১.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের খন্দকার নুরু মিয়া ছিলেন জেলা শান্তি কমিটির সদস্য।War Crime Facts Finding Committee প্রথম নুরু মিয়ার নাম সামনে নাম নিয়ে আসে । ১৯৯২ সালের আগে করা লিস্ট গুলো দেখতে পারেন । ২০০৮ সালে করা লিস্টে কেন তার নাম বাদ দেয়া হল এ নিয়ে কমিটির একজনকে প্রচণ্ড চার্জ করা হয়েছিল । কিন্তু এটিএন নিউজের এক সাংবাদিক নির্লজ্জের মত তাকে বাঁচিয়ে নেন এই বলে যে মৃত মানুষ বলে বাদ দেয়া হয়েছে । নতুন লিস্টে নাম পাবেন না।
নুরু মিয়াকে রাজাকার বলায় এবং মন্ত্রীর ভাইয়ের বাসাকে ‘হাওয়া ভবনের’ সঙ্গে তুলনা করায় কোপ খেতে হয় জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, মুক্তিযুদ্ধের সাব-সেক্টর কমান্ডার ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি নুর মোহাম্মদকে। একই কারণে কুপিয়ে আহত করা হয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শওকত হোসেন জাহিদকে। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিয়ে হামলায় আহত হন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মুনিরুজ্জামান। এসব ঘটনায় কারও শাস্তি হয়নি। এদের সাথেও যোগাযোগ করতে পারেন মুখ বন্ধ না করে ফেললে তথ্য পেতে পারেন ।(তথ্যসূত্র: Click This Link)
আর আমাদের গোল্ডফিস মেমোরিতে আমার বিশ্বাস আছে । যেমন এটিএন বাংলা কসাই কাদের মোল্লার অপরাধ খুঁজতে গিয়ে আমাদের ঢাকা মিরপুর আসনের আসলামুল হকের পিতার নাম এসেছিল।কিন্তু মুফতে তার নাম গাপ করে ফেলা হয়েছে । এখন কেরানীগঞ্জে গেলে কিছু জানতে পারবেন কিনা জানি না । কিন্তু এটিএন বাংলায় এর তথ্য প্রমাণ সংবলিত ভিডিও গাপ না করে দিলে পেতে পারেন ।
মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ সম্পর্কে ২টা লিংক:
Click This Link
Click This Link
(১ম আলো ,আমার দেশ ২টাই থাকল)
২.
মহিউদ্দিন খান আলমগীর ১৯৭১ সালে ছিলেন পাকিস্থান সরকারের অতিরিক্ত ডিসি ।
আর বিএনপির জ্যেষ্ঠ সাংসদ এমকে আনোয়ারের পদবী তো ছিল এদের থেকে আরও একধাপ উপরে।তাহলে এমকে আনোয়ার এদের থেকেও বড় রাজকার ছিলেন।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ সাংসদ এমকে আনোয়ার মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় পাকিস্থানীদের পক্ষে ঢাকা জেলার ডিসি হিসেবে কাজ করেছেন ।এমন কি তার পাকিস্থান প্রীতি ও কওমের সেবাতে মুগ্ধ হয়ে পাকিস্থান সরকার তাকে তঘমায়ে পাকিস্তানের উপাধিতে ভূষিত করে।।আমাদের বিমানমন্ত্রি ফারুক খান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাথে ছিলেন । প্রাণের মালিক ছিলেন।
তবে এরা ১৯৭১ সালে হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষন, ধর্মান্তরিতকরনের এসব অভিযোগে অভিযুক্ত নয়।যারা মুক্তিযুদ্ধে না গিয়ে ৭১ এর সরকারী ক্যাডার পরীক্ষা দিয়ে ক্যাডার হয়েছিল । তারা আর যাই হোক দেশপ্রেমিক না ।আর এত গণহত্যা সত্ত্বেও যারা পাকি প্রেম ত্যাগ করতে পারেনি । স্বাধীন বাংলার সরকারে যোগ দিতে পারেনি বলতে হয় তাদের কোথাও একটা সমস্যা ছিল আর তা ছিল তাদের দেশপ্রেমে ।
::::: শাহবাগ ঘোষণা :::::
আমাদের স্পষ্ট দাবী -
১। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মিরপুরের জল্লাদ খ্যাত কশাই কাদেরের ফাঁসির লক্ষ্যে সরকারকে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নিতে হবে।
২। যে আইনের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠিত প্রয়োজনে সেই আইনকে ন্যুনতম সময়ের মধ্যে সংশোধন করে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তার জন্য এই মুহুর্তেই সংশোধনী এনে কাদের মোল্লার রায় পুনপর্যালোচনা করতে হবে। এই বিচারকার্যের সাথে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষিত, বিশেষজ্ঞ আইনজ্ঞ এবং শহীদ পরিবারদের অঙশগ্রহণে উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করতে হবে।
৩। ট্রাইবুনালকে একটি স্থায়ী রুপ দিতে হবে এবং সারাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ এবং বিচারের আওতায় আনতে হবে। একাত্তরে বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের সকল ঘটনা নথিবদ্ধকরণের লক্ষ্যে সত্যানুসন্ধান কমিটি হঠন করতে হবে।
৪। অবিলম্বে সংবিধান সংশোধন করে অনুচ্ছেদ ৪৯ এ একটি নতুন উপধারা যুক্ত করতে হবে, যেন যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে দন্ডিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা ঘোষনার ক্ষমতা বাতিল করতে হবে।
৫। মুক্তিযুদ্ধে বিরোধীতাকারী দল এবং ব্যক্তিদের বাংলাদেশে রাজনৈতিক অধিকার নিষিদ্ধ করতে হবে।
৬। জামাত নিয়ন্ত্রিত সকল আর্থিক এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অর্থায়নের অভিযোগ তদন্তের জন্যে সেই প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারী প্রশাসক নিয়োগ দিতে হবে। এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয়করণ করতে হবে।
৭। যুদ্ধাপরাধের বিচারে পাকিস্তানকে অর্ন্তভুক্ত করার জন্যে আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে ট্রাইবুনালের অধীনে আনতে হবে।
এখানে ৫নম্বর পয়েন্টে বলা হয়েছে "মুক্তিযুদ্ধে বিরোধীতাকারী দল এবং ব্যক্তিদের বাংলাদেশে রাজনৈতিক অধিকার নিষিদ্ধ করতে হবে ''।
তাহলে ৭১ এ যখন আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা রক্ত ঝরাচ্ছিল দেশ মাতৃকার জন্য ,যখন আমাদের মা বোনরা ধর্ষিত হচ্ছিল তখন যারা পাকিদের পা চাটতে সরকারী চাকুরীতে ছিল তাদেরকে কি
আর৭১ সরকারী চাকরী করলেই কি সবাই যুদ্ধাপরাধী হবে??
পেটের দায়ে ও পরিবার পরিজনের জন্য অনেককেই তো চাকরি করতে হয়েছে, তারা সবাই যুদ্ধাপরাধী??
বলে ছেড়ে দিলেই কি দায় মিটে যায়?? তার মানে যারা হাতে ধরে মারছে তাদের বিচার হবে ,কিন্তু যাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে হত্যাকান্ড, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ হয়েছে তাদের মাফ করে দিয়ে ঘরে ফিরে যাবে । মজার বিষয় হল জিয়া মুক্তিযোদ্ধা হয়েও তিনি পাকিস্তানের গুপ্তচর ছিলেন । আর এনারা বাংলাদেশের গুপ্তচর হিসাবে পাকিস্তান আর্মিতে রয়ে গিয়েছিলেন
শাহবাগের তারুণ্যের জোয়ারের যখন স্লোগানে স্লোগানে যখন মুখর করা হচ্ছে
ক তে কাদের মোল্লা, তুই রাজাকার তুই রাজাকার
ক তে কামরুঞ্জামান, তুই রাজাকার তুই রাজাকার
খ-তে খালেক -- তুই রাজাকার, তুই রাজাকার!
স কে সা কা চৌধুরী, তুই রাজাকার তুই রাজাকার
স-তে সাইদি চোরা -- তুই রাজাকার, তুই রাজাকার
ম তে মুজাহীদ, তুই রাজাকার তুই রাজাকার
ম-তে মির কাশেম -- তুই রাজাকার, তুই রাজাকার!
ন তে নিজামী, তুই রাজাকার তুই রাজাকার
গ তে গু আজম, তুই রাজাকার তুই রাজাকার
ব তে বাচ্চু , তুই রাজাকার তুই রাজাকার
ই তে ইসলামী ব্যাংক, তুই রাজাকার তুই রাজাকার
ই তে ইবনে সিনা, তুই রাজকার তুই রাজাকার
দ তে দিগন্ত টিভি, তুই রাজকার তুই রাজাকার ...
রে তে রেটিনা, তুই রাজকার তুই রাজাকার ....
ফ-তে ফোকাস, তুই রাজকার তুই রাজাকার ....
শ-তে শিবির -- তুই রাজাকার, তুই রাজাকার!
কিন্তু একবারও শুনলাম না
ম তে ম খা আলমগীর...
তুই রাজাকার তুই রাজাকার...
ফ তে ফারুখ
তুই রাজাকার তুই রাজাকার... দেশে কাদের মোল্লা,কামরুঞ্জামান, ,খালেক ,সা কা চৌধুরী, সাইদি মুজাহীদ, মির কাশেম ,নিজামী,বাচ্চু ছাড়া দেশে আর কোন রাজাকার নাই।এদের বিরুদ্ধে ১০০ স্লোগান হলে অন্যগুলার বিরদ্ধে ১০টাও হয় না ক্যান??
তাহলে আমরা কি বুঝব-এই আন্দোলনের লক্ষ্য-
*রাজাকারদের বিচার(যারা পাকিস্হানের পক্ষে ছিল।চাকরীতে থাকাও মৌন সমর্থন)
*যুদ্ধাপরাধীদের বিচার(যারা খুন,ধর্ষণ,লুটতরাজ,পাক বাহিনীকে সহায়তা করেছিল)
*রাজনৈতিকভাবে জামাত-শিবির ও সবোর্পরি ইসলামকে আঘাত করা।
(প্রমাণ:
*দেখে আসতে পারেন ব্লগার ব্লগার দূর্যোধন দূর্যোধন এর স্ট্যাটাস:http://www.facebook.com/duurzodhon?fref=ts)
*গতকাল আমরা যশোরবাসির ব্যানারে শপথ পরানো হল- আমরা শপথ করছি যে , আমাদের সন্তান কে মাদরাসায় পরতে পাঠাবোনা !!!! কত বড় সাহস !!! কত বড় স্পর্ধা !!!! তর পোলারে তুই মাদরাসায় পরাবি না শয়তানিখানায় পরাবি সেটা তোর ব্যাপার- ৯০% মুস্লিমের দেশে তুই প্রকাশ্যে এভাবে শপথ করাশ !!!! এইগুলুতেই আমার আপত্তি। এরা মানুষের মনে ইসলাম বিদ্বেষ ঢুকিয়ে দিচ্ছে।।
এজন্য আমি মোস্তফা সরওয়ার ফারুকীর কথাটাই বলতে চায়--
"আমি শাহবাগ স্কয়ারের ঘোষনার দিকে তাকিয়ে আছি।
এটা কি নতুন রাজনীতির সম্ভাবনার পথ খুলতে পারে? যে সব
সোনার ছেলেরা এই স্বপ্ন-জাগানি আন্দলোনের
পেছনে আছে তারা কি যুদ্ধাপরাধীর বিচারের চেয়েও বেশি কিছুর
স্বপ্ন দেখবে? যুদ্ধাপরাধীর বিচার হতেই হবে। কিন্তু সোনার
বাংলা গড়তে যে আরো অনেক কাজ বাকি থেকে যায়। সে সব-ও
এই সোনার ছেলেরা না করলে কে করবে? আমাদের এই
পচা রাজনৈতিক ব্যবস্থা বদলাতে হবে, আমাদের
অর্থনীতি দেশীয় উদ্যোগ-বান্ধব হতে হবে, আমাদের
প্রাকৃতিক সম্পদ আমাদের দেশের কাহে লাগাতে হবে,আমাদের
সংস্কৃতির আকাশ মেঘ মুক্ত রাখতে হবে, প্রতি বছর পাস
করে বের হওয়া হাজার হাজার ছেলের জন্য কাজের সুজোগ
তৈরি করতে হবে, আমাদের সামনে কত কাজ। এই সব কাজ
কে করে দেবে? আমি তো এই তরুনদের ছাড়া আর
কাউকে দেখি না। সোনার বাংলাদেশ গড়ার একটা নতুন
ইশতেহার কি আসতে পারে এই শাহবাগ থেকে? আমি কি এক
সাথে অনেক কিছু চাইছি? লাখো তরুনের সম্মিলিত শক্তির
এই বিস্তর সম্ভাবনা দেখলে আমি তো একটু বেশী চাইবই।
আর এখনি যদি না চাই তবে কবে চাইবো, কবে আবার এই
জমায়েত হবে?"
এজন্য শাহবাগের তারুণ্যের যে মিলনমেলা আমাদের মনে রাখতে হবে আমাদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে যাতে কেউ গুলি করতে না পারে।আমরা কারো রাজনৈতিক খেলার দাবার গুটি হব না। রাজাকার,যুদ্ধাপরাধীদের কোন দল নেই।আমাদের একটাই দাবি রাজাকার,যুদ্ধাপরাধী যেই দলের হোক, বাংলার মাটিতে তাদের ঠাই নেই,বিচার তাদের হবেই।
তথ্যসূত্র:
*এই লিংক থেকে নেওয়া: Click This Link
*শাহবাগ ঘোষণা :http://www.facebook.com/valobashaunlimited/posts/556489414371031

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



