বেশি।তার এই দিকটা আমার পছন্দ।
বাংলাদেশ দলের বর্তমান পারফরম্যান্সে য়ে তার অবদান আছে সেটা আমরা হয়ত ভুলে যাচ্ছি।
একটা সময় ছিল যখন প্রতিটা ম্যাচ মানেই ছিল হার।তারপরও প্রিয় দলের খেলা দেখার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা টিভির সামনে বসে থাকতাম।একট্ বলে মিস করতাম না।দরকার হলে ক্লাস ফাকি দিতাম।কত বকা খেয়েছি।
এখন প্রায় নিয়মিতই জিতছি।কিন্তু প্রিয় দলের খেলা পুরোটা দেখার সুযোগ হয় না।তারপরও মন পড়ে থাকে খেলার মাঠে প্রিয় দলের সাথে।
কিন্তু আমরা যারা সাপোর্টার তাদের একটা জিনিস খুব খারাপ লাগে।এজন্য অবশ্য মিডিয়াও দায়ী।
দল যখন জিতে তখন আমরা গলা ফাটিয়ে চিল্লায়।কিন্তু যখন খরাপ সময় আসে তখন গালি দিতেও দ্বিধা করি না।
একটা জিনিস আমাদের মনে রাখা উচিত,জাতীয়ভাবে আমাদের বলতে গেলে কিছুই নেই।আছে শুধু এই প্রিয় ক্রিকেট টিম।এটি ১৬ কোটি মানুষকে হাসায়,কাদায়।বিশ্বের বুকে আমাদের মাথা উচু করে দাড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছে এই দল ।আমরা যেন এটিকে লোটা কামালদের মত লোভী মানূষদের হাতের পুতুল হতে না দেয়।
তাই অবিরত সমর্থন দিয়ে যায় প্রিয় টিমকে……..
খেলবে তোমরা এগার জন,সাথে আমরা ১৬ কোটি
জ্বলে উঠি এক সাথে
আলোচিত ব্লগ
ডায়োজেনিস সিন্ড্রম

ডায়োজেনিস সিন্ড্রমে আক্রান্ত মানুষের ঘর
আমার একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের কিছু অদ্ভুত আচরণ দেখে বুঝতে চাচ্ছিলাম যে তার এমন আচরণ কোনো মানসিক সমস্যা কিনা। তার আচরণের বর্ণনা দেই ইন্টারনেটে, আর তখন জানতে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-৩০)

সূরাঃ ৩০ রূম, ৩২ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। যারা নিজেদের দীনে মতভেদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে।প্রত্যেক দল নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উৎফুল্ল।
সূরাঃ ৩০ রূম, ২৯ নং... ...বাকিটুকু পড়ুন
হামে শিশুদের মৃত্যুর দায় ডঃ ইউনুস গভার্নমেন্টের
ইউনিসেফ হামের টিকা কেনার জন্যে গত তত্তবধায়ক সরকার প্রধান ড' ইউনুসকে বারবার অনুরোধ করেছিলো। আমরা এখনো ইউনুস স্যারের উত্তর পাই নাই। কিন্তু, প্রশ্ন হচ্ছে, ইউনিসেফকে প্রধান উপদেষ্টা পর্যন্ত যেতে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন
মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা
মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

ভূমিকা:
মানুষ যখন প্রথম আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছিল তখন সেই বিশাল নীলিমা তার... ...বাকিটুকু পড়ুন
যুগে যুগে সারদা দেবী

নদীর নাম রুপসা।
জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায়ও রূপসা নদীর কথা বলেছেন। এই নদীতে স্নান করেছেন- রবীন্দ্রনাথের মা এবং স্ত্রী। বর্ষাকালে রুপসা নদী যেন যৌবনে ফিরে যায়। কি তেজ! কি জলের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।